Ads 468x60px

ক্রিকেট লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ক্রিকেট লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ৪ মার্চ, ২০১৫

ক্রিকেট, বিশ্বকাপ ও সমসাময়িক ঘটনা



বেশ বড়সড় বিরতি দিয়ে লিখছি। আসলে ফেসবুকে বাংলায় স্ট্যাটাস দেয়ার ফলে, ব্লগে যা নিয়ে লিখতাম তাই ফেসবুকে লিখে ফেলে ব্লগটাকে শূন্য করে রাখা হয়েছে এতদিন। লেখকস্বত্তাকে বাঁচানোর জন্য ফেসবুক যেমন উপকারি, ব্লগও তেমনি। 

কি লিখবো তা নিয়ে ভাবছিলাম কিছুদিন। রাজনীতি, সমাজনীতি, ধর্মনীতি কত নীতি চোখের সামনে। তবে ওসবে না গিয়ে যেটায় আমি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি সেই খেলা মানে ক্রিকট নিয়েই লিখছি। এটা নিয়ে লেখার কারন বিশ্বকাপ। এবং তার কিছুদিন পূর্ব হতে রসালো মশলাযুক্ত খবরাখবরের প্রচার।

ছোটবেলায় ক্রিকেট খেলা দেখতাম, তখন ছিল মার্ক টেইলর, ব্রায়ান লারা, ডেমিয়েন মার্টিন, সাঈদ আনোয়ার, ওয়াসিম আকরাম, প্রাসাদ, শ্রীনাথ প্রমুখের যুগ। শারজায় কদিন পর পর ওয়ানডে টুর্নামেন্ট হতো। এশিয়া কাপও হতো। টিভিতে (পড়ুন বিটিভিতে) পাকিস্তান যে টুর্নামেন্টে থাকতো সেটি প্রচার করতো। আমরাও অবাক বিস্ময়ে দেখতাম আফ্রিদীর ব্যাটিং তান্ডব। প্রায়শই সে মিস হিট করে মিড অন বা মিড উইকেট জোনে ক্যাচ দিয়ে ফিরতো। কপাল ভালো হলে ডিপ মিড উইকেট বা ডিপ মিড অফে মিস হিট হওয়া বল ল্যান্ড করতো। তা দেখেই আমাদের দর্শককূলের হৃদয় ভরে যেত। আবার ওয়াসিম আকরাম বা ওয়াকার ইউনুসের বল দেখে মনে হইতো একেকটা কামানের গোলা, বিশেষ করে ইন্ডিয়ার সাথে যখন তাদের গোলা শচীনের তিন দন্ডের একটি বা দুটোকেই সমূলে উপড়ে ফেলতো তখন অনেকেই বুনো আনন্দে কেঁপে উঠতো। আমার অবশ্য তখন কোন অনুভূতি হতো না। আমি খুঁজতাম আমাদের আনিসুর রহমান আনিস বা সাইফুল ইসলামকে। তাদের বল কেন শচীনের দন্ডকে ক্ষত-বিক্ষত করে না? আমাদের আকরাম খান বা বুলবুলের ব্যাট কেন তরবারি হয়ে ওয়াসিম আকরাম বা অনিল কুম্বলের বলকে কচুকাটা করে না। যাই হোক সেবার মিনি বিশ্বকাপ হলো বাংলাদেশে। স্থান পাকিস্তান আমলে ক্রিকেটের জন্য বানানো স্টেডিয়ামঢাকা স্টেডিয়াম বা পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম। আহা এর সাথে ক্রিকেটটা যুক্ত হলে মনে বহু প্রশান্তি পেতাম। বঙ্গবন্ধু ক্রিকেট স্টেডিয়াম। তা হয়নি, হয়তো হবেও না।

যা বলছিলাম, মিনি বিশ্বকাপ হয়েছিল সেবার। মানবজমিন তখন শিশু বয়সে। ট্যাবলয়েড কি শিখতে শুরু করেছে বাংলাদেশিরা। আমাদের বাসায় চার-পাঁচটা পত্রিকার একটি ছিল মানবজমিন। মানবজমিনে মমতা কূলকার্নির শোর জন্য নরম-গরম ছবি যেমন প্রকাশ হতো তেমনি আফ্রিদীর ব্যাটিংরতো ছবিও দেখা যেত। যার যেটার অভাব সে সেটা দেখে আহা উহু করতো। সেই মানবজমিনে নিয়মিত মিনি বিশ্বকাপ নিয়ে প্রতিবেদন থাকতো। চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা। কালিনান, ক্লুজনার, ডোনাল্ড আর হ্যান্সি ক্রোনিয়ের দল। ওরা খুব খুশি। বিশ্বকাপ জিততে পারেনি, মিনি বিশ্বকাপ তো পেরেছে। আমিও মনে হয় ওদের জন্য দুর্বল তখন হতে। সেসময় আফসোস ছিল বাংলাদেশে খেলা, কিন্তু বাংলাদেশ কেন নাই? চাপা দু:খ নিয়ে খেলা দেখতাম, পরদিন মানবজমিনে রিপোর্ট পড়তাম। 

সেসময় কোন এক ললনা আফ্রিদীর পৌরষত্ব দেখে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসে। সেসময়ের বাংলাদেশে ওটা অবাক করার মতো ঘটনা বৈকি। ললনাটি কে ছিল, কি তার বংশ পরিচয় জানা হয়নি। বাংলাদেশের কোন তরুণ, যুবক, বৃদ্ধ নয়; তার দরকার পাকিস্তানি পাঠান আফ্রিদী। সে নিয়ে সেসময় পত্রিকায় লেখালেখি হয়েছিল। ললনার শখ আফ্রিদী পূর্ণ করেনি। সে এখন পাঁচ সন্তানের পিতা, বৌ অবশ্যই সাচ্চা পাকিস্তানি। ওয়াসিম আকরাম, তার আগে ইমরান খানও নাকি বাংলাদেশি ললনাদের উইশ লিস্টে ছিল। আমি বুঝিনা চোখ সবসময় ঐসব লোকদের দিকে যায় কেন? ভারতের কপিল দেব, সুনিল গাভাস্কার, তরুণ সৌরভ বা রাহুল দ্রাবিড়ও তো ছিল। বাংলাদেশের বুলবুল বা নান্নুও কম কিসে। সুজনের কথাই বা ভুলি কি করে। তার গতির কাছে সবাই ফেল। তবুও রং দেখে মেয়েরা ওদের প্রতি আকর্ষিত হয়ে লাজ শরম ভুলে হাজার হাজার চোখের সামনে প্ল্যাকার্ড তুলে ধরে, আফ্রিদী ম্যারি মি।

প্রাককথন মনে হয় বড় হয়ে গেল। আসল যায়গায় এসে পড়েছি। এত বছর পরে, এক যুগেরও বেশি সময় পর বাংলাদেশের কোন খেলোয়াড়কে নিয়ে সেই জাতীয় খবর শুনলাম, দেখলাম বলা যুক্তিযুক্ত। ইঙ্গিত হচ্ছিল রুবেলের দিকে। বাংলাদেশের রুবেল। পেসার রুবেল। আমাদের হ্যাট্রিকম্যান রুবেল, কিউইদের চুনকামে দূর্দান্ত ভূমিকা রাখা রুবেল। রুবেল ভাল ছেলে, দেখে তাই মনে হয়। যদিও বল করার সময় লাইন, লেন্থ যখন অপ্রত্যাশিত রকমের বাড়াবাড়ি পর্যায়ের হয় তখন সব ভুলে তাকে বকা আমিও দেই। বকা তাকেই দেয়া যায় যাকে ভালোবাসা হয়। বাংলাদেশ দলকে মানুষ বকা দেয় কেন? কারন তাদের ভালোবাসে বলে। তাদের সন্তানের মতো দেখে অনেক দর্শক। আমি অবশ্য ছোটভাই, বড় ভাই হিসাবেই দেখতে পছন্দ করি। দলের অনেকেই আমার প্রকৌশল ডিগ্রী নেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। তাই টানটা অন্যরকম। তো সেই বাংলাদেশ দলে হিরু টাইপ প্লেয়ার বলতে একজনকেই চিনতাম। সে আবার বল করার সময় উহু আহা শব্দ উচ্চারণ করে ব্যাটসম্যানকে উত্তেজিত করতো। ফলাফল ব্যাটসম্যানের ব্যাটে চুমো খেয়ে বল স্লিপে, কিন্তু একি! তার উহু আহা শব্দে ফিল্ডারও কিঞ্চিত উত্তেজিত এবং তাই তার হাত বলটাকে ধরে রাখতে অক্ষম হয়ে মাটিতে পড়তে সহায়তা করল‌ো। 

