Ads 468x60px

শনিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৩

লিব্রে অফিসে রেফারেন্স যুক্ত করা : ২য় পর্ব


লিব্রে অফিসে কিভাবে বেসিক রেফারেন্স যুক্ত করা যায় তা নিয়ে আলাপ করেছিলাম গত পর্বে। আজ দেখব বিভিন্ন ফর্মেটের রেফারেন্স বা সাইটেশান যুক্ত করার পদ্ধতি। শুরু করার আগে দেখে নিতে পারেন গত পর্বের উল্লেখযোগ্য অংশ।
রেফারেন্স দেয়ার জন্য নির্দিষ্ট স্থানে কার্সর নিতে হবে। কার্সর নেয়ার পর Insert → Indexes and Tables → Bibliography Entry তে ক্লিক করতে হবে। নতুন যে উইন্ডো খুলবে তা থেকে দ্বিতীয় রেডিও বাটনে ক্লিক করে নতুন উইন্ডো খুলতে হবে।
চিত্র ১: বিবলিওগ্রাফী এন্ট্রি
চিত্র ২ এ একটি উদাহরণ দেখানো হল। এক্ষেত্রে একটি বইয়ের রেফারেন্স এন্ট্রি দেয়া হয়েছে। শর্ট নেম হিসাবে রেফারেন্সটিকে চিহ্ণিত করার জন্য একটি নাম দেয়া হয়েছে (উদাহরণে A1)। প্রয়োজনমতো তথ্য দেয়ার পর ওকে চেপে বেরিয়ে আসতে হবে। নতুন যে উইন্ডো আসবে তাতে Insert বাটনে ক্লিক করে রেফারেন্সটি বসাতে হবে।
চিত্র ২: বিবলিওগ্রাফী ডকুমেন্ট এন্ট্রি
এবার আমরা আরেকটি রেফারেন্স বসাবো। এটি বিবলিওগ্রাফী ডাটাবেজে দেয়া আছে। চিত্র ৩ লক্ষ্য করুন, বিবলিওগ্রাফী ডাটাবেজে এন্ট্রি কিভাবে দিতে হবে তা জানতে গত পর্ব দেখে আসুন।
চিত্র ৩: বিবলিওগ্রাফী এন্ট্রি
রেফারেন্স বসানো হয়ে গেলে নতুন পেজ তৈরী করতে হবে (যে পাতায় আর্টিকেল শেষ হয়েছে সেই পাতার শেষে কার্সর রেখে কন্ট্রোল + এন্টার একসাথে চাপতে হবে)।
মেনুবারের ইনসার্টে গিয়ে Indexes and Tables → Indexes and Tables এ ক্লিক করতে হবে। নতুন উইন্ডো থেকে বিবলিওগ্রাফীর জন্য সূচী তৈরী করতে হবে (চিত্র ৪ লক্ষ্য করুন)। রেফারেন্সের যে তালিকা আসবে তা পূর্ণাঙ্গ নয়। অসুবিধা নেই, আমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করা যাবে। রেফারেন্স সূচীতে কার্সর রেখে রাইট ক্লিক করলে যে মেনু আসবে তার Edit Index/Table এ ক্লিক করতে হবে। এবার এন্ট্রির ধরন ঠিক করে নিন, পাশাপাশি যে ফিল্ড দরকার সেটিও (চিত্র ৫)।
চিত্র ৪: বিবলিওগ্রাফী এডিট অপশান
বইয়ের টাইটেল সামান্য বাঁকা বা ইটালিক করতে চাইলে ক্যারেক্টার স্টাইল ড্রপডাউন মেনু হতে এমফেসিস করে দিন। বোল্ডও করা যায়। তবে তার আগে স্ট্রাকচার থেকে টাইটেলের জন্য Ti ফিল্ড সিলেক্ট করে নিতে হবে। তারপর ওকে চাপলেই প্রয়োজনীয় পরিবর্তন হবে।
