Ads 468x60px

শনিবার, ২২ এপ্রিল, ২০১৭

ক্যাননের প্রিন্টার নিয়ে উবুন্টুতে আর নয় ভাবনা

আমার একটা লেজার প্রিন্টার আছে, ক্যাননের। ডুপ্লেক্স প্রিন্ট করার জন্য ওটার জুড়ি মেলা ভার। ওটা নিয়ে কিছু সমস্যাও আছে, তার অন্যতম হলো লিনাক্সে ওটাকে ঠিকঠাক চালানো। আমি লিনাক্স ভিত্তিক ডিস্ট্রো ব্যবহার করে থাকি সাধারনত। যেমন, উবুন্টু, কুবুন্টু, ওপেনসুয্যে ইত্যাদি। নেটে ঘুরতে ঘুরতে চোখে পড়লো একটা স্ক্রীপ্টের, রাশিয়ান উবুন্টু হেল্প ফোরামে একজন পোস্ট করেছেন। কিভাবে কি করা লাগবে তা জানতে নিচের পদ্ধতি মেনে চললেই হবে।

১। শুরুতেই স্ক্রীপ্টটি নামিয়ে নিন।
২। টার্মিনাল খুলে নিচের কমান্ডগুলো পর্যায়ক্রমে দিয়ে যান। ধরে নিচ্ছি আপনি Downloads ফোল্ডারে ফাইলটি নামিয়েছেন। শুরুতে ডাউনলোড ফোল্ডারে গিয়ে দ্বিতীয় কমান্ডটি দিতে হবে। ও হ্যাঁ, ডাউনলোডস ফোল্ডারে যাওয়ার জন্য প্রথম কমান্ড।
cd Downloads 
chmod + x canon_lbp_setup.sh
sh canon_lbp_setup.sh 
৩। রাশিয়ান ভাষায় কিছু কমান্ড আসবে, শুরুতে 1 চেপে এন্টার; তারপর প্রিন্টারের মডেলের সাথে মিলিয়ে নাম্বার (যেমন Canon LBP3300 এর জন্য 15) এবং এরপর আবার 1 (যদি ইউএসবি পোর্টে প্রিন্টার যুক্ত থাকে তাহলে। ল্যানে থাকলে ২) চাপতে হবে টার্মিনালে এক্সিকিউশানের সময়। একান্তই না বুঝতে পারলে গুগল ট্রান্সলেটরের ব্যবহার করতে পারেন।
৪। ব্যস আপনার প্রিন্টার প্রস্তুত। এবার লগ-আউট বা রিস্টার্ট দিয়ে দেখুন না প্রিন্ট হয় কিনা।
এই পদ্ধতি ব্যবহার করে আমি উবুন্টু ও কুবুন্টুতে প্রিন্টারটি ব্যবহার করতে পারছি। ক্যানন প্রিন্টারের জন্য এটাই এখন অব্দি সেরা সমাধান বলে আমার মনে হয়েছে।

রেফারেন্স: http://help.ubuntu.ru/wiki/canon_capt


বৃহস্পতিবার, ২৮ জুলাই, ২০১৬

উবুন্টুতে গ্নু অকটেভ ইনস্টলেশন

আমি অনেকদিন ধরে ম্যাটল্যাবের মুক্ত বিকল্প খুঁজছিলাম। শতভাগ বিকল্প না হলেও দারুণ একটি বিকল্প হলো  গ্নু-অকটেভ। এটিতে ম্যাটল্যাবের প্রায় সকল কমান্ড কাজ করে। এটি বেশ হালকা টুল, ম্যাটল্যাবের মতো ভারী নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকৌশলী পড়ানোর কাজে টুল হিসাবে এটি বেশ কার্যকর। এটি খুব সহজে উবুন্টুতে ইনস্টল করা যায়। এজন্য টার্মিনালে কটি কমান্ড দিলেই হবে।

sudo apt install octave
sudo apt install octave-control
sudo apt install octave-communications