সেই স্বঘোষিত প্লেয়ারকে বাদ দিয়ে রুবেলকে নিয়ে মেয়েরা স্বপ্নের জাল বুনে ভাবতেও পারিনি। কোথাকার কোন সুখি মেয়ের সাথে নাকি রুবেলের সম্পর্ক। ইদানিং অনেক অনলাইন পত্রিকা আছে, সেগুলো তা নিয়ে কম রসালো খবর বের করেনি। ওদের অডিও স্ক্যান্ডাল বেরিয়ে গেল। প্রযুক্তি জগতে আনাগোনার সুবাদে জানি এটা ফেইকও হতে পারে, তবুও বাংলাদেশি মন তো! বাস্তবতা বা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি বাদ দিয়ে যা দেখছি বা শুনছি তাই বিশ্বাস করতে ইচ্ছা করে। ওসব নিয়ে কোর্ট কাচারি হলো। রুবেলকে নিয়ে নানা মুনি নানা মত দিল। কেউ মেয়ের জন্য কেউবা ছেলের চরিত্রর জন্য ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিল। লাইক, কমেন্টে নানা মতবাদ পাওয়া গেল। সব বাধা বিপত্তি পেরিয়ে রুবেল গেল ক্যাঙ্গারুর দেশে। বিশ্বকাপ খেলতে। ওখানেও শান্তি নাই। রুবেলের এক সতীর্থকে রহস্যজনক কারনে দেশে পাঠিয়ে দেয়া হলো। আবার এক সাংবাদিক ইভ টিজিং এর মামলায় জড়িয়ে বিদেশ বিভূঁইয়ে ধৃত হলো। তার পাশে যুক্ত হলো এক ললনার প্ল্যাকার্ড। সে রুবেলকে বিয়ে করতে চায়। প্রভার দুষ্টুমি ভরা ভিডিও দেখেও যেমন এক সাহসী যুবক তাকে ঘরে তুলেছে তেমনি সাহসীনি মেয়েটাও রুবেলকে হ্যাপি করতে চায়। যদি রুবেল তিনবার কবুল বলে তাকে সে অধিকার দেয়। অনেকে অনেক ইঙ্গিত করলেও বিষয়টা আশা জাগানিয়া। মেয়েরা এখন সচেতন, আফ্রিদী নয় তাদের জহুরির চোখ এখন বাংলাদেশের টাইগারদের দিকে। তাদের দেখার জন্য বিশিষ্ট দন্ত চিকিৎসক (রমনী অবশ্যই) ৮৪ ইঞ্চি টিভি কিনে সেটি ভিডিও করে ফেসবুকে বা ইউটিউবে আপলোড করেছিলেন। বেচারির কপাল খারাপ, ডেলিভারির সময় সে টিভি দেহত্যাগ করেছে। পরে তিনি আবার টিভি কিনেছিলেন কিনা বা নতুন টিভি পেয়েছেন কিনা জানা যায়নি। পরবর্তীতে তিনি স্বল্প বসনে ছবি তুলে তা দেখানোর কাজে মন দিয়েছেন।

রুবেলের কান্ডে সব থেমে গেলে চলতো, তা আর কই হলো। নামায পড়তে গিয়ে দর্শকের গাল হজম করতে হলো মাশরাফিকে। কেমন সে দর্শক, যে টাইগার দলপতিকে গাল দেয়। বাস্তবতা বলে দলপতিকে না দিয়ে জনৈক ওপেনারকে গালাগাল করলে বেচারা দর্শককে এত হেনস্থা হতে হয়না। তখন ফেবুর সাপোর্টারকূল হ্যাপি থাকতো। মিডিয়াও তাকে হিরো বানিয়ে দিত।

ঘটনার প্যাঁচ আরো লেগেছে যখন একটা ছবি দেখা গেল ফেসবুকে। আমাদের ম্যানেজার, মানে সুজনকে ক্যাসিনোতে দেখা গেছে। উনি কি করতে চেয়েছিলেন আর কি করতে পেরেছেন তা না জানা গেলেও ছবি দেখে বুঝা যায় উনি ক্যাসিনোতে গিয়েছেন। জানা যায় রাত তখন প্রায় দেড়টা। একগাদা ক্যাচ ফেলে, শিশুসুলভ ব্যাটিং করে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে বাংলাদেশ দল তখন বিপর্যস্ত। ম্যানেজার সাহেব তখন ক্যাসিনোতে জীবন উপভোগ করতে ব্যস্ত। এর ফল কি হবে তা এখনো জানা যায়নি। ম্যানেজারের কপালে যাই থাকুক বাংলাদেশ দল যেন থাকে জয়ের আবেশে, এটাই চাওয়া।

বাংলাদেশ দল এখন শীর্ষ আটে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। বাঘা বাঘা সব দল, অস্ট্রেলিয়া নিউজিল্যান্ড শ্রীলঙ্কা ইংল্যান্ড এদের যেকোন একজনকে হঠিয়ে বাংলাদেশ পরের রাউন্ডে যাবার কঠিন কিন্তু সম্ভবপর স্বপ্ন দেখছে। আমরা স্বপ্ন দেখবো, অবশ্যই দেখব। তবে স্বপ্ন দেখার মধ্যে যেন সীমাবদ্ধ না থাকে সেটাও মনে রাখা জরুরী। স্বপ্নটাকে বাস্তবে রূপ দেয়ার কঠিন কাজটা ওদেরকেই করতে হবে, ব্যর্থ হলেও সমর্থন দিয়ে যাওয়া দর্শকদের কাজ। ক্রিকেটারদের দায়িত্ব যেমন ভালো খেলা, আমাদের দায়িত্বও তেমন ভালো সমর্থন দেয়া। এখন ফেসবুকের একটা স্ট্যাটাস অনেককিছু বহন করে, ব্যবহারকারীর রুচিবোধ, মানসিক পরিপক্কতার আঁচ পাওয়া যায় ফেসবুক স্ট্যাটাসের মধ্যে। তাই গালিগালাজময় একটা স্ট্যাটাস যেমন মন খারাপ করে দিতে পারে খেলোয়াড়দের, উৎসাহমূলক স্ট্যাটাসে দ্বিগুণ উদ্দীপনা পেতে পারে ওরা।

আহা, অনেক বকবক করা হয়ে গেল। প্রায় তিন পৃষ্ঠা হয়ে গেল। অনেকদিন পর লিখছিতো, তাই পাঠককূলের সুবিধা-অসুবিধার কথা ভুলে গিয়েছিলাম। একদিন বাদে বাংলাদেশের খেলা স্কটল্যান্ডের সাথে। মনে পড়ছে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের কথা। ন‌বীন বাংলাদেশ ওদের হারিয়েছিল প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও। এবারও তাই হবে, এবং রানরেটটাও বাড়িয়ে নিবে বাংলাদেশ এই আশা করছি। বাংলাদেশের জয় আরেকটা লেখা দেয়ার সুযোগ করে দিবে, এই ছোট্ট ইচ্ছাটার কথা জানিয়ে দিলাম।

মঙ্গলবার, ২০ মার্চ, ২০১২

আরেকবার আনন্দে ভাসতে চাই

এশিয়া কাপে গত ১৬ই মার্চ বাংলাদেশের কাছে হারার পর ভারত পাকিস্তানকে যেভাবে হারিয়েছে তাতে কিছুদিন পূর্বে শেষ হওয়া সিবি সিরিজের কথা মনে পড়ে যায়। ফাইনালে যাওয়ার জন্য তারা শ্রীলঙ্কার দেওয়া ৩২১ রান ৪০ ওভারের আগে তুলে ফেলে। তবুও নিশ্চিত হয়নি ফাইনাল খেলা, বাকি ছিল শ্রীলঙ্কা - অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ। সে ম্যাচ জিতে ভারতকে বাড়ির টিকেট ধরিয়ে দেয় মাহেলার শ্রীলঙ্কা। অর্থাৎ তারা জিতেই ফাইনালে ওঠে। আজও তেমন এক হিসাবের সামনে বাংলাদেশ। ভারত আবারও চেয়ে আছে শেষ ম্যাচের দিকে। আজ হারলেই বাংলাদশের এশিয়া কাপ শেষ। অন্যদিকে ভারত ফাইনালে উঠে যাবে। আর জিতলে শ্রীলঙ্কার সাথে তারাও বাড়ির পথ ধরবে। বাংলাদেশ কি পারবে ভারতকে বিদায় করতে? শোধ নিতে অপমানের? যে ভারতের মিডিয়া পদে পদে বাংলাদেশকে উপহাস করে, যে ভারতের লোকজন বাংলাদেশকে নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করে, যে ভারত সীমান্তে বাংলাদেশীদের পাখির মত মারে তাদেরকে আরেকবার হারাতে? হ্যাঁ, আজ জিতলে ভারতকে আরেকবার হারানো হবে। সেটা জয় হিসেবে গণ্য না হলেও আত্নিক জয়। অনেকে বলবেন খেলায় কেন এসব টেনে আনা? আনছি কারণ আর কোন উপায় তো দেখছিনা। এসব বন্ধ করার উদ্যোগ যারা নেয়ার তারা নানা বাধায় তা করতে অক্ষম। তাই খেলার মাঠে নাহয় জবাব দেয়া হোক। তাই আরেকবার জয়ের আনন্দে ভাসতে চাই। বিশ্বকে জানাতে চাই আমরা টানা দুই ম্যাচ জিততে পারি, তাও বড় দলের বিরুদ্ধে। বর্তমান প্রেক্ষাপট মনে করাচ্ছে ২০০৯ সালে হওয়া একটা ট্রাই-নেশন টুর্নামেন্টের কথা। সেখানেও ফাইনালে যাওয়ার জন্য লঙ্কানদের হারানোর কোন বিকল্প ছিল না। রুবেল-সাকিবের বল-ব্যাটের নৈপুণ্যে ম্যাচ বের করে নেয় বাংলাদেশ। আজকেও সেরকম একটা দিন চাই। এই প্রার্থনা করি। সব বাংলাদেশীর এই চাওয়া কি পূরণ হবে না? হবে, কেন হবে না? আমাদের বিশ্বাস, দেশের প্রতি মমত্ববোধ নিশ্চয়ই বৃথা নয়। আমরা চাই দেশের সম্মান আরো উঁচুতে নিতে। বিদেশী মিডিয়ার নির্লজ্জ পক্ষপাতে সমুচিত জবাব দিতে। আর, আরো একবার তুলে ধরতে চাই বাংলাদেশের পতাকা।

