Ads 468x60px

ইন্টারনেট লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ইন্টারনেট লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০১৫

লিঙ্ক৩ বাদ দেয়ার নেপথ্যে

অনেকদিন, প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর ব্যবহার করার পর লিঙ্ক৩ বাদ দিলাম। কেন বাদ দিলাম কারনগুলো শেয়ার করা জরুরী মনে হচ্ছে, তাই এই লেখার অবতারনা।

১। প্রথম কারন বকেয়া বিল। আগে বাসায় লোক এসে বিল নিতো, পরে নিজেদের গিয়ে দিয়ে আসতে বলা হলো। একসাথে কয়েক মাসের বিলও দিয়েছি। চার মাস একসাথে। কখনো মিস হয়নি,তবে দেরি হয়েছে ঠিক। যখনি ওরা ফোন দিত বিলটা দিয়ে দিন আমি যেভাবেই হোক দেয়ার ব্যবস্থা করে দিতাম। তবে গত কয়েক মাসে দুই বার আমাকে না বলে হুট করে লাইন কেটে দিয়েছে। পুরনো গ্রাহক বলে একটিবার জানানোর সৌজন্যতাও দেখায়নি তারা। ফেব্রুয়ারী মাসেও তাই হলো। আমি বললাম বিল দিয়েছি, কিন্তু দুর্ভাগ্যবসত তাদের ফেব্রুয়ারীর বিলের কপি আমার হাতে আসেনি। তাই পরিচিত একজনের সাথে আলাপ করে লাইন একটিভ করালাম।

২। কাস্টমার কেয়ারের উদাসীনতা দ্বিতীয় কারন। যেদিন ফেব্রুয়ারীর বিল দেব, মানে রবিবার, ১ মার্চ সেদিনের আগেই শনিবার দুপুর থেকে লাইন বিচ্ছিন্ন। ফ‌োন দিলাম কাস্টমার কেয়ারে। ইদানিং যেটা হয়েছে লাইন বিজি থাকে। এদিকে আমার ব্যালেন্স কমতে থাকে, কেউ ফোন ধরেনা। তারপরেও ফোন ধরলে জানালাম সমস্যার কথা। উনি দেখবেন কথা দিলেন। আমি ১ তারিখে ফেব্রুয়ারীর বিল দিলাম। মার্চেরটা দিলাম না, মন টানলো না। লাইন ঠিক হলে দিব ঠিক করলাম। তারপর রবিবার গেল, খবর নাই। সোমবার সকালে ফোন দিলাম। জানালো ঠিক করে দিবে। সোমবার গেল। এবার মঙ্গলবারে জানালাম দিনের মধ্যে লাইন ঠিক না করলে লাইন আর রাখবোনা। তাদের ফোনে পাইনি, তাই মেইল দিলাম জিপির লাইন দিয়ে। ওরা আড়াইটা পর্যন্ত সময় নিল, তারপরও খবর নাই। সন্ধ্যায় আবার মেইল দিয়ে জানিয়ে দিলাম আপনাদের প্যাকেজ আর ব্যবহার করবো না।

পরদিন সকালে একজন ফোন দিল কেন আমি এমন মেইল দিয়েছি। উনাকে খুলে বললাম। উনি ঠিক করে দিবেন বললেও রাজি হলাম না। আর কত ধৈর্য ধরা যায়। পরদিন মানে গতকাল ফোন দিয়ে বললো বুধবার রাতে উনারা উনাদের জিনিসপত্র নিয়ে যাবেন। আমি বাসাতেই ছিলাম সেজন্য। উনাদের এবারও খবর নাই। আজকেও তারা আসেন নাই।

৩। ইউটিউব ভিডিও নির্বিঘ্নে দেখা যায় না। দেড় এমবিপিএস নিয়েও যদি ঠিকমতো ইউটিউব বা খেলা দেখতে না পারি তাহলে এত টাকা দিয়ে সংযোগ রাখার দরকার কি ? দেশীয় টরেন্টের স্পিডও যেমন হওয়ার কথা তেমন না। তাই এবার কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলাম।

কাস্টমার কেয়ার যদি সাপোর্ট টিম শনিবারেই বা রবিবারে পাঠাতো তাহলে হয়তো লিঙ্ক৩ বাদ দিতাম না। উনারা নিজেরাই একজন গ্রাহক হারানোর জন্য দায়ী।

তবে দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছর লিঙ্ক৩ দারুণ সার্ভিস দিয়েছে বলতেই হয়। শুরুর দিকে সাপোর্ট ভাল ছিল। ফোন দিলে কয়েক ঘন্টা বড়জোর ১ দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান হতো। এখন তো ফোন দিয়েই পাইনা। উত্তরার মতো আপগ্রেডেশান যদি এদিকেও হতো তাহলে আরো রাগ হতো। তার আগেই বিদায় জানিয়ে দিলাম পছন্দের আইএসপিকে।