কমান্ডগুলো আলাদা না লিখে একবারেও লিখতে পারেন,

sudo apt install octave octave-control octave-communications


গ্রাফিক্যালিও ইনস্টল করা যায়। এজন্য উবুন্টুর সফটওয়্যারে গিয়ে octave লিখে সার্চ দিলে টুলের লিঙ্ক চলে আসবে। তারপর ওতে ক্লিক করে ইনস্টল করা যাবে।

বৃহস্পতিবার, ৭ জুলাই, ২০১৬

কুবুন্টুতে বাংলা সমস্যার সমাধান

কুবুন্টু ইনস্টল করার পর ওয়েবসাইটের বাংলা লেখা ঠিকমতো আসেনা। যুক্তাক্ষর ভেঙে যায়। এটি খুব সহজেই দূর করা যায়। এজন্য আমাদের ল্যাঙ্গুয়েজ সাপোর্ট ঠিক করতে হবে। টার্মিনাল খুলে নিচের কমান্ড এক্সিকিউট করুন।

sudo apt-get install $(check-language-support)

ভাষা বিষয়ক সমস্যা এর মাধ্যমে সমাধান হয়ে যাবে।

বাংলা ওয়েবসাইটে লেখা সুন্দর দেখার জন্য একুশে বা অমিক্রণল্যাবের কিছু ফন্ট ইনস্টল করে নিন। তারপর ফায়ারফক্স ছবির মতো করে সেট করুন।

ক্রোমিয়াম বা গুগল ক্রোমেও ফন্ট সেট করতে পারেন ছবির মতো করে।


 আশা করি এরপর বাংলা নিয়ে আর কোন সমস্যা হবেনা।

শুক্রবার, ১ জুলাই, ২০১৬

উবুন্টুতে ইনস্টল করুন লেটেক (LaTeX)


রিসার্চ পেপার কিংবা থিসিস লেখার জন্য আমরা সাধারনত লিব্রা অফিস বা মাইক্রোসফট অফিস ব্যবহার করে থাকি। আরেকভাবেও কাজটা করা যায়, সেটা হলো লেটেক (LaTeX) দিয়ে। এটি একটি মার্কআপ ভাষা। লেটেক দিয়ে লেখা ডকুমেন্টের আউটপুট চমৎকার হয়। আজকে দেখব কি করে লেটেক ইনস্টল করা যায় উবুন্টু বা কুবুন্টুতে। সবার আগে নিশ্চিত করুন আপনার ইন্টারনেট সংযোগ, ওটা যদি নিরবিচ্ছিন্ন সেবা দিতে পারে তাহলে চোখ বুঁজে কাজে নেমে পড়ুন। বলে রাখা ভাল, আমি উবুন্টু জেনিয়াল জেরাস (16.04) ব্যবহার করে ধাপগুলো সম্পন্ন করেছি।

ধাপ – ১

শুরুতেই টার্মিনাল বা কনসোল খুলুন। টার্মিনাল খোলার শর্টকার্ট হলো ctrl+alt+t ; ইউনিটি ড্যাশ হতেও টার্মিনাল খুলতে পারবেন। কুবুন্টুতে অ্যাপ্লিকেশন মেনুর System → Terminal (Konsole) এ ক্লিক করতে হবে।

ধাপ – ২

Tex Live একটি টেক ডিস্ট্রিবিউশন যা আপনার সিস্টেমকে লেটেকের উপযোগী করবে। টেকলাইভ ইনস্টল করার জন্য টার্মিনালে নিচের কোডটি লিখুন। পাসওয়ার্ড দিয়ে এন্টার চাপতে ভুলবেন না কিন্তু।
sudo apt install texlive-full
ডাউনলোড হয়ে ইনস্টল হতে সময় লাগবে, এই ফাঁকে অন্য কাজ সেরে ফেলতে পারেন।