শনিবার, ১৭ মার্চ, ২০১২

বাংলাদেশের আরেকটি ভারতবধ

জয়। একটি শব্দ। যার তাৎপর্য অনেক। ভাষায় প্রকাশ করা যায় না কখনো কখনো। এমন ক্ষণ সবসময় আসে না। গতকাল যেমন এল। স্থান মিরপুর শের-এ-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়াম। বাংলাদেশ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারতের অহমিকায় চপেটাঘাত করে ছিনিয়ে নেয় বিজয়। এই সেই ভারত যারা ২০০০ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস পাবার পরেও বাংলাদেশকে ওদের দেশে আমন্ত্রণ জানায়নি। অজুহাত হলো দর্শক হবে না। বাংলাদেশ সহজে হার মেনে যাবে কিনা। তাই বার বার ভারতের সাথে জিততে মন চায়। ইচ্ছা করে তাদের অহংবোধটাকে টেনে হিঁচড়ে মাটিতে নামাতে। সীমিত সামর্থ্য, বিসিবির বিমাতাসুলভ আচরণ, আম্পায়ারদের পক্ষপাতমূলক বিচারে সহজে জয় পাওয়া হয়ে ওঠে না। তাই যখন জয়টা আসে তখন উচ্ছ্বাসের জোয়ার নামে। কে ভেবেছিল এশিয়া কাপেই রচিত হবে আরেকটি ভারতবধ কাব্য? যে দলে শচীন, ধনী, বিরাট কোহলি, রায়নার মত ব্যাটসম্যান তাদের সাথে জয় পাওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। যতোই আমরা পাকিস্তানের সাথে জয়ের সম্ভাবনা জাগাই না কেন। ভারত স্কোরবোর্ডে ২৮৯ রান তোলার পর ভেবেছিলাম ২৫০-২৬০ করে খেলাটাকে ক্লোজ করবে হয়তো বাংলাদেশ। আক্ষেপে পুড়তে হবে আবারো‌। শচীনের শতরান, কোহলি ও রায়নার জোড়া অর্ধশতক আর রাজিবের উদার হস্তে দেওয়া রানে ভারত প্রায় ৩০০ রান জড়ো করে। শচীন এক বছর ধরে অপেক্ষায় থাকা শতকের শতক পুরো করতে যেন একটু হিসেবি ছিল। বাংলাদেশের বোলিং বা ফিল্ডিংকেও অগ্রাহ্য করা যায় না। ব্যাটিং করতে নেমে ধীরে চলো নীতি মেনে চলতে লাগলো দুই ওপেনার নাজিম ও তামিম। নাজিম মেরে খেলে অভ্যস্ত। তাই তর সইলো না। মাঝ ব্যাটে বল নিতে না পেরে সে আউট। জহুরুল ইসলাম অমির ব্যাটিং বিপিএলে খুব একটা যুৎসই লাগেনি। তবে জানতাম সে পারে, বিপিএলে চেষ্টাও করেছে। জাতীয় দলে দুই বছর পর এসে তিন নম্বর জায়গাটা পাকা করার পথে এক ধাপ এগিয়ে দিল গতকালের ফিফটি। শাহরিয়ার নাফিসকে দলে আসতে হলে খুব ভাল করতে হবে। তামিম যেন পণ করেছে সিরিয়াস ব্যাটিং করবে। গতকালও তাই করলো পয়লা ম্যাচের মতো। মারমার কাটকাট তামিম নিজেকে খোলস বন্দী করে সাবধানী ব্যাটিং দিয়ে দলকে অনেকটা এগিয়ে নিয়েছিল। এরপর নাসিরের উপরে উঠে আসা, সাকিবের ঝড়ো ব্যাটিং দলকে বিশ্বাস এনে দেয় আমরা পারবো। সাকিবের ভাগ্য খারাপ। স্টাম্পিং করেছিল কিপার, পা ছিল লাইনের উপরে। বেনিফিট অব ডাউট যায় সাধারনত ব্যাটসম্যানের পক্ষে। আর এবার গেল ভারতের পক্ষে। হয়তো দূর্বল বলে ছুরি চালানো সহজ ভেবেছে শ্রীলঙ্কান তৃতীয় আম্পায়ার। অশোকা ডি সিলভা কম ভুগায়নি বাংলাদেশকে, এখন নতুন একজনের আবির্ভাব ঘটলো। সাকিব ছিল বিনোদনের কেন্দ্র। তার প্রতিটা মার দর্শকের হৃদয়ে কাঁপুনি ধরিয়েছে। একটু একটু করে লক্ষ্যের দিকে এগিয়েছে বাংলাদেশ। শেষ বেলায় দায়িত্ব পড়ে মুশফিকের ছোট কাঁধে। সাথে নাসির হোসেন। বল আর রানের ব্যবধান ক্রমশ বেড়ে চলছিল। সাহসী অথচ সাবধানী ব্যাটিং করছিল মুশি-নাসির জুটি। ইরফান পাঠানের করা আটচল্লিশ তম ওভারে দুটো ছয় মেরে হিসাব সহজ করে ফেলে মুশি। ১২ বলে ১৬ রান কঠিন কিছু নয়। প্রভিন কুমারের ৪৯তম ওভারের প্রথম দুই বলে ছয় চারে করা ১১ রান ম্যাচ এনে দেয় বাংলাদেশের হাতের মুঠোয়। আরেকটি জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে যায় সবাই। উল্লাসে মেতে ওঠে গ্যালারি, ড্রেসিংরুম আর পুরো দেশ। উত্তেজনায় নাসির নাজিমের মতো শট খেলে উইকেট দিয়ে আসে। তখনো ২ রান করা বাকি। রিয়াদ এসে ৪ বল বাকি রেখে উইনিং শট যখন খেলল তখন বাঁধ-ভাঙা আনন্দে ভেসে গেল পুরো দেশ। পেরেছি, আমরা পেরেছি। ভারতকে আরো একবার হারিয়েছি। এ জয়ের পেছনে দৃশ্যমান অনেকের অবদান থাকলেও একজনের অবদান অনস্বীকার্য। তার নাম মানজারুল ইসলাম রানা। একসময় জাতীয় দলে খেলতো এই তরুণ। বাঁহাতি স্পিন আর ক্রমশ ভালো হতে থাকা ব্যাটিং। ২০০৭ বিশ্বকাপে বাদ পড়ে স্থানীয় লীগে খেলছিল। ওটাই কাল হয় তার জন্য। ১৬ই মার্চ ২০০৭ মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় প্রাণ হারায় সে। পরেরদিন ভারতকে হারিয়ে জয়টা তাকে উৎসর্গ করেছিল বাংলাদেশ। কাকতালীয়ভাবে পাঁচ বছর পর তার মৃত্যুদিনে আরেকবার ভারতকে হারালো বাংলাদেশ। ব্যবধান সেই পাঁচ উইকেট। প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে রানা। কে বলতে পারে এই দিন থেকে নতুন বাংলাদেশের পথচলা শুরু হলো কিনা। এখন পালা শ্রীলঙ্কার, যে লঙ্কান আম্পায়ার সাকিবকে আউট দিল তাকে দেখিয়ে দিতে হবে বাংলাদেশকে অগ্রাহ্য করার দিন শেষ। আমরাও ফাইনালে খেলতে চাই। পাকিস্তানকে ফাইনালে হারিয়ে ১৩ বছর পর আরেকবার জয়ের স্বাদ পেতে চাই। পারবে কি বাংলাদেশ? প্রিয় ক্রিকেটার ভাইয়েরা, তোমাদের সাথে আছে আমাদের দোয়া। আর আকাশের তারা হয়ে যাওয়া রানার শুভ কামনা। পারবেনা তোমরা?