চিত্র ৫: বিবলিওগ্রাফী এডিট অপশান
যদি আমরা নতুন ফিল্ড যুক্ত করতে চাই, যেমন ধরি পাবলিশারের নাম। সেটি বসাতে হবে টাইটেলের পরে। এজন্য স্ট্রাকচারের টাইটেলের পরে যে ফাঁকা স্থান আছে সেখানে কার্সর রাখতে হবে। তারপর স্ট্রাকচারের নিচের ড্রপডাউন মেনু হতে প্রয়োজনীয় ফিল্ড সিলেক্ট করতে হবে। এরপর ইনসার্ট দিলেই ফিল্ডটি তৈরী হয়ে যাবে।
ডিফল্ট যে নাম্বারিং দেয়া আছে ওটা অনেক সময় পরিবর্তন করতে হয়। আইইইই ফর্ম্যাট ফলো করতে গেলে পরিবর্তন করতে হবে নাম্বারিং টাইপ। এজন্য স্ট্রাকচারের ফিল্ডের প্রথম এন্ট্রি Sh (শর্ট নেম) এর দুই পাশের ফাঁকা স্থানে [ বন্ধনী ] দেয়া যায়। বন্ধনীর পর স্পেস দিতে চাইলে একবার স্পেসবার চাপতে হবে।
চিত্র ৬: বন্ধনী ঠিক করা
এভাবে পূর্ণাঙ্গ রেফারেন্স নিয়ম মেনে আপডেট করা সম্ভব। বারবার নতুন এন্ট্রি দিতে হবে না। শুধু রেফারেন্সে রাইট ক্লিক করে আপডেটে ক্লিক করবেন। আপডেট হয়ে যাবে।
চিত্র ৭: পরিবর্তিত রেফারেন্স
এভাবে রেফারেন্স দিলে নাম্বারিং-এ স্টার্টিং স্পেস দ্বিতীয় লাইনে গিয়েই নষ্ট হয়ে যাবে। সেজন্য আরেকটি পদ্ধতিতে নাম্বার দেয়া যায়।
রেফারেন্সে রাইট ক্লিক করে এডিট প্যারাগ্রাফে গিয়ে আউটলাইন এন্ড নাম্বারিং ট্যাবে ক্লিক করতে হবে। আউটলাইন লেভেল ১ এবং নাম্বারিং স্টাইল হিসাবে নাম্বারিং ১ সিলেক্ট করতে হবে।
চিত্র ৮: বিবলিওগ্রাফীতে নাম্বারিং করা
অ্যাপ্লাই-ওকে চেপে বেরিয়ে আসতে হবে। তারপর মেনুবারের Tools → Outline Numbering এ ক্লিক করলে নতুন উইন্ডো আসবে। সেখানে প্যারাগ্রাফ টাইপে বিবলিওগ্রাফী ১, নাম্বার ১,২,৩ এবং সেপারেটরের পূর্বে [ এবং পরে ] ঠিক করে দিতে হবে। ওকে চেপে বেরিয়ে এলে নাম্বারিং ঠিকমতো দেখা যাবে।
চিত্র ৯: আউটলাইন নাম্বারিং
তবে রেফারেন্সে শর্ট নেম না দিতে চাইলে এন্ট্রি এডিট করতে হবে। স্ট্রাকচারে গিয়ে Sh সিলেক্ট করে রিমুভে ক্লিক করে ওকে চেপে বেরিয়ে এলেই শর্ট নেম মুছে যাবে। তার পরিবর্তে নাম্বার দেখা যাবে।
চিত্র ১০: শর্ট নেম মুছে ফেলা
আর এভাবেই রেফারেন্স সফলভাবে দেয়া সম্ভব।
চিত্র ১১: রেফারেন্স
আশা করি রেফারেন্স দেয়া নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেছেন। অন্য কোন পদ্ধতি কারো জানা থাকলে শেয়ার করুন, হয়তো সেটি আরো সহজ হবে।





মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৩

লিব্রে অফিসে বাংলা সেটাপ


অনেকদিন পর লিখতে বসলাম। বিষয়বস্তু প্রতিবারের মতোই ওপেনসোর্স সফটওয়্যার। আজ হঠাৎ ইন্টারনেটে ঘুরতে গিয়ে বিষয়টা খেয়াল করলাম। আমাদের অনেকে লিব্রে অফিসে বাংলা লিখতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন। আমার সামান্য চেষ্টা কি করে অতি সহজে সমস্যার সমাধান করা যায়।

প্রথমেই লিব্রে অফিস রাইটার বা স্টার্টার চালু করে নিন। টুলস ল্যাঙ্গুয়েজ সেটিংস এ গিয়ে নিচের ছবির মতো বাংলা সেটাপ করে নিন।

ওকে দিয়ে বেরিয়ে আসুন। আবার টুলস অপশানে গিয়ে লিব্রে অফিস রাইটার অপশানে বেসিক ফন্টস (CTL) সিলেক্ট করুন। সোলায়মানলিপি বা আপনার পছন্দের বাংলা ফন্ট সেট করুন ছবির মতো করে। ওকে বাটনে ক্লিক করে বেরিয়ে আসুন। দেখবেন কি সুন্দর বাংলা লেখা যাচ্ছে।

বাংলা লেখার আগে অবশ্যই কি-বোর্ড লেআউট পাল্টে বাংলা করে নিতে হবে।

বুধবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০১২

লিব্রে অফিসের গতি বাড়ানোর তরিকা


আজকাল আমরা অনেক সচেতন। পাইরেসি না করে হলে গিয়ে ছবি দেখছি, অডিও সিডি কিনে গান শুনছি এমনকি উইন্ডোজ কিনতে না পারলে লিনাক্স ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম চালাচ্ছি। অফিসিয়াল কাজে মাইক্রোসফট অফিসের ব্যবহার কমাতে সহায়তা করছি, কারন এত দাম দিয়ে অফিস স্যুট কেনার পয়সা সবার নেই। অফিসের বিকল্পের মধ্যে লিব্রেঅফিস অন্যতম। আমিও একজন এমএস অফিস ব্যবহারকারী, পাশাপাশি লিব্রেটাও ব্যবহার করছি। লিব্রে ব্যবহারকারীর একটা অভিযোগ থাকে এটা বড্ড স্লো, লোড হতে সময় লাগছে। মানছি লিব্রে স্লো, তাকে দ্রুত লোড করারও তো তরিকা আছে। ওটা না দেখেই হুট করে এসব মন্তব্য করা কি ঠিক ?

আসুন দেখি কি করে লিব্রে অফিস নামক ফ্রী অফিস স্যুট আরো কম সময়ে খুলতে পারা যায়।

শুরুতেই লিব্রে অফিস বা লিব্রে রাইটার খুলুন। টুলস হয়ে অপশানে যান। লিব্রে অফিসের নিচে লেখা মেমরীতে ক্লিক করুন। একটা নতুন পর্দা আসবে। সেটায় নিচের মত সেটাপ দিন।

  • আনডু স্টেপসের সংখ্যা দিন ২০।
  • গ্রাফিক্স ক্যাশে লিব্রে অফিসের জন্য ১২৮ মেগা বাইট ও প্রত্যেকটা অবজেক্টের জন্য ২০ মেগাবাইট নির্ধারন করে দিন।
  • অবজেক্টের সংখ্যা দিন ২০।
  • কুইক স্টার্টারে টিক চিহ্ণ দিতে ভুলবেন না যেন।

এবার ওকে চেপে অ্যাপ্লিকেশন রিস্টার্ট দিন। কি, লোড হওয়ার সময় কমেছে না ? এরপরে নিশ্চয় লিব্রে স্লো অপবাদ শুনতে হবে না ?  

রবিবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০১২

দেখে এলাম স্কাইফল



জেমস বন্ডের আগের সেই জৌলুশ আর নেই। সহকারী নারী এজেন্টের গুলি খেয়ে চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে নদীতে পড়ে যায় মিস্টার বন্ড। এদিকে মৃত বন্ডের শোক ভুলতে না ভুলতেই ছয়জন এজেন্টকে হারায় এমআই সিক্স। কিংকর্তব্যবিমূঢ় এমের সামনে হঠাৎ হাজির হয় বন্ড। মাতাল, দুর্বল জেমস বন্ডকে বাধ্য হয়ে নতুন মিশন দিতে রাজি হয় এম। সবগুলো টেস্টে ফেল করা বন্ড মিথ্যাকে সত্য ভেবে নতুন উদ্যোমে শুরু করে তার মিশন। মিশনে তার সাথী হয় তাকে গুলি করা সেই এজেন্ট। শারীরিকভাবে অক্ষম, মানসিকভাবে শক্ত বন্ড ছুটে চলে ভয়ঙ্কর ভিলেন সিলভার সন্ধানে। একটা ওয়ালথার পিপিকে যা আবার বন্ড ছাড়া কেউ আনলক করতে পারবেনা হলো কিউর দেয়া তার একমাত্র গ্যাজেট।

