Ads 468x60px

ভারত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ভারত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ২০ মার্চ, ২০১২

আরেকবার আনন্দে ভাসতে চাই

এশিয়া কাপে গত ১৬ই মার্চ বাংলাদেশের কাছে হারার পর ভারত পাকিস্তানকে যেভাবে হারিয়েছে তাতে কিছুদিন পূর্বে শেষ হওয়া সিবি সিরিজের কথা মনে পড়ে যায়। ফাইনালে যাওয়ার জন্য তারা শ্রীলঙ্কার দেওয়া ৩২১ রান ৪০ ওভারের আগে তুলে ফেলে। তবুও নিশ্চিত হয়নি ফাইনাল খেলা, বাকি ছিল শ্রীলঙ্কা - অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ। সে ম্যাচ জিতে ভারতকে বাড়ির টিকেট ধরিয়ে দেয় মাহেলার শ্রীলঙ্কা। অর্থাৎ তারা জিতেই ফাইনালে ওঠে। আজও তেমন এক হিসাবের সামনে বাংলাদেশ। ভারত আবারও চেয়ে আছে শেষ ম্যাচের দিকে। আজ হারলেই বাংলাদশের এশিয়া কাপ শেষ। অন্যদিকে ভারত ফাইনালে উঠে যাবে। আর জিতলে শ্রীলঙ্কার সাথে তারাও বাড়ির পথ ধরবে। বাংলাদেশ কি পারবে ভারতকে বিদায় করতে? শোধ নিতে অপমানের? যে ভারতের মিডিয়া পদে পদে বাংলাদেশকে উপহাস করে, যে ভারতের লোকজন বাংলাদেশকে নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করে, যে ভারত সীমান্তে বাংলাদেশীদের পাখির মত মারে তাদেরকে আরেকবার হারাতে? হ্যাঁ, আজ জিতলে ভারতকে আরেকবার হারানো হবে। সেটা জয় হিসেবে গণ্য না হলেও আত্নিক জয়। অনেকে বলবেন খেলায় কেন এসব টেনে আনা? আনছি কারণ আর কোন উপায় তো দেখছিনা। এসব বন্ধ করার উদ্যোগ যারা নেয়ার তারা নানা বাধায় তা করতে অক্ষম। তাই খেলার মাঠে নাহয় জবাব দেয়া হোক। তাই আরেকবার জয়ের আনন্দে ভাসতে চাই। বিশ্বকে জানাতে চাই আমরা টানা দুই ম্যাচ জিততে পারি, তাও বড় দলের বিরুদ্ধে। বর্তমান প্রেক্ষাপট মনে করাচ্ছে ২০০৯ সালে হওয়া একটা ট্রাই-নেশন টুর্নামেন্টের কথা। সেখানেও ফাইনালে যাওয়ার জন্য লঙ্কানদের হারানোর কোন বিকল্প ছিল না। রুবেল-সাকিবের বল-ব্যাটের নৈপুণ্যে ম্যাচ বের করে নেয় বাংলাদেশ। আজকেও সেরকম একটা দিন চাই। এই প্রার্থনা করি। সব বাংলাদেশীর এই চাওয়া কি পূরণ হবে না? হবে, কেন হবে না? আমাদের বিশ্বাস, দেশের প্রতি মমত্ববোধ নিশ্চয়ই বৃথা নয়। আমরা চাই দেশের সম্মান আরো উঁচুতে নিতে। বিদেশী মিডিয়ার নির্লজ্জ পক্ষপাতে সমুচিত জবাব দিতে। আর, আরো একবার তুলে ধরতে চাই বাংলাদেশের পতাকা।