সোমবার, ১২ মার্চ, ২০১২

এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচ: যেমন দেখলাম

এশিয়া কাপের শুরুটা ভালই করলো বাংলাদেশ। যেভাবে চেয়েছিলাম, মানে জয় দিয়ে তা না হোক অন্তত কিছু সমালোচনার জবাব দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করতে পারাটা সামর্থ্যের পরিচায়ক। বেশ কিছুদিন ধরে ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছিল। যারা বর্তমানে খেলছেন তাদের তো কথা বললেই শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কটূ কথা শুনতে হয়। আর যারা সাবেক তাদের বিরুদ্ধে কৌশলে লেগে আছেন বিসিবির কতিপয় সুযোগ সন্ধানী কর্মকর্তা। যাদের অতীত বলে তারা কেউ ছিলেন ফুটবলার, কেউবা স্রেফ সংগঠক। তারাই অপকৌশল খাটিয়ে বিসিবির কাউন্সিলরদের তালিকা হতে সাবেক ক্রিকেটারদের বাদ দেয়ার আইন প্রায় পাশ করে ফেলেছেন। প্রায় কারন ক্রীড়া পরিষদ এখনো হ্যাঁ বা না কিছু বলেনি। তাই ক্ষীণ একটা আশা এখনো বিদ্যমান। কে বলতে পারে এ যাত্রায় বেঁচে গেলে পরে নতুন কৌশল খাটাবেনা অক্রিকেটার কর্তারা। এত গেল একটা সমস্যা। কিন্তু আরেকটি সমস্যা যে একেবারে জাতীয় দলের সাথে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। দল নির্বাচনে হস্তক্ষেপ বর্তমান বিসিবির (লোটাস কামালের বিসিবি) জন্য নতুন নয়। সভাপতির নাতির অপছন্দে আশরাফুল দলে স্থান পায় না এটা অনেকে জেনে গেছেন। আবার তামিমকেও তার অপছন্দ। তাই তো ১৫ জনের তালিকায় তার নাম দেখে কেটে দিতে দ্বিধা হয়নি। ফল স্বরূপ চাচা প্রধান নির্বাচক আকরামের বিদ্রোহ এবং পদত্যাগ। বিষয়টা মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত গড়াল। তিনি আকরামকে বুঝালেন ভবিষ্যতে লোটাস সাহেব এমন করবেন না। আকরাম যেন ফিরে আসে। কাকতালীয়ভাবে কামালকে বুঝিয়ে তামিমকে ঢোকানোর ব্যবস্থা করলেন বিসিবিতে কর্মরত সাবেক এক ক্রিকেটার। ফুটবলের মাঠ থেকে উঠে আসা কেউ কামালকে বিষয়টা বুঝালেন না! তামিমও ঢুকলো আকরামও এলেন। অনেকে এতে পক্ষপাতের গন্ধ খুঁজতে পারেন। হয়তো কেউ পেয়েও গেছেন। তাতে যদি বিসিবির বর্তমান অবস্থার পরিবর্তন হয় তবে এমন পক্ষপাতকে সমর্থন করা যায়। আমারও বিষয়টা কেমন যেন লেগেছে। আশরাফুল, নাফিস বা কাপালী বাদ পড়লে আকরাম চুপ ছিলেন আর ভাতিজা বাদ পড়ায় তার ইগোতে লাগল ব্যাপারটা কেমন গোলমেলে ঠেকছে। তবে ধরে নিচ্ছি মনের ভেতর জমতে থাকা চাপা ক্ষোভের বহি:প্রকাশ এই পদত্যাগ।
এত নাটক এত ক্লাইমেক্সের পর মাঠের পারফরম্যান্স কেমন হয় তা নিয়ে একটা সন্দেহ ছিল। মাশরাফি-রাজিব-সাকিবদের বল আর তামিম-নাজিম-নাসির-সাকিবদের ব্যাট তা হতে দেয়নি। গ্রাউন্ড ফিল্ডিংটা ছিল চমৎকার। শেষদিকে নাজিমের হাতে সৈয়দ আজমলের জীবন পাওয়াটা যেন চাঁদের কলঙ্ক হিসেবে এল। দুই চাঁটগাইয়া তরুণের ওপেনিং জুটি ছিল চমৎকার। সাবধানী কিন্তু আক্রমনাত্নক জুটি বাংলাদেশের দরকার ছিল। নাজিমুদ্দীন-তামিম জুটি সামনে ভাল করুক এই প্রার্থনা করছি। তিনে নাফিসকে সরিয়ে আনা জহুরুল হতাশ করেনি। তবে অসময়ে আফ্রীদিকে মারতে গিয়ে উইকেট দিয়ে আসার মধ্যে সেই চিরায়ত বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানের চরিত্র পাওয়া যায়। রহিম, রিয়াদ এলো আর গেলো। তাদের মনে হয় কোন তাড়া ছিল! পরের গল্প তিনজনের। তামিম, নাসির আর সাকিব। তিন তরুণ। একজনের ঘাড়ে নানা অপবাদ। সে বেয়াদপ, সে অভদ্র, সে কথা শোনে না, তার চাচার জন্য সে দলে, বিপিএলে বিদেশী কোচের সাথে ঝামেলা করেছে আরো কত কি। সেই তামিম খেলল স্বভাববিরুদ্ধ ইনিং। আউট হবার আগে কোন খুঁত ছিল না তার ইনিংসে। ফিফটি করার পর সে যেভাবে ব্যাট তুলে ধরেছিল তাতে অনেকের মুখে যে চড় পড়েছে তাতে সন্দেহ নেই। দুর্ভাগ্য তামিমের। ফিফটির পর বেশি সময় থাকতে পারেনি, হয়তো ক্লান্তি তার কারণ। তামিমের পর সাকিব-নাসির খেলাকে যেভাবে বাংলাদেশের নাগালে এনে ফেলেছিল তা দেখার মতো। বিপিএল এই মানসিকতা সৃষ্টিতে একটু হলেও অবদান রেখেছে। শেষ দিকে অবশ্য যোগ্য সঙ্গীর অভাবে সাকিবের পক্ষে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়া সম্ভব হয়নি। মাশরাফি, রাজ্জাক, শফিউল এদের অসময়ে উইকেট ছুঁড়ে আসা তাই বুকে শেলের মত বিধেছে। তবুও, বাংলাদেশ হারার আগে হারেনি। লড়াকু বাংলাদেশ দেখা গেল পাকিস্তানের সাথে। বাকি দুটো ম্যাচের অন্তত একটিতে জয় চাই। তা যদি হয় ভারতের বিরুদ্ধে তবে তা হবে সীমান্ত হত্যার দারুণ জবাব। তামিম যেমন জবাব দিয়েছে, বাংলাদেশের দামাল ছেলেরা ভারতকে হারিয়ে সীমান্তে অপমানের জবাব কি দিতে পারবে ?

বুধবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

প্রসঙ্গ বিপিএল

আমরা অনুকরণ করতে ভালবাসি। তা সে মন্দ কাজ হোক বা ভাল কাজ। তবে দেখা যায় মন্দ কাজের অনুকরণ বেশি করা হচ্ছে। ব্যক্তিকেন্দ্রীক বা গোষ্ঠীকেন্দ্রীক, সব নকলই আমরা করে থাকি। বেশ, নকল যখন করছিই তো ভাল করে করি। নকল নিয়ে লেখাবাজি করার কারণ আছে। কারণ একটা ক্রিকেট লীগ। নাম বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ। সংক্ষেপে বিপিএল। ফুটবলেও নাকি এমন একটা টুর্নামেন্ট রয়েছে, বাফুফে মিডিয়ার আলো পায়না বলে সেটা আমাদের মত আমজনতার নজরে খুব একটা আসে না। সে যাই হোক, দুটো কেন; দশটা বিপিএল হয়ে খেলাধূলায় আমরা এগিয়ে যেতে পারলে মন্দ কি। তা যে কথা বলছিলাম। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত, সেখানে কয়েক বছর আগে আইপিএল নামক একটা পাঁচমিশালী ক্রিকেট লীগ চালু হয়েছে। যাতে চিয়ার্স গার্ল, সিনেমার নায়িকাদের হাফ নেকড শরীরে বিভিন্ন দলকে সাপোর্ট দেয়া এসব যুক্ত করা হয়েছে। পুরোটাই ব্যবসায়িক চিন্তা। মানুষ ক্রিকেট মাঠে ক্রিকেটারদের মাঝে আর বিনোদন পায় না, তার এইসব নর্তকীদের কোমর দুলানো দেখতে হয়। বাহ কি মজা, খেলা দেখতে এসে বিনা পয়সায় কিছু নাচা-নাচি দেখা হলো। আমাদের বোর্ডের কর্তারাও এটা দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে থাকবেন, ভারতে দেখাদেখি অনেকেই এমন লীগ আয়োজন করা শুরু করেছে। আমরা না করলে কি হয়? বিভিন্ন চেষ্টার ফসল হলো এই বিপিএল। যার শুরতেই ক্রিকেট মিডিয়ার নিয়ন্ত্রক ভারত তাদের ক্রিকেটারদের দেয়া যাবে না জানিয়ে দিল। কত দেন দরবার, তবুও দাদাদের মন পাওয়া গেল না। তাতে কি, ক্রিকেটারদের পাওয়া যায়নি নায়িকাদের তো পাওয়া যাবে। ওদেরকে তো আর বিসিসিআই নিয়ন্ত্রণ করে না। টাকা ছড়ালে তারা এসে নেচে দিবে। তাই হলো। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নাচতে এল ভারতের কিছু অভিনেত্রী, আইটেম গার্ল। তাদের টাকার বিনিময়ে নৃত্য কর্মসূচী দেখে আমাদের চোখ হৃদয় জুড়িয়ে গেল। বাংলাদেশী টুর্নামেন্টে হিন্দী গান শুনে আমরা অতিশয় আনন্দ লাভ করলাম, আর বিশ্বকে বার্তা দিলাম আমাদের কৃষ্টি-সংস্কৃতি বলতে হিন্দী নাচ-গান ছাড়া তেমন কিছু নেই। বড় আশা ছিল বিপিএলে দেখব বাংলাদেশের কিছু তরুণের ব্যাট বলের নৈপুণ্য। সে আশায় গুড়ে বালি। পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের হুঙ্কারে দেশের ছেলেগুলো চুপষে থাকলো। সাথে ক্যারিবিয় দ্বীপপুঞ্জের একদল উইলোবাজ শাসন করে চললো দেশীয় বোলারদের। কি লাভ হলো শেষ পর্যন্ত ? বিদেশীদের ভারে দেশীয় ক্রিকোটাররা হা পিত্যেশ করে মরছে কখন সে ব্যাট করতে নামবে। সুযোগ আর হয় না, যখন হয় তখন নিজেকে প্রমাণের কিছু থাকে না। রান বাড়ানোর চাপে উইকেট বিসর্জন দিয়ে আসতে হয়। ডেথ ওভারে বোলিং এর সুযোগটাও হয়ে ওঠে না। তাহলে অভিজ্ঞতা বাড়ছে কিভাবে? দাদাদের আইপিএলে দেশের ক্রিকেটারদের খেলার সুযোগ হয় না, দেশীয় লীগেও যদি এমন হয় তবে শুধু ব্যবসায়িক ভাবনায় এমন লীগ আয়োজন করা কেন? খেলাটা টি২০, এটায় ভাল করলে খুব একটা নাম নেই যতটা হয় টেস্ট ক্রিকেটে ভাল করলে। সেজন্য চেষ্টা করছি কি আমরা ? দেশের প্রথম শ্রেণীর লীগটাকে পিকনিক টুর্নামেন্ট না বানিয়ে ব্যবসায়িদের সম্পৃক্ত করে বিপিএলের মত করলে কি খুব ক্ষতি হয়? আফসোস, আমরা খেলাধূলাতেও লাভ-ক্ষতির হিসাব কষি। দেশের সম্মানের কথা ভাবনায় আসে না। নকল যখন করতেই হবে, দাদাদের প্রথম শ্রেণীর লীগটাকে করি। আমাদের সাথে তাদের পরিবেশ মিলে যায়, অস্ট্রেলিয়ার নয়। অস্ট্রেলিয়ার মডেল নিয়ে পড়ে থাকা মানে কিছু না করা, শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট কাঠামোটাও যদি নকল করতাম তাহলে টেস্ট ক্রিকেটে এত পিছিয়ে থাকতে হতো না। এমন ভুরি ভুরি লেখা পত্রিকার পাতায়, ব্লগে এসেছে। কর্তাদের চোখে কখনোই এসব পড়ে না। তারা ভাবে ব্যবসা, আইপিএলের আদলে নাম দিতে হবে বিগ ব্যাশের মত নয়। আর আমজনতার (দর্শকের) আনন্দ, বেদনা হাওয়ায় মিলিয়ে যায় অর্থের টানে। তাদের জন্য ভাবার সময় কারো হয় না।

শনিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১১

বাংলাদেশের হার, আমার রিভিউ

বিশ্বকাপ ক্রিকেটের প্রথম ম্যাচ শেষ হলো কিছুক্ষণ আগে। ঢাকা শহরে থেকেও মাঠে বসে খেলা দেখতে পারলাম না। টিভিতে দেখেছি, তাও তো দেখা হলো। বিদ্যুৎ বিভ্রাটে পড়তে হয়নি, ধন্যবাদ কর্তৃপক্ষকে। খেলা পুরোটা না দেখলেও প্রায় আশি ভাগ দেখেছি। তা দেখে আমার ব্যক্তিগত মতামত লেখার দু:সাহস করছি। লিখতে বসেছি যখন তখন আর ছাড় দেব কেন, রাগ-হতাশা আশা-নিরাশা সব এখানে ঝেড়ে ফেলব।

প্রথমেই দেখলাম টস হলো, জিতলো আমাদের সাকিব-আল-হাসান। ভাবলাম হয়তো বলে উঠবে, “We are going to bat first.”। না, অবাক হয়ে শুনলাম সে ফিল্ডিং বেছে নিয়েছে। রাতে নাকি কুয়াশা পড়বে, তাতে সমস্যা হবে বোলারদের। তাই ফিল্ডিং। সে আরও জানালো ২৬০ এর মধ্যে বেঁধে রাখতে হবে ভারতকে। পরে ধোনীকেও যখন বলতে শুনলাম সেও ফিল্ডিং নিতো তখন ভেবে নিলাম সাকিবই ঠিক। আধঘন্টা পর খেলা শুরু হলো। শফিউলের পয়লা বল শেওয়াগ মাঠের বাইরে পাঠালো সবুজ মাঠে চুমো খাইয়ে। এরপর পেসারদের নিয়ে ছেলেখেলায় মেতে উঠলো শেওয়াগ-শচীন। বারবার মাশরাফির জন্য আফসোস হচ্ছিল তখন। কেন তার কপালে ইনজুরি জোটে ? সে থাকলে এমন বস্তাপঁচা বোলিং হয় না, ম্যাশের আড়ালে অন্য পেসাররাও ভরসা পায়। পুরো পঞ্চাশ ওভার জুড়েই বোলাররা বেদম পিটুনি খেলো ভারতের ব্যাটসম্যানদের হাতে। মার খেয়ে খেয়ে ৩৭০ রান দিয়ে বসলো। শেওয়াগ তুলে নিল এবারের টুর্নামেন্টের প্রথম শতক, তাকে সঙ্গ দিয়ে বিরাত কোহলিও শতকের দেখা পেল। এমন ছন্নছাড়া বোলিং করলে সামনে বাংলাদেশ দলের কপালে খারাপী আছে এটা বেশ বুঝতে পারছি।



ব্যাটিং কিছুটা হলেও বোলিং'র দু:খ ঢেকেছে। তামিমের খোলস বন্দী হয়ে করা ৭০, সাকিবের অসময়ে তেড়েফুঁড়ে করা ৫৫, ইমরুলের অবাক করা ঝড়ো ব্যাটিং দুপুরের ক্ষতে মলমের কাজ করেছে। ভালো লেগেছে শ্রীশান্তের এক ওভারে দেয়া ২৪ রানে ইমরুলের ভূমিকা আছে দেখে। তবে রিয়াদ-নাইমের ব্যাটিং দেখে মনে হয়েছে সেখানে অলক কাপালী থাকলে আরো কিছু রান যুক্ত হতে পারতো। রিয়াদ কোনকালেই সাত নম্বর ব্যাটসম্যান নয়, তবুও সে এই পজিশনে ব্যাট করে। আর নাইম সেই যে ছক্কা মেরে জিম্বাবুয়ের সাথে ম্যাচ জিতালো তারপর থেকে ছক্কা মারাই ভুলে গেলো। তাই লেজের দিকে যে দুর্বলতা তা ব্যাটিং পাওয়ার প্লের প্রয়োজন কিভাবে মেটাবে বোধগম্য হলো না। তবে ২৮৩ রান খারাপ নয়। আশা করেছিলাম ৩১০-৩২০ করে আরো ভালো জবাব দেবে তারা। আফসোস ৩৫ ওভারে ২০২ হবার পরেও শেষ ১৫ ওভারে ৭ উইকেট নিয়ে ১০০ রান যোগ করতে পারলো না টেল-এন্ডাররা।



মেলা বকলাম, এবার থামি। শেষ কথা বলবো দলে আরো দুইজন হার্ডহিটার দরকার ছিল। রিয়াদ-নাইম বা রকিবুল-জুনায়েদ নামক ব্যাটসম্যানদের নিয়ে ৩০০ রান চেজ করার চিন্তা অসম্ভব। তবুও ভালো খেলেছে বাংলাদেশ, সামনে আরো ভালো খেলবে এটাই প্রত্যাশা। পনের কোটি মানুষের আশা তো এমনি এমনি মিটিয়ে যাবার নয়।

বৃহস্পতিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১১

যেমন দেখলাম বিশ্বকাপ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান








হয়ে গেল, শেষ পর্যন্ত শুরু হয়ে গেল দশম বিশ্বকাপ ক্রিকেট। বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কার শিল্পীদের চমৎকার পরিবেশনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি এককথায় ছিল অসাধারন। শুরু হয়েছিল বিসিবি সভাপতি কামাল সাহেবের বক্তৃতার মাধ্যমে। উনি ইংরেজীটা ভালো বললেও বাংলা অংশে এসে স্টেডিয়ামকে বানিয়ে দিলেন পল্টনের জনসভা। এরপর আমাদের খেলার প্রতি মন্ত্রী এলেন। তিনি দাঁত মুখ খিঁচে উচ্চস্বরে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে গেলেন। একবার শুনলাম তিনি বলছেন টু জিরো জিরো ওয়ান ওয়ার্ল্ড কাপ (!)। হায়রে মন্ত্রী তিনি টু থাউজ্যান্ড ইলেভেন সালের কথাও বেমালুম ভুলে গেলেন, অবশ্য কিছুদিন আগে নাকি তিনি বলেছিলেন সম্রাট শাহজাহান লাল কেল্লা বানিয়েছেন বাইশ বছরের সাধনায়। ওনার কাছে ভালো কিছু আশাও করিনি। ভালো লেগেছে অর্থমন্ত্রীর কথা। অত্যন্ত সাবলীলভাবে তিনি বলে গেলেন। ঐ সময়টায় শেয়ার বাজার নিয়ে তার বিভিন্ন কটূ মন্তব্য ভুলে গেলাম। গর্বে বুকটা ভরে উঠলো। একজন স্মার্ট মন্ত্রীর বক্তব্য শুনলাম। আইসিসি প্রেসিডেন্ট শারদ পাওয়ার ভালোই বলেছেন। বাংলা বলে আমাদের ভাষার প্রতি সম্মান দেখিয়েছেন। তবে শেষে “বাংলাদেশ জিন্দাবাদ” বলে অনেকের চোখে হয়তো ভিলেন হয়ে গেছেন পাওয়ার সাহেব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাংলায় ২০০১ সালের বিশ্বকাপ উদ্বোধনের কথাটা দৃষ্টিকটূ লেগেছে। ইংরেজীতে কি বললেন বুঝতে পারলামনা!











