বুধবার, ৪ মার্চ, ২০১৫
ক্রিকেট, বিশ্বকাপ ও সমসাময়িক ঘটনা
মঙ্গলবার, ২০ মার্চ, ২০১২
আরেকবার আনন্দে ভাসতে চাই
শনিবার, ১৭ মার্চ, ২০১২
বাংলাদেশের আরেকটি ভারতবধ
সোমবার, ১২ মার্চ, ২০১২
এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচ: যেমন দেখলাম
বুধবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১২
প্রসঙ্গ বিপিএল
শনিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১১
বাংলাদেশের হার, আমার রিভিউ
প্রথমেই দেখলাম টস হলো, জিতলো আমাদের সাকিব-আল-হাসান। ভাবলাম হয়তো বলে উঠবে, “We are going to bat first.”। না, অবাক হয়ে শুনলাম সে ফিল্ডিং বেছে নিয়েছে। রাতে নাকি কুয়াশা পড়বে, তাতে সমস্যা হবে বোলারদের। তাই ফিল্ডিং। সে আরও জানালো ২৬০ এর মধ্যে বেঁধে রাখতে হবে ভারতকে। পরে ধোনীকেও যখন বলতে শুনলাম সেও ফিল্ডিং নিতো তখন ভেবে নিলাম সাকিবই ঠিক। আধঘন্টা পর খেলা শুরু হলো। শফিউলের পয়লা বল শেওয়াগ মাঠের বাইরে পাঠালো সবুজ মাঠে চুমো খাইয়ে। এরপর পেসারদের নিয়ে ছেলেখেলায় মেতে উঠলো শেওয়াগ-শচীন। বারবার মাশরাফির জন্য আফসোস হচ্ছিল তখন। কেন তার কপালে ইনজুরি জোটে ? সে থাকলে এমন বস্তাপঁচা বোলিং হয় না, ম্যাশের আড়ালে অন্য পেসাররাও ভরসা পায়। পুরো পঞ্চাশ ওভার জুড়েই বোলাররা বেদম পিটুনি খেলো ভারতের ব্যাটসম্যানদের হাতে। মার খেয়ে খেয়ে ৩৭০ রান দিয়ে বসলো। শেওয়াগ তুলে নিল এবারের টুর্নামেন্টের প্রথম শতক, তাকে সঙ্গ দিয়ে বিরাত কোহলিও শতকের দেখা পেল। এমন ছন্নছাড়া বোলিং করলে সামনে বাংলাদেশ দলের কপালে খারাপী আছে এটা বেশ বুঝতে পারছি।

ব্যাটিং কিছুটা হলেও বোলিং'র দু:খ ঢেকেছে। তামিমের খোলস বন্দী হয়ে করা ৭০, সাকিবের অসময়ে তেড়েফুঁড়ে করা ৫৫, ইমরুলের অবাক করা ঝড়ো ব্যাটিং দুপুরের ক্ষতে মলমের কাজ করেছে। ভালো লেগেছে শ্রীশান্তের এক ওভারে দেয়া ২৪ রানে ইমরুলের ভূমিকা আছে দেখে। তবে রিয়াদ-নাইমের ব্যাটিং দেখে মনে হয়েছে সেখানে অলক কাপালী থাকলে আরো কিছু রান যুক্ত হতে পারতো। রিয়াদ কোনকালেই সাত নম্বর ব্যাটসম্যান নয়, তবুও সে এই পজিশনে ব্যাট করে। আর নাইম সেই যে ছক্কা মেরে জিম্বাবুয়ের সাথে ম্যাচ জিতালো তারপর থেকে ছক্কা মারাই ভুলে গেলো। তাই লেজের দিকে যে দুর্বলতা তা ব্যাটিং পাওয়ার প্লের প্রয়োজন কিভাবে মেটাবে বোধগম্য হলো না। তবে ২৮৩ রান খারাপ নয়। আশা করেছিলাম ৩১০-৩২০ করে আরো ভালো জবাব দেবে তারা। আফসোস ৩৫ ওভারে ২০২ হবার পরেও শেষ ১৫ ওভারে ৭ উইকেট নিয়ে ১০০ রান যোগ করতে পারলো না টেল-এন্ডাররা।

