রমযান মাসে দিনের বেলায় ইদানিংকালের মুভি
দেখা রিস্কী। রোযার ওজন কমে যেতে পারে। মুভিগুলোয় যেসব আইটেম দেখায়, মানে আইটেম
গানে আইটেম বম্বদের নর্তন-কুঁদন। কখনো শিলার জওয়ানি, কখনো মু্ন্নির বদনাম হওয়ার
কেচ্ছা, কখনো বা চিকনী চামেলীর ড্যান্স। এসব দেখে ঠিক থাকা দায়। ইদানিং নতুন ধারা
শুরু হলো বলে, এতদিন যাদের চিনতাম পর্ণস্টার নামে তারা এখন বলিউডস্টার। যাদের
ভিডিওর জায়গা হয় হার্ডডিস্কের চিপায় কোন ফোল্ডারে (অপ্রাপ্ত বয়স্কদের হিডেন
ফোল্ডার) তাদের মুভি এখন বড় পর্দায়। আগ্রহ জাগা স্বাভাবিক। আমারো জেগেছে। তাই তো
রিলিজ হওয়ার কয়েকদিনের মাথায় ডাউনলোড করে নিলাম বিখ্যাত ভারতীয় বংশদ্ভূত অ্যাডাল্ট
ফিল্ম স্টার সানী লিওনের প্রথম সকল দর্শকের (!) জন্য উপযোগী ছবি “জিসম ২”; নামিয়ে
দেখতেও বসে গেলাম। সানী লিওনে বলে কথা, যাকে দেখে এসেছি বার্থডে স্যুটে তাকে এখন
দেখব ক্যাজুয়াল পোষাকে। ভাবতেই কেমন লাগছে। তাছাড়া জিসম নামের মধ্যে কাম-কাম ভাব।
নামেও জিসম কামেও জিসম সানী। উঁহু, শুধু সানী বললে আবার ওমর সানী ভেবে বসবেন না
যেন। ক্রিকেটপ্রেমীরা তাকে ইলিয়াস সানী মনে করলে লেখক নির্দোষ। সাধারন আম-জনতার
কাছে সানী লিওনে অপরিচিত হবার সম্ভাবনা বেশি। অবশ্য বদলে দেবার অঙ্গিকারাবদ্ধ কিছু
মিডিয়ার কল্যানে মিস সানী কিঞ্চিৎ হলেও পরিচিতা বটে। সে যাই হোক, মুভির
ট্রেলারগুলো দেখেও আন্দাজ করা যায় মুভিতে মিস সানীর উষ্ণতা। বকর বকর বেশী হয়ে যাচ্ছে,
আসল কাজ শুরু করি। রিভিউ অব জিসম-টু।
জিসম টু – সানী লিওনে
ছবির শুরুতেই সাগর পাড়ে সানী লিওনের
নগ্নপিঠের দৃশ্য ভেসে ওঠে। ব্যাকগ্রাউন্ডে শোনা যায় তার আত্মকথন।
তার নাম ইজনা, সে একজন পর্ণস্টার। (ভাবার বিষয় জিসম টু’র গল্প কি আগেই তৈরী করা নাকি সানীকে চুক্তিবদ্ধ করার পরে প্লট বানানো হয়েছে। নাহয় এভাবে সরাসরি পর্ণস্টার শব্দটা ভারতীয় দর্শকের সাথে ঠিক যায় না।) ইজনা তার কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত।
তার নাম ইজনা, সে একজন পর্ণস্টার। (ভাবার বিষয় জিসম টু’র গল্প কি আগেই তৈরী করা নাকি সানীকে চুক্তিবদ্ধ করার পরে প্লট বানানো হয়েছে। নাহয় এভাবে সরাসরি পর্ণস্টার শব্দটা ভারতীয় দর্শকের সাথে ঠিক যায় না।) ইজনা তার কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত।
তার সাথে কোন