এতক্ষণ যা বললাম তা হলো সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া জেমস বন্ড সিরিজের নতুন ছবি 'স্কাইফল' – এর কাহিনীর সারসংক্ষেপ। গত ৮ই ডিসেম্বর, ২০১২ তারিখে বসুন্ধরা সিটির স্টার সিনেপ্লেক্সে দেখে এলাম ছবিটি। ছবিতে একশানের অভাব নেই, গ্যাজেট দেখা যায়নি আগের মতো। পুরনো কিউকে মিস করেছি। বন্ডকে মানবিক রূপ দেয়ার চেষ্টা খুব যে সফল হয়েছে বলা যাবে না। তবে অভিনেতা ডেনিয়েল ক্রেইগ চেষ্টা করেছেন তার সেরাটা দিতে। ছবিতে কিছু অযৌক্তিক দৃশ্য ছিল, মাথা না খাটিয়ে দেখলে সেটা ধর্তব্যের বিষয় না। 


বন্ড গার্ল বেরিনিস মার্লোহ'র সাথে বন্ডের দৃশ্য জমেনি, তার চরিত্রের ব্যপ্তি হতাশা বাড়িয়েছে। ভিলেন চরিত্রে জেভিয়ার বার্ডেম মানিয়ে গেছেন, তাকে দেখলেই 'নো কান্ট্রি ফর দ্য ওল্ড ম্যান' ছবির শীতল মস্তিষ্কের সেই খুনীর কথা মনে পড়ে। এম চরিত্রে জুডি ডেঞ্চ বরাবরই ভালো। 

 
ছবির শেষে একটা টুইস্ট আছে বন্ডের বস বিষয়ক, আর আগমন ঘটে মিস মনিপেনির। ঠিক যেন প্রথম বন্ড ছবির আগের পর্ব। হঠাৎ বুকে শূণ্যতা সৃষ্টি হয়েছিল, পঞ্চাশ বছর আগের শ্যন কনারিকে যদি বর্তমানের হাই ফাই গ্যাজেটে সমৃদ্ধ বন্ডরূপে দেখা যেত !

শ্যন কনারীকে তো আর সেভাবে দেখা যাবে না, তবে পিয়ার্স ব্রসনানকে নিয়ে আরেকটা বন্ড করা যেত। ডেনিয়েল ক্রেইগের জায়গায় ব্রসনান থাকলে আমি নিশ্চিত ছবি আরো জমতো। আদর্শ আধুনিক বন্ড বলতে পিয়ার্স ব্রসনানের চেহারাই ভেসে ওঠে চোখের পর্দায়, আফসোস নির্মাতারা বয়সের অযুহাতে অন্যতম সেরা বন্ডকে অকালে শেষ করে দিয়েছেন। ভবিষ্যতে হয়তো ব্রসনানকে ছাড়িয়ে যাবেন নতুন কোন অভিনেতা।

মুভিটি দেখতে পারেন, তবে খুব আশা নিয়ে দেখলে হতাশ হবেন। যদি এটি বন্ড সিরিজের মুভি না হয়ে সাধারন একশান মুভি হতো তাহলে দর্শকপ্রিয় হতো কিনা সন্দেহ হয়। শুধুমাত্র বন্ড ট্যাগের জন্য স্কাইফল দেখা যায়, আর ফরাসী সুন্দরী বেরিনিস মার্লোহ'র জন্য। তাছাড়া বড় পর্দায় একশান মুভি দেখার মজা নেয়ার জন্যও দেখা যায় স্কাইফল। বিদেশী মুভি দেখার চেয়ে আমি পরামর্শ দেব দেশীয় মুভি দেখুন। স্টার সিনেপ্লেক্সেই চলছে রেদোয়ান রনির “চোরাবালি”; স্কাইফল না দেখে রনির ছবি দেখলে হতাশ হবেন না। অন্তত দেশীয় চলচ্চিত্রকে চোরাবালিতে ডুবে মরতে না দিয়ে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করলে ক্ষতি কি ?

সোমবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১২

মুভি রিভিউ: কাহানী (২০১২)


ঈদের ছুটি ভালই কাটছে। মুভি দেখছি, নামাচ্ছি, টুইটারে টুইট করছি, মাঝে মাঝে ফেবুতে ঢুঁ মারছি। লেখালেখি বড্ড কম হয়ে যাচ্ছে। যা লিখছি তাও আবার লিনাক্স নিয়ে। কাঁহাতক সহ্য করা যায় এইসব টেকি প্যানপ্যানানি। তাই সাবজেক্ট পাল্টানোর চেষ্টা করছি। মুভি রিভিউ লিখার ব্যর্থ চেষ্টা। সবাই তো লিখছে, আমিও নাহয় এই ফাঁকে কয়েকটা রিভিউ লিখে ফেলি। যা দেখি তার লিখলে তো হবে না, যেগুলো ভাল লাগে সেগুলোর লিখতে হবে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ লিখছি বলিউডের ছবি “কাহানী” নিয়ে।


কাহানী ছবিটির চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন সুজয় ঘোষ। মুক্তি পেয়েছে ২০১২ সালের মার্চ মাসে। প্রায় দেড় মিলিয়ন ডলার বাজেটের ছবিটি বক্স অফিস থেকে আয় করেছে প্রায় কুড়ি মিলিয়ন ডলার। ব্যবসাসফল ছবি বলতেই হয়। ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন ডার্টি পিকচার, পরীনিতা খ্যাত বিদ্যা বালান, কলকাতার পরিচিত মুখ পরমব্রত চক্রবর্তী, নওয়াজুদ্দীন সিদ্দিকী, ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত প্রমুখ।

ছবির শুরুতে দেখা যায় ব্যস্ত শহর কলকাতার মেট্র রেল কম্পার্টমেন্টে বিষাক্ত গ্যাস আক্রমণ হয় যাতে মারা যায় অনেক যাত্রী। আসল গল্প শুরু হয় তার দুই বছর পরে। কলকাতায় হাজির হয় এক লন্ডন প্রবাসী সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার বিদ্যা বাগচী (বিদ্যা বালান), যে প্রেগন্যান্ট অবস্থায় খুঁজতে এসেছে তার হারানো স্বামীকে। যার নাম অর্ণব বাগচী, যিনি কাজ করতেন ন্যাশনাল ডাটা সেন্টারে (NDC)। বিদ্যাকে সহায়তা করতে এগিয়ে আসে তরুণ পুলিশ অফিসার রানা সিনহা (পরমব্রত চক্রবর্তী)। দেখা যায় অর্ণব নামে কেউ এনডিসিতে কাজ করেনি, কিংবা যে হোটেলের কথা বিদ্যা বলছিল সে হোটেলও ওঠেনি সে নামের কেউ। বিদ্যার দৃঢ় বিশ্বাস অর্ণব বাগচী এখানে এসেছিল। রানার সহায়তায় বিদ্যা সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজতে শুরু করে অর্ণবকে। 


বিদ্যার এ কাজে বাধা হিসেবে আসে পেশাদার খুনী বব (শ্বাশ্বত চ্যাটার্জী)। ববের চোখ ফাঁকি দিয়ে, এনডিসির টপ লেভেলের বাধা উপেক্ষা করে বিদ্যা নিজের মত করে খুঁজতে থাকে অর্ণবকে, রানাও তাকে সহায়তা করে যথেষ্ট। এবার হাজির হয় আইবি কর্মকর্তা খান। কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে বেরিয়ে আসে সাপ। জানা যায় অর্ণবের মতো দেখতে মিলন বাগচী (ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত) নামের একজন এনডিসিতে কাজ করতো, যে কিনা জড়িত ছিল দুই বছর পূর্বের সেই সন্ত্রাসী হামলার সাথে। তার তথ্য পেলে অর্ণবকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে। খান শুরুতে বিদ্যাকে না করলেও বিদ্যার একাগ্রতার কাছে হার মেনে তাকে সহায়তা করতে রাজি হয়। দূর্গা পূজার উৎসবময় নগরীতে এনডিসির শীর্ষ স্থানীয় এক কর্মকর্তার সন্ত্রাসী গ্রুপের সাথে সম্পর্কের তথ্য বের করে ফেলে বিদ্যা। জনবহুল শহরে দুর্ঘটনাক্রমে খুন হয়ে যায় সে কর্মকর্তা, খানের শেষ ক্লু নষ্ট হয়ে যায়। বিদ্যা দমে যায় না, সে এগিয়ে যায়। দূর্গা পূজার প্রতিমা বিসর্জনের দিন মিলন বাগচী দেখা করতে চায় বিদ্যার সাথে। বিদ্যা পুলিশকে না জানিয়ে দেখা করতে যায় মিলনের সাথে, আশা তার স্বামীকে পাওয়া যাবে।