মেলা বকলাম, এবার থামি। শেষ কথা বলবো দলে আরো দুইজন হার্ডহিটার দরকার ছিল। রিয়াদ-নাইম বা রকিবুল-জুনায়েদ নামক ব্যাটসম্যানদের নিয়ে ৩০০ রান চেজ করার চিন্তা অসম্ভব। তবুও ভালো খেলেছে বাংলাদেশ, সামনে আরো ভালো খেলবে এটাই প্রত্যাশা। পনের কোটি মানুষের আশা তো এমনি এমনি মিটিয়ে যাবার নয়।
বৃহস্পতিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১১
যেমন দেখলাম বিশ্বকাপ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

হয়ে গেল, শেষ পর্যন্ত শুরু হয়ে গেল দশম বিশ্বকাপ ক্রিকেট। বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কার শিল্পীদের চমৎকার পরিবেশনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি এককথায় ছিল অসাধারন। শুরু হয়েছিল বিসিবি সভাপতি কামাল সাহেবের বক্তৃতার মাধ্যমে। উনি ইংরেজীটা ভালো বললেও বাংলা অংশে এসে স্টেডিয়ামকে বানিয়ে দিলেন পল্টনের জনসভা। এরপর আমাদের খেলার প্রতি মন্ত্রী এলেন। তিনি দাঁত মুখ খিঁচে উচ্চস্বরে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে গেলেন। একবার শুনলাম তিনি বলছেন টু জিরো জিরো ওয়ান ওয়ার্ল্ড কাপ (!)। হায়রে মন্ত্রী তিনি টু থাউজ্যান্ড ইলেভেন সালের কথাও বেমালুম ভুলে গেলেন, অবশ্য কিছুদিন আগে নাকি তিনি বলেছিলেন সম্রাট শাহজাহান লাল কেল্লা বানিয়েছেন বাইশ বছরের সাধনায়। ওনার কাছে ভালো কিছু আশাও করিনি। ভালো লেগেছে অর্থমন্ত্রীর কথা। অত্যন্ত সাবলীলভাবে তিনি বলে গেলেন। ঐ সময়টায় শেয়ার বাজার নিয়ে তার বিভিন্ন কটূ মন্তব্য ভুলে গেলাম। গর্বে বুকটা ভরে উঠলো। একজন স্মার্ট মন্ত্রীর বক্তব্য শুনলাম। আইসিসি প্রেসিডেন্ট শারদ পাওয়ার ভালোই বলেছেন। বাংলা বলে আমাদের ভাষার প্রতি সম্মান দেখিয়েছেন। তবে শেষে “বাংলাদেশ জিন্দাবাদ” বলে অনেকের চোখে হয়তো ভিলেন হয়ে গেছেন পাওয়ার সাহেব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাংলায় ২০০১ সালের বিশ্বকাপ উদ্বোধনের কথাটা দৃষ্টিকটূ লেগেছে। ইংরেজীতে কি বললেন বুঝতে পারলামনা!