শনিবার, ১৭ মার্চ, ২০১২

বাংলাদেশের আরেকটি ভারতবধ

জয়। একটি শব্দ। যার তাৎপর্য অনেক। ভাষায় প্রকাশ করা যায় না কখনো কখনো। এমন ক্ষণ সবসময় আসে না। গতকাল যেমন এল। স্থান মিরপুর শের-এ-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়াম। বাংলাদেশ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারতের অহমিকায় চপেটাঘাত করে ছিনিয়ে নেয় বিজয়। এই সেই ভারত যারা ২০০০ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস পাবার পরেও বাংলাদেশকে ওদের দেশে আমন্ত্রণ জানায়নি। অজুহাত হলো দর্শক হবে না। বাংলাদেশ সহজে হার মেনে যাবে কিনা। তাই বার বার ভারতের সাথে জিততে মন চায়। ইচ্ছা করে তাদের অহংবোধটাকে টেনে হিঁচড়ে মাটিতে নামাতে। সীমিত সামর্থ্য, বিসিবির বিমাতাসুলভ আচরণ, আম্পায়ারদের পক্ষপাতমূলক বিচারে সহজে জয় পাওয়া হয়ে ওঠে না। তাই যখন জয়টা আসে তখন উচ্ছ্বাসের জোয়ার নামে। কে ভেবেছিল এশিয়া কাপেই রচিত হবে আরেকটি ভারতবধ কাব্য? যে দলে শচীন, ধনী, বিরাট কোহলি, রায়নার মত ব্যাটসম্যান তাদের সাথে জয় পাওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। যতোই আমরা পাকিস্তানের সাথে জয়ের সম্ভাবনা জাগাই না কেন। ভারত স্কোরবোর্ডে ২৮৯ রান তোলার পর ভেবেছিলাম ২৫০-২৬০ করে খেলাটাকে ক্লোজ করবে হয়তো বাংলাদেশ। আক্ষেপে পুড়তে হবে আবারো‌। শচীনের শতরান, কোহলি ও রায়নার জোড়া অর্ধশতক আর রাজিবের উদার হস্তে দেওয়া রানে ভারত প্রায় ৩০০ রান জড়ো করে। শচীন এক বছর ধরে অপেক্ষায় থাকা শতকের শতক পুরো করতে যেন একটু হিসেবি ছিল। বাংলাদেশের বোলিং বা ফিল্ডিংকেও অগ্রাহ্য করা যায় না। ব্যাটিং করতে নেমে ধীরে চলো নীতি মেনে চলতে লাগলো দুই ওপেনার নাজিম ও তামিম। নাজিম মেরে খেলে অভ্যস্ত। তাই তর সইলো না। মাঝ ব্যাটে বল নিতে না পেরে সে আউট। জহুরুল ইসলাম অমির ব্যাটিং বিপিএলে খুব একটা যুৎসই লাগেনি। তবে জানতাম সে পারে, বিপিএলে চেষ্টাও করেছে। জাতীয় দলে দুই বছর পর এসে তিন নম্বর জায়গাটা পাকা করার পথে এক ধাপ এগিয়ে দিল গতকালের ফিফটি। শাহরিয়ার নাফিসকে দলে আসতে হলে খুব ভাল করতে হবে। তামিম যেন পণ করেছে সিরিয়াস ব্যাটিং করবে। গতকালও তাই করলো পয়লা ম্যাচের মতো। মারমার কাটকাট তামিম নিজেকে খোলস বন্দী করে সাবধানী ব্যাটিং দিয়ে দলকে অনেকটা এগিয়ে নিয়েছিল। এরপর নাসিরের উপরে উঠে আসা, সাকিবের ঝড়ো ব্যাটিং দলকে বিশ্বাস এনে দেয় আমরা পারবো। সাকিবের ভাগ্য