ধাপ – ৩

এবার আমাদের একটি এডিটর ইনস্টল করা লাগবে। আমি সাধারনত Texmaker ব্যবহার করি, এটি চমৎকার একটি এডিটর। টার্মিনালে নিচের কমান্ড দিয়ে এন্টার চাপুন। এটি ইনস্টল হতে সময় কম লাগবে।
sudo apt install texmaker
কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। আপনার সিস্টেম লেটেকের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে।

ধাপ – ৪

আপনি এবার নিশ্চিন্তে লেখা শুরু করতে পারেন। সব ঠিকঠাক আছে কিনা যাচাই করার জন্য টেকমেকার খুলে নতুন ফাইল খুলুন (File → New)। নতুন ফাইলে নিচের কোডটি লিখুন।
/documentclass{article}
/begin{document}
This is my first LaTeX document!
/end{document}
লেখা শেষে ফাইলটিকে tex ফাইল হিসেবে সেভ করুন। এরপর ফাইলটিকে পিডিএফে কম্পাইল করুন (Tools → PDFLaTeX)। ব্যস, হয়ে গেল আপনার প্রথম লেটেক ডকুমেন্ট।
টিউটোরিয়ালটি এই আর্টিকেল হতে অনুপ্রানিত হয়ে লেখা হয়েছে।

সোমবার, ২০ জুন, ২০১৬

উবুন্টু বা কুবুন্টুতে ফুজিৎসু ল্যাপটপের টাচপ্যাড সমস্যার সমাধান


আমার ফুজিৎসু ল্যাপটপে উবুন্টু বা কুবুন্টু ইনস্টল করার পর টাচপ্যাড কাজ করলেও তার কার্যপ্রণালী পরিবর্তন করা যায় না। এর ছোট্ট একটি সমাধান আছে।


এজন্য গ্রাব এডিট করা লাগবে। টার্মিনাল বা কনসোল খুলে নিচের লাইন লিখতে হবে শুরুতে।

sudo kate /etc/default/grub

নতুন ফাইলে নিচের লাইন খুঁজে বের করতে হবে।

GRUB_CMDLINE_LINUX_DEFAULT="quiet splash"

এটিকে পাল্টে নিচের মতো করতে হবে।

GRUB_CMDLINE_LINUX_DEFAULT="quiet splash i8042.notimeout i8042.nomux"

এবার ফাইলটি সেভ করে গ্রাব আপডেট করতে হবে।


sudo update-grub

এবার রিবুট করলেই কাজ শেষ। টাচপ্যাডের সেটিংস ইচ্ছামতো পরিবর্তন করা যাবে।

আশা করি অন্যান্য ল্যাপটপেও এর মাধ্যমে টাচপ্যাডের সমস্যার সমাধান হবে।

সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০১৫

ওপেনসুয্যেতে আর্ডুইনো ইনস্টলেশনের পদ্ধতিসমূহ


ইদানিং ঘরে বসে ইলেক্ট্রনিক্স প্রজেক্টের জন্য আর্ডুইনো জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। শিক্ষকতা পেশায় জড়িত বলে আমাকেও তা নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে হয়। এর আইডিই ক্রস প্লাটফর্মের বলে উইন্ডোজ, লিনাক্স, ম্যাক সহ সকল অপারেটিং সিস্টেমে চলে। আমি উইন্ডো‌জ এইট ও উবুন্টুয় আর্ডুইনো ইনস্টল করেছি, চালিয়েছিও। কদিন আগে ওপেনসুয্যে ইনস্টল করলাম ল্যাপটপে, ওটাতেও আর্ডুইনো ইনস্টল দেয়া দরকার ছিল। তাই ইনস্টল করলাম কোন ঝক্কি ঝামেলা ছাড়াই। আজ সেগুলো জানাতে লিখতে বসলাম।