অনুষ্ঠান জুড়ে ছিল দারুণ সব ফায়ারওয়ার্কস। প্রথমে এ প্রজন্মের কিছু শিল্পী একটা গান গাইলেন, তেমন একটা মন ছুঁতে পারেনি সেটা। তবে সাবিনা ইয়াসমিন, রুনা লায়লাদের পরিবেশনা ছিল অত্যন্ত ভালো। এদের সাথে একই মঞ্চে মমতাজকে দেখে মনের কোথায় যেন খাপছাড়া ভাবটা জেগেছে। তবে শিল্প ব্যাংকের দেয়ালে খেলা ক্রিকেটে ছিল নতুনত্বের ছোঁয়া। এইডসের উপরে শেওয়াগ ও সাঙ্গাকারার করা প্রামাণ্যচিত্র ভালো ছিল। তবে এরচেয়েও দৃষ্টিনন্দন ছিল পর্যটন কর্পোরেশনের করা প্রামাণ্যচিত্র। ধন্যবাদ তারা পেতেই পারে। ভারতের শিল্পীদের পরিবেশনার চেয়ে ভালো লেগেছে শ্রীলঙ্কার পরিবেশনা। ভারতের নাচ-গান মনে হয়েছে সিনেমা নির্ভর। বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন, একাত্তর, উপজাতীয়দের জীবনচিত্র ইত্যাদি নিয়ে পরিবেশনা ছিল বেশ উপভোগ্য। তবে শেষদিকে কানাডিয়ান তারকা শিল্পী ব্রায়ান এডামসের পারফর্ম্যান্স পুরো অনুষ্ঠানকে দিয়েছে আন্তর্জাতিকতার চাদর। দারুণ গেয়েছেন এডামস তার দল নিয়ে। এরপর শঙ্কর-এহসান-লয়ের থিম সঙ পরিবেশনাও ছিল এককথায় অপূর্ব। শঙ্করের গলায় বাংলা শুনে মনে হয়নি তার মাতৃভাষা বাংলা নয়। তাদের গানের তালে তালে সন্ধ্যার আকাশ আগুনের রঙে রাঙিয়ে শেষ হয় অনুষ্ঠান।
তবুও একটা কথা বলা হয়নি। বিশ্বকাপ মাস্কট স্টাম্পি ট্রলিতে চেপে মাঠে প্রবেশ করে। মূল মঞ্চে অংশগ্রহণকারী চৌদ্দ দলের অধিনায়কদের রিকশায় করে আসাটা ছিল ব্যতিক্রমি উদ্যোগ। সনু নিগাম তাদের দাঁড় করিয়ে গেয়েছিলেন যেটা ভালো লাগেনি আমার। এরচেয়ে ভালো ছিল ছায়ানটের শিল্পীদের গাওয়া সেই গান, যা জাগিয়ে তোলে দেশমায়ের প্রতি ভালোবাসা।
“আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।”
আর মাত্র কয়েক ঘন্টা
রবিবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১১
ওয়ানডে তালিকায় আট নম্বরে বাংলাদেশ
আসুন, তেমনি একটি সুসংবাদের আসায় বিশ্বকাপের কাউন্ট-ডাউন শুরু করি।
শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০১১
১৫ জন ক্রিকেটার ও ৩ নির্বাচক সাথে ১ জন সমালোচক
দল নাকি নির্বাচকেরা আগেই ঠিক করে রেখেছিলেন। ঘোষণার বাকি ছিল। যাতে নাম ছিল না মাশরাফি বিন মুর্তজার। বর্তমান নির্বাচকদের চক্ষুশূল অলক কাপালী, সৈয়দ রাসেল তো বরাবরের মতোই উপেক্ষিত। তো এই দল বিসিবি অনুমোদন দিতে গিয়েই ঝামেলাটা বাধল। মাশরাফি দলে নাই, তাহলে অভিজ্ঞ অলককে নেয়া হোক। আশরাফুলের ওপরও বিসিবির ভরসা নেই, তাই সেও বাদ পড়ুক। না, নির্বাচক মন্ডলী তা হতে দিবেন না। তাহলে নাকি তারা পদত্যাগ করবেন। দুইদিন ধরে চলল ম্যারাথন মিটিং। দল ঘোষণার শেষ দিনে সকালে আশরাফুল বাদ পড়ে অলক ঢুকছেন আর নির্বাচকেরাও পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন এমন গুঞ্জন ভাসতে লাগল। শেষ পর্যন্ত এমনটি হয়নি। আশরাফুল বহাল তবিয়তে দলে আছেন, বেচারা অলক এবারও উপেক্ষিত থেকে গেলেন। মাশরাফি বাদ পড়লেন ইনসজুরির অজুহাতে।