খারাপ। স্টাম্পিং করেছিল কিপার, পা ছিল লাইনের উপরে। বেনিফিট অব ডাউট যায় সাধারনত ব্যাটসম্যানের পক্ষে। আর এবার গেল ভারতের পক্ষে। হয়তো দূর্বল বলে ছুরি চালানো সহজ ভেবেছে শ্রীলঙ্কান তৃতীয় আম্পায়ার। অশোকা ডি সিলভা কম ভুগায়নি বাংলাদেশকে, এখন নতুন একজনের আবির্ভাব ঘটলো। সাকিব ছিল বিনোদনের কেন্দ্র। তার প্রতিটা মার দর্শকের হৃদয়ে কাঁপুনি ধরিয়েছে। একটু একটু করে লক্ষ্যের দিকে এগিয়েছে বাংলাদেশ। শেষ বেলায় দায়িত্ব পড়ে মুশফিকের ছোট কাঁধে। সাথে নাসির হোসেন। বল আর রানের ব্যবধান ক্রমশ বেড়ে চলছিল। সাহসী অথচ সাবধানী ব্যাটিং করছিল মুশি-নাসির জুটি। ইরফান পাঠানের করা আটচল্লিশ তম ওভারে দুটো ছয় মেরে হিসাব সহজ করে ফেলে মুশি। ১২ বলে ১৬ রান কঠিন কিছু নয়। প্রভিন কুমারের ৪৯তম ওভারের প্রথম দুই বলে ছয় চারে করা ১১ রান ম্যাচ এনে দেয় বাংলাদেশের হাতের মুঠোয়। আরেকটি জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে যায় সবাই। উল্লাসে মেতে ওঠে গ্যালারি, ড্রেসিংরুম আর পুরো দেশ। উত্তেজনায় নাসির নাজিমের মতো শট খেলে উইকেট দিয়ে আসে। তখনো ২ রান করা বাকি। রিয়াদ এসে ৪ বল বাকি রেখে উইনিং শট যখন খেলল তখন বাঁধ-ভাঙা আনন্দে ভেসে গেল পুরো দেশ। পেরেছি, আমরা পেরেছি। ভারতকে আরো একবার হারিয়েছি। এ জয়ের পেছনে দৃশ্যমান অনেকের অবদান থাকলেও একজনের অবদান অনস্বীকার্য। তার নাম মানজারুল ইসলাম রানা। একসময় জাতীয় দলে খেলতো এই তরুণ। বাঁহাতি স্পিন আর ক্রমশ ভালো হতে থাকা ব্যাটিং। ২০০৭ বিশ্বকাপে বাদ পড়ে স্থানীয় লীগে খেলছিল। ওটাই কাল হয় তার জন্য। ১৬ই মার্চ ২০০৭ মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় প্রাণ হারায় সে। পরেরদিন ভারতকে হারিয়ে জয়টা তাকে উৎসর্গ করেছিল বাংলাদেশ। কাকতালীয়ভাবে পাঁচ বছর পর তার মৃত্যুদিনে আরেকবার ভারতকে হারালো বাংলাদেশ। ব্যবধান সেই পাঁচ উইকেট। প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে রানা। কে বলতে পারে এই দিন থেকে নতুন বাংলাদেশের পথচলা শুরু হলো কিনা। এখন পালা শ্রীলঙ্কার, যে লঙ্কান আম্পায়ার সাকিবকে আউট দিল তাকে দেখিয়ে দিতে হবে বাংলাদেশকে অগ্রাহ্য করার দিন শেষ। আমরাও ফাইনালে খেলতে চাই। পাকিস্তানকে ফাইনালে হারিয়ে ১৩ বছর পর আরেকবার জয়ের স্বাদ পেতে চাই। পারবে কি বাংলাদেশ? প্রিয় ক্রিকেটার ভাইয়েরা, তোমাদের সাথে আছে আমাদের দোয়া। আর আকাশের তারা হয়ে যাওয়া রানার শুভ কামনা। পারবেনা তোমরা?

শনিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১১

বাংলাদেশের হার, আমার রিভিউ

বিশ্বকাপ ক্রিকেটের প্রথম ম্যাচ শেষ হলো কিছুক্ষণ আগে। ঢাকা শহরে থেকেও মাঠে বসে খেলা দেখতে পারলাম না। টিভিতে দেখেছি, তাও তো দেখা হলো। বিদ্যুৎ বিভ্রাটে পড়তে হয়নি, ধন্যবাদ কর্তৃপক্ষকে। খেলা পুরোটা না দেখলেও প্রায় আশি ভাগ দেখেছি। তা দেখে আমার ব্যক্তিগত মতামত লেখার দু:সাহস করছি। লিখতে বসেছি যখন তখন আর ছাড় দেব কেন, রাগ-হতাশা আশা-নিরাশা সব এখানে ঝেড়ে ফেলব।

প্রথমেই দেখলাম টস হলো, জিতলো আমাদের সাকিব-আল-হাসান। ভাবলাম হয়তো বলে উঠবে, “We are going to bat first.”। না, অবাক হয়ে শুনলাম সে ফিল্ডিং বেছে নিয়েছে। রাতে নাকি কুয়াশা পড়বে, তাতে সমস্যা হবে বোলারদের। তাই ফিল্ডিং। সে আরও জানালো ২৬০ এর মধ্যে বেঁধে রাখতে হবে ভারতকে। পরে ধোনীকেও যখন বলতে শুনলাম সেও ফিল্ডিং নিতো তখন ভেবে নিলাম সাকিবই ঠিক। আধঘন্টা পর খেলা শুরু হলো। শফিউলের পয়লা বল শেওয়াগ মাঠের বাইরে পাঠালো সবুজ মাঠে চুমো খাইয়ে। এরপর পেসারদের নিয়ে ছেলেখেলায় মেতে উঠলো শেওয়াগ-শচীন। বারবার মাশরাফির জন্য আফসোস হচ্ছিল তখন। কেন তার কপালে ইনজুরি জোটে ? সে থাকলে এমন বস্তাপঁচা বোলিং হয় না, ম্যাশের আড়ালে অন্য পেসাররাও ভরসা পায়। পুরো পঞ্চাশ ওভার জুড়েই বোলাররা বেদম পিটুনি খেলো ভারতের ব্যাটসম্যানদের হাতে। মার খেয়ে খেয়ে ৩৭০ রান দিয়ে বসলো। শেওয়াগ তুলে নিল এবারের টুর্নামেন্টের প্রথম শতক, তাকে সঙ্গ দিয়ে বিরাত কোহলিও শতকের দেখা পেল। এমন ছন্নছাড়া বোলিং করলে সামনে বাংলাদেশ দলের কপালে খারাপী আছে এটা বেশ বুঝতে পারছি।



ব্যাটিং কিছুটা হলেও বোলিং'র দু:খ ঢেকেছে। তামিমের খোলস বন্দী হয়ে করা ৭০, সাকিবের অসময়ে তেড়েফুঁড়ে করা ৫৫, ইমরুলের অবাক করা ঝড়ো ব্যাটিং দুপুরের ক্ষতে মলমের কাজ করেছে। ভালো লেগেছে শ্রীশান্তের এক ওভারে দেয়া ২৪ রানে ইমরুলের ভূমিকা আছে দেখে। তবে রিয়াদ-নাইমের ব্যাটিং দেখে মনে হয়েছে সেখানে অলক কাপালী থাকলে আরো কিছু রান যুক্ত হতে পারতো। রিয়াদ কোনকালেই সাত নম্বর ব্যাটসম্যান নয়, তবুও সে এই পজিশনে ব্যাট করে। আর নাইম সেই যে ছক্কা মেরে জিম্বাবুয়ের সাথে ম্যাচ জিতালো তারপর থেকে ছক্কা মারাই ভুলে গেলো। তাই লেজের দিকে যে দুর্বলতা তা ব্যাটিং পাওয়ার প্লের প্রয়োজন কিভাবে মেটাবে বোধগম্য হলো না। তবে ২৮৩ রান খারাপ নয়। আশা করেছিলাম ৩১০-৩২০ করে আরো ভালো জবাব দেবে তারা। আফসোস ৩৫ ওভারে ২০২ হবার পরেও শেষ ১৫ ওভারে ৭ উইকেট নিয়ে ১০০ রান যোগ করতে পারলো না টেল-এন্ডাররা।



মেলা বকলাম, এবার থামি। শেষ কথা বলবো দলে আরো দুইজন হার্ডহিটার দরকার ছিল। রিয়াদ-নাইম বা রকিবুল-জুনায়েদ নামক ব্যাটসম্যানদের নিয়ে ৩০০ রান চেজ করার চিন্তা অসম্ভব। তবুও ভালো খেলেছে বাংলাদেশ, সামনে আরো ভালো খেলবে এটাই প্রত্যাশা। পনের কোটি মানুষের আশা তো এমনি এমনি মিটিয়ে যাবার নয়।