এখানেই বেরিয়ে আসে সত্য। বিদ্যার হাতে খুন হয় মিলন বাগচী, বিদ্যার স্বামী অরূপ বসু দুই বছর আগের গ্যাস হামলায় মৃত্যুবরণ করেছিল। তখন বিদ্যার পেটে থাকা বাচ্চাও নষ্ট হয়ে যায়। সেই বিদ্যা মিলন দামজীকে খুঁজতে এসেছিল, ফাঁদ পেতেছিল পুলিশকে বোকা বানিয়ে। আইবি অফিসার খান বোকা বনে যায়, রানা সব বুঝতে পারে। বিদ্যাও অদৃশ্য হয়ে যায় লাল পাড়ের সাদা শাড়ী পরা অসংখ্য রমণীর ভিড়ে ব্যস্ত শহর কলকাতায় দূর্গা পূজার রাতে।

বলিউডের ছবি মানে একই ফর্মূলা, নাচ-গান-মারামারি। সে হিসাবে কাহানী ব্যতিক্রম। ছবিতে মাসালাদার কোন গান নেই, নেই কোন মারমার কাটকাট একশান। আছে দূর্দান্ত অভিনয়, প্লট ও টুইস্ট। একই ধাঁচের বলিউডি ছবি দেখে দেখে যারা বিরক্ত তার ভিন্ন ধাঁচের ছবিটি দেখে আনন্দ পাবেন নিশ্চয়ই। গর্ভবতী মহিলার চরিত্রে বিদ্যা বালান অসাধারন অভিনয় করেছেন। পরমব্রতও ভাল করেছে, অন্যান্য কাস্টিংও ভাল ছিল। খান চরিতে নওয়াজুদ্দীন সিদ্দীকি ছিলেন সাবলীল। বব বিশ্বাসরূপী কলকাতার শক্তিমান অভিনেতা প্রয়াত শুভেন্দু চ্যাটার্জীর ছেলে শ্বাশ্বত চ্যাটার্জী দারুণ মানিয়েছেন। অনেকদিন পর কোন বলিউডি মুভি দেখে ভাল লাগল। শোনা যায় বিদ্যাকে ভেবেই নাকি ছবির গল্প সাজিয়েছিলেন নাট্যকার। তিনি সফল, বিদ্যার ক্যারিয়ারে আরেকটি হিট জমা হলো। সমালোচকদের কাছেও যথেষ্ট প্রশংসা পেয়েছে কাহানী। বিদ্যা যে ন্য়াশনাল এওয়ার্ড পাওয়ার দিকে এগিয়ে গেলেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সম্প্রতি ফুজি ফিল্ম এওয়ার্ড জিতেছে কাহানী। আইএমডিবিতে রেটিং পেয়েছে আট দশমিক দুই, বলিউড হাঙ্গামার রেটিং চার, টাইমস অব ইন্ডিয়ার রেটিং সাড়ে চার, রোটেন টম্যাটোর দর্শক জরিপে একানব্বই শতাংশ রেটিং পেয়েছে কাহানী।


বিদ্যা বালানও ছবির প্রচারণায় তার বিদ্যা বাগচী ক্যারেক্টারকে বেছে নিয়েছিলেন। তিনি বিভিন্ন শপিং মলে, সিনেমা হলে, রেস্তোরায় বিদ্যা বাগচী সেজে প্রচারণা চালিয়েছেন। বিদ্যা যে শতভাগ সফল বলা যায়।

সুজয় ঘোষ তো পরিকল্পনা আঁটছেন বিদ্যা বাগচীকে নিয়ে তিনি সিরিজ করবেন, সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদা তার অনুপ্রেরণা। সাউথ ইন্ডিয়ায় ছবিটির রিমেক হচ্ছে, আগামী বছর জানুয়ারিতে মুক্তি পেতে পারে। আর কাহানী-২'র স্ক্রিপ্টের কাজ এগিয়ে চলেছে, আগামী বছরই মুক্তি পেতে পারে কাহানী-২।

তো আর দেরী কেন, দেখতে বসে যান বিদ্যা বালানের “কাহানী”।

Like us on Facebook