নির্বাচকেরা কিছু যুক্তি দেখিয়েছেন। দেখা যাক সেগুলো কি:
আশরাফুল : অভিজ্ঞতা, ঘরোয়া ক্রিকেটে দূর্দান্ত পারফরম্যান্স তাই সে দলে। বড় আসরের খেলোয়াড় সে।
অলক কাপালী : সে দুই বছর ধরে দলে নেই, ঘরোয়া ক্রিকেট তেমন কিছু করতে পারেনি। তাই এবার রাখলাম না।
মাশরাফি : ইনজুরি আক্রান্ত বলে ফিট নয়। তাই সে উপেক্ষিত।
যুক্তির পসরা ভালোই সাজাতে পারেন নির্বাচকেরা। আশরাফুল বড় আসরের খেলোয়াড়, এটা ঠিক অস্বীকার করছিনা। তবে বর্তমানে যারা ক্রিকেটের খোঁজ রাখেন তারা জানেন আশরাফুল আমাদের জন্য নারীদের চেয়েও যেন ছলনাময়ী। কখন তার ব্যাট কথা বলবে, কখন তিনি স্বমহিমায় উদ্ভাসিত হবেন কে জানে! তার স্বমহিমা কি সেটাও গবেষণার বিষয় হতে পারে। এক ম্যাচ ভালো করে পরের অনেকগুলো ম্যাচ নিশ্চিত জেনে শীতনিদ্রা দেয়া নাকি ঐ যে কদাচিৎ এক ম্যাচ ভালো খেলা সেটা? ঘরোয়া ক্রিকেটে সবসময় ভালোই খেলে আশরাফুল, এতে সন্দেহ নেই। কিন্তু তার ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফরম্যান্স কখনোই ভিনদেশী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অনূদিত হয়নি। তবুও তিনি বারবার একই যুক্তিতে দলে আসেন এবং আমরা হতাশ হই। নির্বাচকদের সাথে আছে মিডিয়া, তারা দোষ-গুণের মানুষ আশরাফুলকে শুধু গুণবাচক বিশেষণে বিশেষায়িত করেন। তাই জনগণের প্রবল আপত্তি ধোপে টিকে না, আশরাফুল দলে ঢোকেন আর আমরা মার্কা মারা জনগণ পাড়ায়, কলেজের ক্যান্টিনে আড্ডায় বসে সেসব নিয়ে জ্বালাময়ী বক্তৃতা দিতে ব্যস্ত থাকি। একেকজন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ কিনা!
অলক কাপালীর প্রসঙ্গে আসি। এই ছেলের ফ্যান আমি তখন থেকে যখন রেডিওতে ঢাকা লীগের খেলা প্রচার হতো। তখন অলক মনে হয় সদ্য খেলা শুরু করেছে, নিয়মিত রান করছে, উইকেট নিচ্ছে। ভাবতাম ভারতীয় নাকি। পরে তাকে ব্যাট করতে দেখি ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে, টিভির পর্দায় অবশ্যই। তার ব্যাটিং সৌন্দর্যে দারুণ মুগ্ধ হয়ে যাই, তার লফটেড শট, অফ ড্রাইভ, পুল-হুক দারুণ শিহরণ জাগায় তখন। কারণ দলে এমন ছবির মতো সুন্দর ব্যাটিং কেউ করতে পারতো না। তো সেই অলক সময়ের বাঁকে পড়ে দল থেকে হারিয়ে গেল। আশরাফুল যদি বারবার সুযোগ পেতে পারে তাহলে অলক কেন নয় ? আশরাফুল ২০০৫ সালে অসিদের বিপক্ষে করা শতক দিয়ে দলে বারবার আসতে পারলে অলকের আছে ২০০৮ সালে ভারতের সাথে করা শতরান কেন বিবেচনায় আসবে না ? সেই শতরানও যে যথেষ্ট চিত্তাকর্ষক ছিল তা মিডিয়াও স্বীকার করে। ম্যাচ যেতা হয়নি চারটি ক্যাচ মিস করায়, নাহয় ২৮০ এর ঘরে রান থেকেও দল হারে কি করে ? অলক নেই হয়তো তার লবিং নেই বলে, মিডিয়াও অন্ধের মতো তাকে ভালোবাসে না। একটা তথ্য দিয়ে অলককে নিয়ে কথা শেষ করছি। এবারের লীগে মোহামেডান ৩৩৯ রান করেছিল। সে রান তাড়া করে অলকের গাজী ট্যাংক। ফল কি হয়েছিল জানেন ? গাজী ম্যাচ জিতে নেয় যেখানে অলক করেন ৩৫ বলে ৬৩ রান (অপরাজিত), এত রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড কেউ বের করতে পারলেন না স্মৃতি হাতড়েও।