অনুষ্ঠান জুড়ে ছিল দারুণ সব ফায়ারওয়ার্কস। প্রথমে এ প্রজন্মের কিছু শিল্পী একটা গান গাইলেন, তেমন একটা মন ছুঁতে পারেনি সেটা। তবে সাবিনা ইয়াসমিন, রুনা লায়লাদের পরিবেশনা ছিল অত্যন্ত ভালো। এদের সাথে একই মঞ্চে মমতাজকে দেখে মনের কোথায় যেন খাপছাড়া ভাবটা জেগেছে। তবে শিল্প ব্যাংকের দেয়ালে খেলা ক্রিকেটে ছিল নতুনত্বের ছোঁয়া। এইডসের উপরে শেওয়াগ ও সাঙ্গাকারার করা প্রামাণ্যচিত্র ভালো ছিল। তবে এরচেয়েও দৃষ্টিনন্দন ছিল পর্যটন কর্পোরেশনের করা প্রামাণ্যচিত্র। ধন্যবাদ তারা পেতেই পারে। ভারতের শিল্পীদের পরিবেশনার চেয়ে ভালো লেগেছে শ্রীলঙ্কার পরিবেশনা। ভারতের নাচ-গান মনে হয়েছে সিনেমা নির্ভর। বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন, একাত্তর, উপজাতীয়দের জীবনচিত্র ইত্যাদি নিয়ে পরিবেশনা ছিল বেশ উপভোগ্য। তবে শেষদিকে কানাডিয়ান তারকা শিল্পী ব্রায়ান এডামসের পারফর্ম্যান্স পুরো অনুষ্ঠানকে দিয়েছে আন্তর্জাতিকতার চাদর। দারুণ গেয়েছেন এডামস তার দল নিয়ে। এরপর শঙ্কর-এহসান-লয়ের থিম সঙ পরিবেশনাও ছিল এককথায় অপূর্ব। শঙ্করের গলায় বাংলা শুনে মনে হয়নি তার মাতৃভাষা বাংলা নয়। তাদের গানের তালে তালে সন্ধ্যার আকাশ আগুনের রঙে রাঙিয়ে শেষ হয় অনুষ্ঠান।

তবুও একটা কথা বলা হয়নি। বিশ্বকাপ মাস্কট স্টাম্পি ট্রলিতে চেপে মাঠে প্রবেশ করে। মূল মঞ্চে অংশগ্রহণকারী চৌদ্দ দলের অধিনায়কদের রিকশায় করে আসাটা ছিল ব্যতিক্রমি উদ্যোগ। সনু নিগাম তাদের দাঁড় করিয়ে গেয়েছিলেন যেটা ভালো লাগেনি আমার। এরচেয়ে ভালো ছিল ছায়ানটের শিল্পীদের গাওয়া সেই গান, যা জাগিয়ে তোলে দেশমায়ের প্রতি ভালোবাসা।

আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।”

আর মাত্র কয়েক ঘন্টা

ঘনিয়ে আসছে সময়। বাংলাদেশে উদ্বোধন হতে চলেছে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের দশম আসর। আর মাত্র কয়েকটা ঘন্টার অপেক্ষা। তারপর সেই ক্ষণ, তিন দেশের সঙ্গীত শিল্পীদের সুরের মূর্ছনায় ভেসে যাবে ক্রিকেট বিশ্ব। বাড়তি পাওয়া কানাডিয়ান শিল্পী ব্রায়ান এডামসের পারফরম্যান্স। বিশ্বকাপ উপলক্ষে দারুণ সাজে সেজেছে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম, মিরপুর ক্রিকেট স্টেডিয়াম। ঢাকার রাস্তায় লেগেছে আলোকসজ্জা। মিডিয়ায় ক্রিকেট বিশ্লেষকদের আলোচনার ঝড়, বিজ্ঞাপনে ক্রিকেট, টি-শার্টে বিশ্বকাপ, পাড়ায়-মহল্লায় আলোচনায় বিশ্বকাপ। সবই ঠিক আছে, তবুও কোথায় যেন অনিশ্চয়তা। ফতুল্লায় সিঁড়ি ভেঙে কানাডার একজন ক্রিকেটারের আঘাত পাওয়া, চট্টগ্রামে বিমানের যান্ত্রিক ত্রুটি ভালো সব কাজের ভিড়ে কলঙ্কের ছাপ ফেলেছে বৈকি। তবুও আমরা স্বপ্ন দেখি সফল আয়োজক হবার। যাতে সবাই মনে রাখে বাংলাদেশের আয়োজনের কথা। ২০১৪ সালের টি-২০ বিশ্বকাপের আগেই তো এসব ত্রুটি সারাতে হবে, যাতে এবারের হাত ধরে আগামীবার আরো জাঁকজমক হতে পারে আয়োজন। বিসিবির নিজস্ব স্টেডিয়াম থাকলে হয়তো এখনও অব্যবস্থাপনা থাকতো না, দুর্ভাগ্য সবই ক্রীড়া পরিষদের হাতে। তারা ফাইল চালাচালি করে কালক্ষেপণ করে বিশ্বকাপ আয়োজনে কালিমা লেপনের কর্মটি প্রায় করে ফেলেছেন। তবুও চেষ্টা চলছে সবকিছু ঠিকঠাক করার, করতেই তো হবে। দেখাতে হবে না, ইচ্ছা করলে আমরা ৯ মাসেও স্টেডিয়াম প্রস্তুত করতে পারি।

রবিবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১১

ওয়ানডে তালিকায় আট নম্বরে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ টেস্ট পরিবারের সদস্য হয়েছে প্রায় দশ বছর। এখনো আমরা তলানির টেস্ট দল। জিম্বাবুয়ে আভ্যন্তরীণ কোন্দলে নিজেদের তুলে না নিলে এখনো হয়তো দশ নম্বরেই পড়ে থাকতো বাংলাদেশ। এখন নয় নম্বর, জিম্বাবুয়ে যে খেলছে না। কিন্তু ওয়ানডেতে ভালো দলের তকমা বেশ কিছুদিন ধরে বাংলাদেশের গায়ে। ম্যাচ জিতছে, সিরিজ জিতছে, তবুও একটা অতৃপ্তি ছিল। সেটা হচ্ছে ওয়ানডে দলের তালিকায় নয় নম্বর অবস্থানে থাকা, কিছুতেই যেন বাংলাদেশ উপরে উঠতে পারছিলো না। একটা না একটা ঝামেলা হয়ে যাচ্ছিল। জিম্বাবুয়েকে হোয়াইট ওয়াশ বা ৪-১ ব্যবধানে হারাতে পারলেই নাকি নয় থেকে আটে উত্তরণ ঘটতো বাংলাদেশের। না হয়নি। প্রথম ম্যাচে চারটি রানআউট কেলেঙ্কারীতে হার আর একটি ম্যাচ চট্টগ্রামের মাঠ ভেজা থাকায় অনুষ্ঠিত না হতে পারায় ফসকে গেল সুযোগ। আবার প্রায় কাছাকাছি সময়ে আট নম্বরে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ শ্রীলঙ্কায় বৃষ্টিতে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে পারলো না। এবার আচমকাই সুসংবাদটা পেয়ে গেল বাংলাদেশ। বৃষ্টিতে নষ্ট হওয়া সিরিজ আবার খেলতে শ্রীলঙ্কায় আসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সিরিজ হেরে ওডিআই তালিকার পয়েন্ট হারায় তারা, এই সুযোগে বাংলাদেশ উঠে গেল তাদের উপরে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ নেমে গেল আট থেকে নয়ে। আর বাংলাদেশ উঠে এল আটে। বিশ্বকাপের আগে আর কোন খেলা নেই। তাই একথা বলা যায় এবার বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দুই বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের উপরে থেকেই খেলা শুরু করবে। এমন সময়ে ক্রিকেটাররা যদি নিজেদের দেশপ্রেম জাগিয়ে তুলে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে তাহলে আরো সুসংবাদ আমাদের জন্য অপেক্ষা করবে।

আসুন, তেমনি একটি সুসংবাদের আসায় বিশ্বকাপের কাউন্ট-ডাউন শুরু করি।

শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০১১

১৫ জন ক্রিকেটার ও ৩ নির্বাচক সাথে ১ জন সমালোচক

আমরা সহজ কথা বুঝতে চাই না, বুঝলেও জল ঘোলা না করে বুঝি না। নিজের কথাই বলি, পড়ালেখা যখন করতাম তখন পরীক্ষায় প্রত্যাশিত নম্বর না পেলে মনে হতো শিক্ষক মহাশয় হয়তো আমার প্রতি রুষ্ট। তাই নম্বর কম দিয়েছেন। নিজে যে পড়ায় ফাঁকি দিয়েছি সেটা বুঝতেই চাইতাম না। তরকারীতে লবণ না হলে লঙ্কাকাণ্ড না বাধিয়ে অনেকেই শান্তি পান না। রন্ধনও যে একটা শিল্প আর তা যে ত্রুটিযুক্ত হতে পারে তা বুঝতে চাই না। রাঁধুনীকে গালাগাল না করলে ভাত হজম হয় না। এসবের অবতারণা করলাম কিছু মনের কথা বলবো বলে। আমি বরাবরই বাংলাদেশের ক্রিকেটের খোঁজ-খবর রাখি। বিশ্বকাপের দল নিয়েও ছিল বিস্তর আগ্রহ। স্থানীয় মিডিয়া, সাবেক ক্রিকেটার, সাধারণ পাঠক সবাই ছিল নানান রকম বিশ্লেষণে ব্যস্ত। যার যার যুক্তিতে সবাই দল সাজিয়েছেন। আমিও বাদ যাই কেন ?