আশা করি ভবিষ্যতে এমন অভিজ্ঞতা কারো হবেনা।

বৃহস্পতিবার, ১৫ মার্চ, ২০১২

সময়ের দাবী ম্যাগনেট লিঙ্ক

সাম্প্রতিক সময়ে পাইরেসির বিরুদ্ধে আমেরিকার যুদ্ধ ঘোষণায় বিপাকে পড়ে বন্ধ হয়ে গেছে অনেক ফাইল শেয়ারিং সাইট। কিছু টরেন্ট সাইটের ওপরও কোপ পড়েছে। এতে করে সাময়িক অসুবিধা হলেও অনেকে সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠছে, বেরুচ্ছে নানান পন্থা। বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় টরেন্ট শেয়ারিং সাইট পাইরেট বে তাদের কার্যক্রমে এনেছে ব্যাপক পরিবর্তন। তারা বন্ধ করে দিয়েছে টরেন্ট ফাইল হোস্টিং। টরেন্ট ফাইল বন্ধ করে তারা প্রায় সব ফাইলের ম্যাগনেট লিঙ্ক দিচ্ছে। প্রশ্ন আসতে পারে কি এই ম্যাগনেট লিঙ্ক ? ম্যাগনেট ফাইল কি বলার পূর্বে টরেন্ট ফাইলের ধারনা পরিষ্কার করা প্রয়োজন। যখন আপনি একটি টরেন্ট ফাইল (.torrent) নামাচ্ছেন তখন আপনার টরেন্ট ক্লায়েন্ট ছোট সেই ফাইলের কাছে পেয়ে যায় বড় ফাইলের যাবতীয় তথ্য। এর মধ্যে রয়েছে ফাইলের নাম, ট্র্যাকার লিস্ট ইত্যাদি। টরেন্ট ক্লায়েন্ট তখন ইউনিক হ্যাশ কোড ক্যালকুলেট করে দেখে আর কে কে সেই বড় ফাইলটি শেয়ার করছে। হিসাব নিকাশ শেষ করে সে ফাইল নামাতে বসে যায়। আর ম্যাগনেট লিঙ্ক বিষয়টা আরেকটু সহজ করে দেয় (কোন কোন ক্লায়েন্টের কাছে কঠিন)। এটা যে ফাইল নামাতে চাচ্ছেন তার হাইপারলিঙ্ক, যাতে রয়েছে হ্যাশ কোড। ক্লায়েন্ট শুরুতেই হ্যাশ কোড হিসাব করে নেয়। তারপর নামাতে শুরু করে। মজার ব্যাপার হলো ম্যাগনেট লিঙ্কের কো‌ন ট্র্যাকার প্রয়োজন হয় না। কিংবা ডাউনলোড করার জন্য কোন অতিরিক্ত ফাইল নামাতে হয় না। অর্থাৎ টরেন্ট ফাইলের জন্য আমাদেরকে ট্র্যাকার ফাইলটি (.torrent) নামাতে হয় এবং সেটি খুলতে হয় টরেন্ট ক্লায়েন্ট দিয়ে। ম্যাগনেট লিঙ্ক নামাতে চাইলে একটি ক্লিকেই কাজ হচ্ছে। যেমন পাইরেট বে সাইটে গিয়ে গেট দিস টরেন্ট (একটা ম্যাগনেট আইকন) লিঙ্কে ক্লিক করলে ব্রাউজারই লিঙ্কটিকে ডিফল্ট টরেন্ট ক্লায়েন্ট দিয়ে খুলবে। তারপর টরেন্ট ক্লায়েন্ট হ্যাশ কোড হিসাব করে নিয়ে ডাউনলোড শুরু করবে। অনেকক্ষেত্রে ক্লায়েন্টভেদে ডাউনলোডের জন্য একটা ফোল্ডার নির্দিষ্ট করে দিতে হতে পারে। আমি এক্ষেত্রে ভুয্য টরেন্ট ক্লায়েন্ট বেশ স্মার্ট বলবো। এক ক্লিকেই সে ফাইলের হ্যাশ কোড হিসাব করে নেয়। ইদানিং তাই ভুয্য ব্যবহার করছি। অন্য জনপ্রিয় টরেন্ট ক্লায়েন্ট যেমন মিউটরেন্ট, ডেলুগে, ট্রান্সমিশন ইত্যাদি দিয়েও ম্যাগনেট লিঙ্ক ব্যবহার করা যায়।

Like us on Facebook