মাশরাফির ইনজুরি যেমনই হোক তাকে দলে না নেয়ায় খুব আপসেট হইনি। এমনিতেই দুই জন পেসার নিয়ে খেলবে বাংলাদেশ, খেলার মাঝে যদি মাশরাফি আবার বল করতে গিয়ে পড়ে যায় ? কে হবে থার্ড সিমার ? এ উত্তর জানা নেই, তাই এই সাহসী সিদ্ধান্তের জন্য নির্বাচকদের ধন্যবাদ। মাশরাফির উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য শুভ কামনা।
এত কিছু বললাম, যে দল ঘোষিত হলো সেটা নিয়ে কিছু বললাম না। এটা ঠিক হচ্ছে না। দেখা যাচ্ছে দলে ওপেনার আছেন চারজন (তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, শাহরিয়ার নাফিস ও জুনায়েদ সিদ্দীক)। এদের মধ্যে তামিম ও ইমরুল ওপেন করবে নিশ্চিত। তবে তিন নাম্বারে জুনায়েদ না নাফিস এই প্রশ্ন আমাকে করলে আমি নাফিসকে বেছে নিলেও সিডন্স সম্ভবত জুনায়েদকেই বেছে নিবেন। তাই নাফিসকে একাদশে দেখতে না পাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। চারে রকিবুল হাসানকে নিয়ে অনেকের আপত্তি থাকলেও সিডন্সের ভালোবাসায় সিক্ত রকিবুল অটোমেটিক চয়েস। তাই আশরাফুলকেও একাদশের বাইরে থাকতে হবে। এরপর যথারীতি সাকিব, মুশফিক, নাইম, শুভ, শফিউল, রাজ্জাক, রুবেল। এই মোটামুটি দল হতে পারে। তবে এসব প্লেয়ারদের মধ্য হতে আমি দল সাজালে নিম্নরূপ হবে:
তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, শাহরিয়ার নাফিস, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, মো: আশরাফুল, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, নাইম ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক, শফিউল ইসলাম ও নাজমুল হোসেন। দলের বাইরে থাকবে জুনায়েদ সিদ্দীক, রকিবুল হাসান, রুবেল হোসেন ও সোহরাওয়ার্দী শুভ। দলে বৈচিত্র্য কম, অলক কাপালীর জন্য আবারো আফসোস হচ্ছে। শুভর জায়গায় সে থাকলে দলটা আরো ব্যলান্সড মনে হতো। বর্তমান দল খুব খারাপ করবেনা, আবার একদম ফাটাফাটি ফল করবে বলে মনে হয় না। তবে একাদশ নির্বাচন ও ব্যাটিং অর্ডার সাজানোয় দক্ষতার পরিচয় যদি ম্যানেজম্যান্ট দিতে পারে তাহলে ভালো কিছু আশা করা যায়। অন্যথায় বাজে রেজাল্টের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে।
সবশেষে শুভকামনা দলের জন্য। সকল সমালোচনা শেষ হয়ে যাবে দল ভালো করলে। আর যদি নির্বাচকদের একগুঁয়েমিতে দল খারাপ করে বসে তাহলে মানুষের কাছে ভিলেন হয়ে থাকবে নির্বাচক কমিটি ও বিসিবি।
শনিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০১১
আমার বিশ্বকাপের দল