এক নাইটক্লাবে ছয় মাস পূর্বে এক সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টের সাথে পরিচয় হয়, যে তাকে
ভোগ করে এবং পরদিন নতুন মিশনের অফার দেয়। (একরাতেই এতদূর!) সানীকে নিয়ে সেই এজেন্ট
উড়ে যায় শ্রীলঙ্কা, যেখানে সানীকে দায়িত্ব দেয়া হয়। তার দায়িত্ব পেশাদার খুনি কবির
উইলসনকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে আইনের হাতে তুলে দেয়া। কবির ছিল ইজনার প্রাক্তন
প্রেমিক। ইজনাকে ছয় বছরের পুরনো প্রেম জোড়া দিয়ে কবিরকে ধোঁকা দিতে হবে। হাতিয়ে
নিতে হবে তার ডাটা। ইজনা শুরুতে রাজি না হলেও একরাতের নাগর আয়ান তাকে বুঝিয়ে রাজি
করায়।
পরের কিছু ঘটনা স্রেফ যৌন সুড়সুড়ি দেয়া
ছাড়া তেমন কিছু নয়। কয়েকটা গানের দৃশ্যে সানী লিওনের সঙ্গে কবিররূপী রনদীপ হুদার
অন্তরঙ্গতা সদ্য গোঁফ ওঠা কিশোরের হৃদয়ে তরঙ্গ সৃষ্টিতে সক্ষম হলেও আমার কাছে তেমন
ভাল লাগেনি। মনে হয়েছে বাড়াবাড়ি। একদিকে কবিরের সাথে প্রেমের নাটক, অন্যদিকে
আয়ানের ইজনার প্রতি দূর্বলতা চিরায়ত বাংলা ছবি থুক্কু হিন্দী ছবির ত্রিভুজ প্রেমের
গল্পকে মনে করিয়ে দেয়। ভালবাসার টানা-পোড়েনের মাঝে জ্বলতে থাকা ইজনা একসময় খুন করে
বসে কবিরকে। কবির মৃত্যুর পূর্বে তাকে সতর্ক করে দেয় তথাকথিত সিক্রেট সার্ভিসের
সম্বন্ধে। ইজনা হয়তো তাকে বুঝতে পারেনি, কিংবা বিশ্বাস করেনি। কিন্তু শেষ অঙ্কে
কবিরের কথা ফলে যায়। আয়ানকে নির্দেশ দেয়া হয় ডাটাগুলো নিয়ে ইজনাকে হত্যার। আয়ান
তার বসকে এমন কাজ করতে অস্বীকৃতি জানায়। তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে আয়ানের হাতে খুন
হয় তার বস। আয়ান সব খুলে বলে ইজনাকে। ইজনা ভুল বুঝতে পারে। সে চলে যেতে উদ্যত হয়।
আয়ান তাকে বাধা দেয়, ইজনাকে গুলিও করে বসে আয়ান।
সবুজ ঘাসের উপর লুটিয়ে পড়ে ইজনা, আয়ান এগিয়ে এলে তার বুকে কয়েকটি বুলেটের স্পর্শে শার্ট রাঙিয়ে দেয় ইজনা। শেষ হয় একজন পর্ণস্টারের গল্প।
ছবির গল্পে তেমন নতুনত্ব নেই, কিন্তু
নতুনত্ব ছবির শিল্পী নির্বাচনে। আর রগরগে গানের চিত্রায়নে। সানীকে প্রায়ই দেখা যায়
সংক্ষিপ্ত পোষাক পরে আছে। যে মেয়ে উদোম থাকতে পছন্দ করে সে যে কম পোষাক পরবে এতে
বৈচিত্র নেই। দিনো মারিয়ার খরচও কমেছে এতে। প্রথম জিসমের নায়িকা বিপাশা বসুর
এককালের প্রেমিক দিনো মোরিয়া প্রযোজক হিসেবে চমক দেখিয়েছে সানীকে নিয়ে।
পর্ণস্টারকে নায়িকা বানিয়ে মুভি করার মত মানসিকতা সব প্রযোজকের থাকার কথা নয়। দিনো