দল নাকি নির্বাচকেরা আগেই ঠিক করে রেখেছিলেন। ঘোষণার বাকি ছিল। যাতে নাম ছিল না মাশরাফি বিন মুর্তজার। বর্তমান নির্বাচকদের চক্ষুশূল অলক কাপালী, সৈয়দ রাসেল তো বরাবরের মতোই উপেক্ষিত। তো এই দল বিসিবি অনুমোদন দিতে গিয়েই ঝামেলাটা বাধল। মাশরাফি দলে নাই, তাহলে অভিজ্ঞ অলককে নেয়া হোক। আশরাফুলের ওপরও বিসিবির ভরসা নেই, তাই সেও বাদ পড়ুক। না, নির্বাচক মন্ডলী তা হতে দিবেন না। তাহলে নাকি তারা পদত্যাগ করবেন। দুইদিন ধরে চলল ম্যারাথন মিটিং। দল ঘোষণার শেষ দিনে সকালে আশরাফুল বাদ পড়ে অলক ঢুকছেন আর নির্বাচকেরাও পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন এমন গুঞ্জন ভাসতে লাগল। শেষ পর্যন্ত এমনটি হয়নি। আশরাফুল বহাল তবিয়তে দলে আছেন, বেচারা অলক এবারও উপেক্ষিত থেকে গেলেন। মাশরাফি বাদ পড়লেন ইনসজুরির অজুহাতে।

নির্বাচকেরা কিছু যুক্তি দেখিয়েছেন। দেখা যাক সেগুলো কি:

আশরাফুল : অভিজ্ঞতা, ঘরোয়া ক্রিকেটে দূর্দান্ত পারফরম্যান্স তাই সে দলে। বড় আসরের খেলোয়াড় সে।
অলক কাপালী : সে দুই বছর ধরে দলে নেই, ঘরোয়া ক্রিকেট তেমন কিছু করতে পারেনি। তাই এবার রাখলাম না।
মাশরাফি : ইনজুরি আক্রান্ত বলে ফিট নয়। তাই সে উপেক্ষিত।

যুক্তির পসরা ভালোই সাজাতে পারেন নির্বাচকেরা। আশরাফুল বড় আসরের খেলোয়াড়, এটা ঠিক অস্বীকার করছিনা। তবে বর্তমানে যারা ক্রিকেটের খোঁজ রাখেন তারা জানেন আশরাফুল আমাদের জন্য নারীদের চেয়েও যেন ছলনাময়ী। কখন তার ব্যাট কথা বলবে, কখন তিনি স্বমহিমায় উদ্ভাসিত হবেন কে জানে! তার স্বমহিমা কি সেটাও গবেষণার বিষয় হতে পারে। এক ম্যাচ ভালো করে পরের অনেকগুলো ম্যাচ নিশ্চিত জেনে শীতনিদ্রা দেয়া নাকি ঐ যে কদাচিৎ এক ম্যাচ ভালো খেলা সেটা? ঘরোয়া ক্রিকেটে সবসময় ভালোই খেলে আশরাফুল, এতে সন্দেহ নেই। কিন্তু তার ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফরম্যান্স কখনোই ভিনদেশী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অনূদিত হয়নি। তবুও তিনি বারবার একই যুক্তিতে দলে আসেন এবং আমরা হতাশ হই। নির্বাচকদের সাথে আছে মিডিয়া, তারা দোষ-গুণের মানুষ আশরাফুলকে শুধু গুণবাচক বিশেষণে বিশেষায়িত করেন। তাই জনগণের প্রবল আপত্তি ধোপে টিকে না, আশরাফুল দলে ঢোকেন আর আমরা মার্কা মারা জনগণ পাড়ায়, কলেজের ক্যান্টিনে আড্ডায় বসে সেসব নিয়ে জ্বালাময়ী বক্তৃতা দিতে ব্যস্ত থাকি। একেকজন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ কিনা!

অলক কাপালীর প্রসঙ্গে আসি। এই ছেলের ফ্যান আমি তখন থেকে যখন রেডিওতে ঢাকা লীগের খেলা প্রচার হতো। তখন অলক মনে হয় সদ্য খেলা শুরু করেছে, নিয়মিত রান করছে, উইকেট নিচ্ছে। ভাবতাম ভারতীয় নাকি। পরে তাকে ব্যাট করতে দেখি ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে, টিভির পর্দায় অবশ্যই। তার ব্যাটিং সৌন্দর্যে দারুণ মুগ্ধ হয়ে যাই, তার লফটেড শট, অফ ড্রাইভ, পুল-হুক দারুণ শিহরণ জাগায় তখন। কারণ দলে এমন ছবির মতো সুন্দর ব্যাটিং কেউ করতে পারতো না। তো সেই অলক সময়ের বাঁকে পড়ে দল থেকে হারিয়ে গেল। আশরাফুল যদি বারবার সুযোগ পেতে পারে তাহলে অলক কেন নয় ? আশরাফুল ২০০৫ সালে অসিদের বিপক্ষে করা শতক দিয়ে দলে বারবার আসতে পারলে অলকের আছে ২০০৮ সালে ভারতের সাথে করা শতরান কেন বিবেচনায় আসবে না ? সেই শতরানও যে যথেষ্ট চিত্তাকর্ষক ছিল তা মিডিয়াও স্বীকার করে। ম্যাচ যেতা হয়নি চারটি ক্যাচ মিস করায়, নাহয় ২৮০ এর ঘরে রান থেকেও দল হারে কি করে ? অলক নেই হয়তো তার লবিং নেই বলে, মিডিয়াও অন্ধের মতো‌ তাকে ভালোবাসে না। একটা তথ্য দিয়ে অলককে নিয়ে কথা শেষ করছি। এবারের লীগে মোহামেডান ৩৩৯ রান করেছিল। সে রান তাড়া করে অলকের গাজী ট্যাংক। ফল কি হয়েছিল জানেন ? গাজী ম্যাচ জিতে নেয় যেখানে অলক করেন ৩৫ বলে ৬৩ রান (অপরাজিত), এত রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড কেউ বের করতে পারলেন না স্মৃতি হাতড়েও।

মাশরাফির ইনজুরি যেমনই হোক তাকে দলে না নেয়ায় খুব আপসেট হইনি। এমনিতেই দুই জন পেসার নিয়ে খেলবে বাংলাদেশ, খেলার মাঝে যদি মাশরাফি আবার বল করতে গিয়ে পড়ে যায় ? কে হবে থার্ড সিমার ? এ উত্তর জানা নেই, তাই এই সাহসী সিদ্ধান্তের জন্য নির্বাচকদের ধন্যবাদ। মাশরাফির উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য শুভ কামনা।

এত কিছু বললাম, যে দল ঘোষিত হলো সেটা নিয়ে কিছু বললাম না। এটা ঠিক হচ্ছে না। দেখা যাচ্ছে দলে ওপেনার আছেন চারজন (তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, শাহরিয়ার নাফিস ও জুনায়েদ সিদ্দীক)। এদের মধ্যে তামিম ও ইমরুল ওপেন করবে নিশ্চিত। তবে তিন নাম্বারে জুনায়েদ না নাফিস এই প্রশ্ন আমাকে করলে আমি নাফিসকে বেছে নিলেও সিডন্স সম্ভবত জুনায়েদকেই বেছে নিবেন। তাই নাফিসকে একাদশে দেখতে না পাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। চারে রকিবুল হাসানকে নিয়ে অনেকের আপত্তি থাকলেও সিডন্সের ভালোবাসায় সিক্ত রকিবুল অটোমেটিক চয়েস। তাই আশরাফুলকেও একাদশের বাইরে থাকতে হবে। এরপর যথারীতি সাকিব, মুশফিক, নাইম, শুভ, শফিউল, রাজ্জাক, রুবেল। এই মোটামুটি দল হতে পারে। তবে এসব প্লেয়ারদের মধ্য হতে আমি দল সাজালে নিম্নরূপ হবে:

তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, শাহরিয়ার নাফিস, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, মো: আশরাফুল, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, নাইম ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক, শফিউল ইসলাম ও নাজমুল হোসেন। দলের বাইরে থাকবে জুনায়েদ সিদ্দীক, রকিবুল হাসান, রুবেল হোসেন ও সোহরাওয়ার্দী শুভ। দলে বৈচিত্র্য কম, অলক কাপালীর জন্য আবারো আফসোস হচ্ছে। শুভর জায়গায় সে থাকলে দলটা আরো ব্যলান্সড মনে হতো। বর্তমান দল খুব খারাপ করবেনা, আবার একদম ফাটাফাটি ফল করবে বলে মনে হয় না। তবে একাদশ নির্বাচন ও ব্যাটিং অর্ডার সাজানোয় দক্ষতার পরিচয় যদি ম্যানেজম্যান্ট দিতে পারে তাহলে ভালো কিছু আশা করা যায়। অন্যথায় বাজে রেজাল্টের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে।

সবশেষে শুভকামনা দলের জন্য। সকল সমালোচনা শেষ হয়ে যাবে দল ভালো করলে। আর যদি নির্বাচকদের একগুঁয়েমিতে দল খারাপ করে বসে তাহলে মানুষের কাছে ভিলেন হয়ে থাকবে নির্বাচক কমিটি ও বিসিবি।

শনিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০১১

আমার বিশ্বকাপের দল

বিশ্বকাপ ক্রিকেটের জন্য ২৩ সদস্যের দল দিয়েছে নির্বাচক কমিটি। দল দেখে খুব খারাপ মনে হয়নি। এখন আমার ইচ্ছে করছে এদের মধ্য হতে ১৫ জনকে বাছাই করতে। দেখা যাক আমি পারি কিনা।

প্রথমেই ওপেনিং স্লট। এখানে তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েসকে বাদ দেয়ার কারণই নেই। দুই জনই আমার অটোমেটিক চয়েস। তিন নম্বরে আমি চাই শাহরিয়ার নাফিসকে, তার বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা, স্পিনে দক্ষতা ও বড় ইনিংস খেলার মানসিকতায় সেও আমার অটোমেটিক নাম্বার থ্রী ব্যাটসম্যান। জুনায়েদ তাই বাদ পড়ছে। চার নম্বরে আমি চাইব মুশফিকুর রহিমকে। তার ব্যাটিং টেকনিক ভালো, শুরুটা ধীরে করে ইনিংস বড় করতে পারে, প্রয়োজনে বলের সাথে পাল্লা দিয়ে রান তুলতে পারে। এরপরে পাঁচ নম্বরে সাকিব আল হাসান আসছে নির্দ্বিধায়। ছয় নম্বরে অলক কাপালী, আমার প্রিয় একজন ক্রিকেটার। তার প্রতি অবিচার করা হয়েছে, হচ্ছে। ধরে খেলার পাশাপাশি ব্যাটিং পাওয়ার প্লের সমস্যার সমাধান হতে পারে কাপালী। তাই আমার পছন্দ কাপালীকে ছয় নম্বরে। সাত নম্বরে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ অথবা নাইম ইসলাম। বর্তমান ফর্মে নাইম বাদ পড়ছে, টিকে যাচ্ছে রিয়াদ। প্রয়োজনে তাকে ছয়ে ও কাপালীকে সাতে নামানো যায়। আট নম্বরে আমি রাখব সোহরাওয়ার্দী শুভকে। যদি তিন পেসার নামানোর দরকার হয় তাহলে শুভ বাদ পড়বে। নয় নম্বরে মাশরাফি মুর্তজা, যার জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করব। দশে রাজ্জাক ও এগারোয় শফিউল ইসলাম।