প্রথমেই ওপেনিং স্লট। এখানে তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েসকে বাদ দেয়ার কারণই নেই। দুই জনই আমার অটোমেটিক চয়েস। তিন নম্বরে আমি চাই শাহরিয়ার নাফিসকে, তার বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা, স্পিনে দক্ষতা ও বড় ইনিংস খেলার মানসিকতায় সেও আমার অটোমেটিক নাম্বার থ্রী ব্যাটসম্যান। জুনায়েদ তাই বাদ পড়ছে। চার নম্বরে আমি চাইব মুশফিকুর রহিমকে। তার ব্যাটিং টেকনিক ভালো, শুরুটা ধীরে করে ইনিংস বড় করতে পারে, প্রয়োজনে বলের সাথে পাল্লা দিয়ে রান তুলতে পারে। এরপরে পাঁচ নম্বরে সাকিব আল হাসান আসছে নির্দ্বিধায়। ছয় নম্বরে অলক কাপালী, আমার প্রিয় একজন ক্রিকেটার। তার প্রতি অবিচার করা হয়েছে, হচ্ছে। ধরে খেলার পাশাপাশি ব্যাটিং পাওয়ার প্লের সমস্যার সমাধান হতে পারে কাপালী। তাই আমার পছন্দ কাপালীকে ছয় নম্বরে। সাত নম্বরে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ অথবা নাইম ইসলাম। বর্তমান ফর্মে নাইম বাদ পড়ছে, টিকে যাচ্ছে রিয়াদ। প্রয়োজনে তাকে ছয়ে ও কাপালীকে সাতে নামানো যায়। আট নম্বরে আমি রাখব সোহরাওয়ার্দী শুভকে। যদি তিন পেসার নামানোর দরকার হয় তাহলে শুভ বাদ পড়বে। নয় নম্বরে মাশরাফি মুর্তজা, যার জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করব। দশে রাজ্জাক ও এগারোয় শফিউল ইসলাম।
এরপর বাকী চারজন। একজন ব্যাকআপ ওপেনার হিসেবে থাকছে জুনায়েদ সিদ্দীক, মিডল অর্ডারের জন্য আশরাফুল ও রকিবুল এবং অতিরিক্ত পেসার হিসেবে থাকছে রুবেল হোসেন। আশরাফুলকে রাখব তার অভিজ্ঞতার জন্য, দলে তার জায়গা বের করা কঠিন। তবে আমি শুভর স্থলে রাখতে পারি বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি সুযোগ পাওয়া এই ব্যাটসম্যানকে।
তাহলে দলটা দাঁড়াল এরকম:
তামিম ইকবাল
ইমরুল কায়েস
শাহরিয়ার নাফিস
মুশফিকুর রহিম
সাকিব আল হাসান
অলক কাপালী
মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ
সোহরাওয়ার্দী শুভ
মাশরাফি মুর্তজা
আব্দুর রাজ্জাক
শফিউল ইসলাম
অতিরিক্ত:
জুনায়েদ সিদ্দীক
মো: আশরাফুল
রকিবুল হাসান
রুবেল হোসেন
এর বাইরে স্ট্যান্ড বাই হিসেবে থাকছে :
নাজমুল হোসেন
জহুরুল ইসলাম অমি
নাইম ইসলাম
তাহলে সংক্ষেপে দলটা কেমন হলো ? ওপেনার চার জন (তামিম, ইমরুল, নাফিস, জুনায়েদ), পেসার তিন জন (মাশরাফি, রুবেল, শফিউল), মিডল- অর্ডার ব্যাটসম্যান পাঁচ জন (সাকিব, কাপালী, রিয়াদ, আশরাফুল, রকিবুল), কিপার এক জন (মুশফিক), স্পিনার দুই জন (রাজ্জাক, শুভ)। দু:খিত ছক্কা নাইমের জন্য, তার ফর্ম ইদানিং ভালো যাচ্ছে না। আশরাফুল টিকে গেছে দুটো বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতার জন্য। আমি জোর দিয়েছি ব্যাটিং এ, কারণ বিশ্বকাপে ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে সেটাই দরকার। তবে বোলারদের উপর আস্থা রাখছি। জানি এমন দল হয়তো হবে না, তবুও ব্লগে লিখে রাখলাম। একসময় বলতে পারব বিশ্বকাপের জন্য আমারও পছন্দের একটা স্কোয়াড ছিল।
শুক্রবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১০