বৃহস্পতিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১১

যেমন দেখলাম বিশ্বকাপ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান








হয়ে গেল, শেষ পর্যন্ত শুরু হয়ে গেল দশম বিশ্বকাপ ক্রিকেট। বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কার শিল্পীদের চমৎকার পরিবেশনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি এককথায় ছিল অসাধারন। শুরু হয়েছিল বিসিবি সভাপতি কামাল সাহেবের বক্তৃতার মাধ্যমে। উনি ইংরেজীটা ভালো বললেও বাংলা অংশে এসে স্টেডিয়ামকে বানিয়ে দিলেন পল্টনের জনসভা। এরপর আমাদের খেলার প্রতি মন্ত্রী এলেন। তিনি দাঁত মুখ খিঁচে উচ্চস্বরে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে গেলেন। একবার শুনলাম তিনি বলছেন টু জিরো জিরো ওয়ান ওয়ার্ল্ড কাপ (!)। হায়রে মন্ত্রী তিনি টু থাউজ্যান্ড ইলেভেন সালের কথাও বেমালুম ভুলে গেলেন, অবশ্য কিছুদিন আগে নাকি তিনি বলেছিলেন সম্রাট শাহজাহান লাল কেল্লা বানিয়েছেন বাইশ বছরের সাধনায়। ওনার কাছে ভালো কিছু আশাও করিনি। ভালো লেগেছে অর্থমন্ত্রীর কথা। অত্যন্ত সাবলীলভাবে তিনি বলে গেলেন। ঐ সময়টায় শেয়ার বাজার নিয়ে তার বিভিন্ন কটূ মন্তব্য ভুলে গেলাম। গর্বে বুকটা ভরে উঠলো। একজন স্মার্ট মন্ত্রীর বক্তব্য শুনলাম। আইসিসি প্রেসিডেন্ট শারদ পাওয়ার ভালোই বলেছেন। বাংলা বলে আমাদের ভাষার প্রতি সম্মান দেখিয়েছেন। তবে শেষে “বাংলাদেশ জিন্দাবাদ” বলে অনেকের চোখে হয়তো ভিলেন হয়ে গেছেন পাওয়ার সাহেব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাংলায় ২০০১ সালের বিশ্বকাপ উদ্বোধনের কথাটা দৃষ্টিকটূ লেগেছে। ইংরেজীতে কি বললেন বুঝতে পারলামনা!











অনুষ্ঠান জুড়ে ছিল দারুণ সব ফায়ারওয়ার্কস। প্রথমে এ প্রজন্মের কিছু শিল্পী একটা গান গাইলেন, তেমন একটা মন ছুঁতে পারেনি সেটা। তবে সাবিনা ইয়াসমিন, রুনা লায়লাদের পরিবেশনা ছিল অত্যন্ত ভালো। এদের সাথে একই মঞ্চে মমতাজকে দেখে মনের কোথায় যেন খাপছাড়া ভাবটা জেগেছে। তবে শিল্প ব্যাংকের দেয়ালে খেলা ক্রিকেটে ছিল নতুনত্বের ছোঁয়া। এইডসের উপরে শেওয়াগ ও সাঙ্গাকারার করা প্রামাণ্যচিত্র ভালো ছিল। তবে এরচেয়েও দৃষ্টিনন্দন ছিল পর্যটন কর্পোরেশনের করা প্রামাণ্যচিত্র। ধন্যবাদ তারা পেতেই পারে। ভারতের শিল্পীদের পরিবেশনার চেয়ে ভালো লেগেছে শ্রীলঙ্কার পরিবেশনা। ভারতের নাচ-গান মনে হয়েছে সিনেমা নির্ভর। বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন, একাত্তর, উপজাতীয়দের জীবনচিত্র ইত্যাদি নিয়ে পরিবেশনা ছিল বেশ উপভোগ্য। তবে শেষদিকে কানাডিয়ান তারকা শিল্পী ব্রায়ান এডামসের পারফর্ম্যান্স পুরো অনুষ্ঠানকে দিয়েছে আন্তর্জাতিকতার চাদর। দারুণ গেয়েছেন এডামস তার দল নিয়ে। এরপর শঙ্কর-এহসান-লয়ের থিম সঙ পরিবেশনাও ছিল এককথায় অপূর্ব। শঙ্করের গলায় বাংলা শুনে মনে হয়নি তার মাতৃভাষা বাংলা নয়। তাদের গানের তালে তালে সন্ধ্যার আকাশ আগুনের রঙে রাঙিয়ে শেষ হয় অনুষ্ঠান।

তবুও একটা কথা বলা হয়নি। বিশ্বকাপ মাস্কট স্টাম্পি ট্রলিতে চেপে মাঠে প্রবেশ করে। মূল মঞ্চে অংশগ্রহণকারী চৌদ্দ দলের অধিনায়কদের রিকশায় করে আসাটা ছিল ব্যতিক্রমি উদ্যোগ। সনু নিগাম তাদের দাঁড় করিয়ে গেয়েছিলেন যেটা ভালো লাগেনি আমার। এরচেয়ে ভালো ছিল ছায়ানটের শিল্পীদের গাওয়া সেই গান, যা জাগিয়ে তোলে দেশমায়ের প্রতি ভালোবাসা।

আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।”

Like us on Facebook