এরপর বাকী চারজন। একজন ব্যাকআপ ওপেনার হিসেবে থাকছে জুনায়েদ সিদ্দীক, মিডল অর্ডারের জন্য আশরাফুল ও রকিবুল এবং অতিরিক্ত পেসার হিসেবে থাকছে রুবেল হোসেন। আশরাফুলকে রাখব তার অভিজ্ঞতার জন্য, দলে তার জায়গা বের করা কঠিন। তবে আমি শুভর স্থলে রাখতে পারি বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি সুযোগ পাওয়া এই ব্যাটসম্যানকে।

তাহলে দলটা দাঁড়াল এরকম:

তামিম ইকবাল

ইমরুল কায়েস

শাহরিয়ার নাফিস

মুশফিকুর রহিম

সাকিব আল হাসান

অলক কাপালী

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ

সোহরাওয়ার্দী শুভ

মাশরাফি মুর্তজা

আব্দুর রাজ্জাক

শফিউল ইসলাম

অতিরিক্ত:

জুনায়েদ সিদ্দীক

মো: আশরাফুল

রকিবুল হাসান

রুবেল হোসেন

এর বাইরে স্ট্যান্ড বাই হিসেবে থাকছে :

নাজমুল হোসেন

জহুরুল ইসলাম অমি

নাইম ইসলাম

তাহলে সংক্ষেপে দলটা কেমন হলো ? ওপেনার চার জন (তামিম, ইমরুল, নাফিস, জুনায়েদ), পেসার তিন জন (মাশরাফি, রুবেল, শফিউল), মিডল- অর্ডার ব্যাটসম্যান পাঁচ জন (সাকিব, কাপালী, রিয়াদ, আশরাফুল, রকিবুল), কিপার এক জন (মুশফিক), স্পিনার দুই জন (রাজ্জাক, শুভ)। দু:খিত ছক্কা নাইমের জন্য, তার ফর্ম ইদানিং ভালো যাচ্ছে না। আশরাফুল টিকে গেছে দুটো বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতার জন্য। আমি জোর দিয়েছি ব্যাটিং এ, কারণ বিশ্বকাপে ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে সেটাই দরকার। তবে বোলারদের উপর আস্থা রাখছি। জানি এমন দল হয়তো হবে না, তবুও ব্লগে লিখে রাখলাম। একসময় বলতে পারব বিশ্বকাপের জন্য আমারও পছন্দের একটা স্কোয়াড ছিল।

শুক্রবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১০

আশরাফুলের কান্না ও কিছু বাস্তবতা

খবর পড়লাম আশরাফুল নাকি আজকের ম্যাচ শেষে কেঁদেছে। তার টিমমেটরাই সেটা জানিয়েছে সাংবাদিকদের। দ্বাদশ ব্যক্তি হিসেবে বোতল-তোয়ালে টানাটানির কাজ করেছে আশরাফুল। এটা নিয়ে অনেকেই দেখলাম ব্যথিত। আশরাফুলের জায়গায় আমি থাকলেও হয়তো বিব্রত বোধ করতাম। আমি বিষয়টা অন্যভাবে দেখতে চাই।

নিউজিল্যান্ডের সাথে সফল একটা সিরিজ শেষ করে তামিম আসলেও দলে জায়গা পাবে এটা আশা করেছিল শাহরিয়ার নাফিস। নির্বাচকরা তখন কূটচালে ব্যস্ত কি করে আশরাফুলকে দলে রাখা যায়। তারা এশিয়ান গেমসে আশরাফুলকে নেতা করে পাঠাল। ভুলে গেল টি-২০ তে অন্যতম সফল খেলোয়াড় অলোক কাপালীর কথা। জাতীয় দলে জুনায়েদ-রকিবুলও থাকবে আবার আশরাফুলও থাকবে। বলির পাঁঠা বানানো হলো একটা ম্যাচও না খেলতে দেয়া জহুরুল ইসলাম অমি ও সফল ব্যাটসম্যান শাহরিয়ার নাফিসকে। সমালোচনা এড়াতে দল প্রকাশ করা হলো বিলম্বে। তবুও সমালোচনা হলো এবং মাথা মোটা নির্বাচকরা নির্বিকার থাকতেই পছন্দ করলেন।

কেউ কি ভেবেছেন নাফিস, অমির হৃদয় চিরে আসা দু:খবোধের কথা ? কিংবা বারবার আশায় থাকা অলোক কাপালীর একটু সুযোগ না পাওয়ার বেদনার কথা ? তাদের কান্না পত্রিকায় আসে না, আসে আশরাফুলের কান্নার সংবাদ। অথচ কি এমন গড় এই আশরাফুলের ? নির্বাচকরা কি করে শাহরিয়ার নাফিসের মতো জিম্বাবুয়ের সাথে ৬২ গড় থাকা ব্যাটসম্যানকে বাদ দেয় ?

আমার মনে পড়ছে আকরাম - বুলবুলের কথা। তারা নির্বাচকদের ভালোবাসা কখনো পাননি। কিংবা দুর্জয়, নান্নু। সময় বড় নিষ্ঠুর। সে সময়ের কাছে ধরা খেয়ে যাচ্ছে আশরাফুল - মাশরাফি। বর্তমান বড় কঠিন, নির্বোধ ব্যাটিং কিংবা ধারহীন বোলিং দিয়ে দলে টিকে থাকা বড়ই কঠিন। হয়তো সময় হয়েছে এদের বিদায়ের, তবে তা যেন হয় সাময়িক। রফিক, পাইলটদের মতো যেন আশরাফুল- মাশরাফির করুণ বিদায় না হয়। তবে বিশ্বকাপের দলে আশরাফুলকে দেখতে চাই না। মাশরাফি থাকুক, ও আশরাফুলের মতো এতো বাজে পারফরম্যান্স দেখাবে না, এই বিশ্বাস আমার আছে।

শনিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১০

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রথম সোনা

২৬ শে নভেম্বর ২০১০ বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় দিন হিসেবে লেখা থাকবে। এদিন দীর্ঘ ৩২ বছরের হাহাকার ঘুচে যায় ক্রিকেটের কল্যানে। এশিয়ান গেমসে ১৯৭৮ সাল থেকে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। ১৯৯০ সালে কাবাডি যুক্ত হওয়ায় নিয়মিত পদক আসছিল কাবাডির মাধ্যমে। যদিও তা সীমাবদ্ধ ছিল রূপা বা ব্রোঞ্জে, স্বর্ণ কখনোই জেতা সম্ভব হয়নি। এবার তাও জিতলো বাংলাদেশ। কারন ক্রিকেটের অন্তর্ভূক্তি। দল পাঠায় পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা, ভারত পাঠায়নি আভ্যন্তরীণ কোন্দলের জন্য (সম্ভবত)। প্রমীলা ক্রিকেটের সংযোজনও ছিল একটা চমক। প্রথমে মেয়েরা রূপা এনে দেয় ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হেরে, যেখানে অনুপস্থিত ছিল ভারত ও শ্রীলঙ্কা। অন্যদিকে পুরুষদের ক্রিকেটে কোয়ার্টার ফাইনালে মালয়েশিয়া, সেমিতে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে যায় আশরাফুলের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল। ফাইনালে ছিল আফগানিস্তান, যারা সেমিতে পাকিস্তানকে হারিয়ে এসেছে।

ফাইনাল কিছু হলেও দেখেছি, টেন স্পোর্টস খেলা দেখিয়েছে। আফগানিস্তান খুব ভালো খেলেছে। আমি আশাবাদী, এরা ভালো করবে ভবিষ্যতে। অন্যদিকে বাংলাদেশের কাছে প্রত্যাশা আরো বেশী ছিল। তারা আফগানদের অলআউট করতে পারেনি, আবার জয়ের জন্য শেষ ওভার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। শেসদিকে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের রোমানের ব্যাটিং নতুন ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দেয়। করিম খান সাদেকের ওভারে নেয়া ২টি ছক্কাময় ১৭ রান জয় নিশ্চিত করে দেয় বাংলাদেশের। জয় জয়ই, তা যেভাবেই আসুক। ধন্যবাদ বিসিবি, ক্রিকেটারদের এবং যারা চীনে ক্রিকেট প্রচারে সহায়তা করেছেন (এরা হলেন সৈয়দ আশরাফুল হক, আমিনুল ইসলাম বুলবুল, মঞ্জুরুল ইসলাম ও গ্রাউন্ডসম্যান জসিম)। বাংলাদেশের গ্রাউন্ডসম্যান জসিমের প্রস্তুত করা পিচেই ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ, ভাবতেই গর্বে বুকটা ফুলে যায়।

জয়তু ক্রিকেট, জয়তু বাংলাদেশ।

Like us on Facebook