আশরাফুলের কান্না ও কিছু বাস্তবতা
নিউজিল্যান্ডের সাথে সফল একটা সিরিজ শেষ করে তামিম আসলেও দলে জায়গা পাবে এটা আশা করেছিল শাহরিয়ার নাফিস। নির্বাচকরা তখন কূটচালে ব্যস্ত কি করে আশরাফুলকে দলে রাখা যায়। তারা এশিয়ান গেমসে আশরাফুলকে নেতা করে পাঠাল। ভুলে গেল টি-২০ তে অন্যতম সফল খেলোয়াড় অলোক কাপালীর কথা। জাতীয় দলে জুনায়েদ-রকিবুলও থাকবে আবার আশরাফুলও থাকবে। বলির পাঁঠা বানানো হলো একটা ম্যাচও না খেলতে দেয়া জহুরুল ইসলাম অমি ও সফল ব্যাটসম্যান শাহরিয়ার নাফিসকে। সমালোচনা এড়াতে দল প্রকাশ করা হলো বিলম্বে। তবুও সমালোচনা হলো এবং মাথা মোটা নির্বাচকরা নির্বিকার থাকতেই পছন্দ করলেন।
কেউ কি ভেবেছেন নাফিস, অমির হৃদয় চিরে আসা দু:খবোধের কথা ? কিংবা বারবার আশায় থাকা অলোক কাপালীর একটু সুযোগ না পাওয়ার বেদনার কথা ? তাদের কান্না পত্রিকায় আসে না, আসে আশরাফুলের কান্নার সংবাদ। অথচ কি এমন গড় এই আশরাফুলের ? নির্বাচকরা কি করে শাহরিয়ার নাফিসের মতো জিম্বাবুয়ের সাথে ৬২ গড় থাকা ব্যাটসম্যানকে বাদ দেয় ?
আমার মনে পড়ছে আকরাম - বুলবুলের কথা। তারা নির্বাচকদের ভালোবাসা কখনো পাননি। কিংবা দুর্জয়, নান্নু। সময় বড় নিষ্ঠুর। সে সময়ের কাছে ধরা খেয়ে যাচ্ছে আশরাফুল - মাশরাফি। বর্তমান বড় কঠিন, নির্বোধ ব্যাটিং কিংবা ধারহীন বোলিং দিয়ে দলে টিকে থাকা বড়ই কঠিন। হয়তো সময় হয়েছে এদের বিদায়ের, তবে তা যেন হয় সাময়িক। রফিক, পাইলটদের মতো যেন আশরাফুল- মাশরাফির করুণ বিদায় না হয়। তবে বিশ্বকাপের দলে আশরাফুলকে দেখতে চাই না। মাশরাফি থাকুক, ও আশরাফুলের মতো এতো বাজে পারফরম্যান্স দেখাবে না, এই বিশ্বাস আমার আছে।
শনিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১০
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রথম সোনা
ফাইনাল কিছু হলেও দেখেছি, টেন স্পোর্টস খেলা দেখিয়েছে। আফগানিস্তান খুব ভালো খেলেছে। আমি আশাবাদী, এরা ভালো করবে ভবিষ্যতে। অন্যদিকে বাংলাদেশের কাছে প্রত্যাশা আরো বেশী ছিল। তারা আফগানদের অলআউট করতে পারেনি, আবার জয়ের জন্য শেষ ওভার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। শেসদিকে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের রোমানের ব্যাটিং নতুন ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দেয়। করিম খান সাদেকের ওভারে নেয়া ২টি ছক্কাময় ১৭ রান জয় নিশ্চিত করে দেয় বাংলাদেশের। জয় জয়ই, তা যেভাবেই আসুক। ধন্যবাদ বিসিবি, ক্রিকেটারদের এবং যারা চীনে ক্রিকেট প্রচারে সহায়তা করেছেন (এরা হলেন সৈয়দ আশরাফুল হক, আমিনুল ইসলাম বুলবুল, মঞ্জুরুল ইসলাম ও গ্রাউন্ডসম্যান জসিম)। বাংলাদেশের গ্রাউন্ডসম্যান জসিমের প্রস্তুত করা পিচেই ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ, ভাবতেই গর্বে বুকটা ফুলে যায়।
জয়তু ক্রিকেট, জয়তু বাংলাদেশ।