এদিক দিয়ে একটা ট্রেন্ড হয়তো শুরু করে দিল। ভবিষ্যতে ভারতীয় সিনেমায় প্রিয়া অঞ্জলী
রাই, সাশা গ্রের পদার্পনও ঘটে যেতে পারে। সে পরের কথা, আপাতত জিসম ২ নিয়ে কথা বলি।
সানী লিওনের ঠোঁটে হিন্দী মানায়নি। কারণ
সে নিজে হিন্দী পারে না। অন্য একজনের কণ্ঠে লিপসিং করেছে শুধু। প্রথম ছবি হিসেবে
সানীর ভুলগুলো ক্ষমা করা যায়। আর রনদীপ হুদা ছিল সাবলিল। আয়ানের চরিত্র করা
অরুণোদয় সিংকে অভিনয় সময় দিতে হবে, সে বোধহয় শরীর বানানোয় মনোনিবেশ বেশি করেছিল।
বাকী চরিত্রগুলো গল্পের প্রয়োজনে এসেছে, সেগুলো অবলোকন না করলেও চলে। ছবিটিকে
দুইভাবে দেখা যায়। এক, সানী লিওনের জন্য। দুই, জিসমের সিকুয়েলের জন্য। প্রথম
ক্ষেত্রে সানীর শারীরিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হবেন অনেকেই। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে আপনাকে
হতাশ হতে হবে। প্রথম জিসমে বঙ্গ ললনা বিপাশা বসু শ্যামবর্ণ নিয়েও যে জিসম
দেখিয়েছিল সানী তা পারেনি। হয়তো পয়লা ছবি বলে, কিংবা বিপাশা বসুর আবেদন দর্শকের
কাছে বেশী বলে। প্রথম জিসমের গানগুলো ছিল সুপার হিট, এই জিসমের গান হিট না হলেও
গানের মিউজিক ভিডিওগুলো অনেকের জন্য ঠান্ডায় গরম হবার প্রভাবক।
সবশেষে বলতে পারি জিসম-২ যতোটা আলোচিত ছিল
সানী লিওনের অন্তর্ভূক্তিতে, ততোটাই সমালোচিত হবে দূর্বল চিত্রনাট্যের জন্য।
খাপছাড়া গল্প, অপ্রয়োজনীয় সুড়সুড়ি মার্কা দৃশ্য, আনকোরা সহ-নায়ক আর নায়িকা ছবিটাকে
ফ্লপের খাতায় নিয়ে গেছে এরই মধ্যে। আবার পূজা ভাট (ছবির পরিচালক) জিসম-৩’র ঘোষণা
দিয়ে বসেছেন। সেখানে আসছে নাটালিয়া কাউর। সে হচ্ছে গিয়ে আইটেম গার্ল, নায়িকারূপে
আনতে যাচ্ছে ভাট পরিবার। এখন দেখার বিষয় হবে তা কেমন হয়। ওসব নাহয় পরে ভাবা যাবে,
আপাতত সানীর বলিউড ভবিষ্যত নিয়ে মন্তব্য করা যায়। টিকে থাকতে হলে এই রমণীকে হিন্দী
আয়ত্ত্ব করতে হবে, যতোই সে শরীরে ভাঁজ, ভাঁজে থাকা যৌবন দেখাক না কেন। আর যদি
সুস্থ বিনোদন চান, তাহলে জিসম টু দেখার চিন্তা বাদ দিন। মনের কোণে যদি বদ খেয়াল
চাপে তাহলে দেখে নিতে পারেন সানী লিওনের জিসম (২)। এসব কিছুই না হলে রিভিউ দেখেই
কেটে পড়ুন, সানী লিওনের অন্য ভিডিও দেখে এরচেয়েও মজা পাবেন।
পরিশেষে সানী লিওনের একটা ভিডিও দিলাম।
আবার কথা হবে, ব্লগে কিংবা ফোরামে। তদ্দিন ভাল থাকবেন।