ওপেনসুয্যেতে আর্ডুইনো আইডিই ইনস্টল করা যায় তিন পদ্ধতিতে। একটি হলো গ্রাফিক্যালি, অন্যটি কমান্ড লিখে এবং সর্বশেষ ভার্সন ব্যবহার করতে চাইলে মূল ওয়েবসাইট হতে কমপ্রেসড ফাইল নামিয়ে এক্সট্রাক্ট করে।

গ্রাফিক্যালি আর্ডুইনো ইনস্টলেশন

প্রথমেই কিকঅফ মেনুতে গিয়ে ইয়াস্ট খুলতে হবে।

Applications → System → Control Center (রুট পাসওয়ার্ড দিতে হবে)

ইয়াস্টে গিয়ে সফটওয়্যার ম্যানেজম্যান্টে আর্ডুইনো লিখে খুঁজলে কিছু তালিকা চলে আসবে। এরপর ইনস্টলের জন্য লিস্টে রাইট ক্লিক করে ইনস্টলে টিক চিহ্ন দিয়ে একসেপ্ট বাটনে ক্লিক করলেই চলবে।

আরেকটা গ্রাফিক্যাল পদ্ধতি হলো ওয়ান ক্লিক ইনস্টলেশন। ওপেনসুয্যের সফটওয়্যার (https://software.opensuse.org/package/arduino) পেজে গিয়ে আর্ডুইনো ঠিক ভার্সনটি বেছে নিয়ে আনস্টেবল প্যাকেজ দেখাতে বলুন এবং ওয়ান ক্লিক ইনস্টলেশনে ক্লিক করুন।


কমান্ড দিয়ে আর্ডুইনো ইনস্টলেশন

এজন্য কনস‌োল বা টার্মিনাল খুলতে হবে। কিকঅফ মেনু খুললে ফেভারিট অ্যাপ্লিকেশনের তালিকায় টার্মিনাল পাবেন, ওটায় ক্লিক করে টার্মিনালে প্রবেশ করুন।

টার্মিনালে গিয়ে নিচের কমান্ডগুলো দিলেও আর্ডুইনো ইনস্টল হয়ে যাবে। প্রথম কমান্ড দিয়ে রিফ্রেশ, পরের কমান্ড দিয়ে রিপোজিটরি আপডেট করা হচ্ছে, শেষ কমান্ড দিয়ে আর্ডুইনো ইনস্টল করা হচ্ছে। এরপর ইনস্টল করবেন কিনা অপশান আসবে, সেখানে y লিখে সম্মতি জানাতে হবে। সুডো দিয়ে রুট এক্সেস করা হয়, পাসওয়ার্ড দেয়া লাগবে সেক্ষেত্রে।

sudo zypper ref
sudo zypper up
sudo zypper install arduino
sudo usermod -a -G dialout,lock,uucp <user name>

এভাবে কমান্ড না দিয়ে শুরুতেই রুট এক্সেস নিশ্চিত করেও ইনস্টলেশন সম্ভব। সেক্ষেত্রে নিচের কমান্ডগুলো দিতে হবে। প্রথম কমান্ড দিলে পাসওয়ার্ড চাইবে। ওটা দিয়ে রুট একসেস নিশ্চিত করে ধাপে ধাপে রিফ্রেশ, আপডেট ও ইনস্টলেশন সম্পন্ন করুন।

~> su
# zypper ref
# zypper up
# zypper install arduino
# usermod -a -G dialout,lock,uucp <user name>

এখানেই শেষ নয়। লগ-আউট করে লগ-ইন করলে টার্মিনালে আর্ডুইনো লিখেই আর্ডুইনো আইডিই খুলতে পারবেন।

ইনস্টল না করে আর্ডুইনো ব্যবহার

এজন্য চলে যান আর্ডুইনোর মূল ওয়েবসাইটে (www.arduino.cc); ডাউনলোড করে নিন সাম্প্রতিক ভার্সনের কমপ্রেসড ফাইল। রাইট ক্লিক করে এক্সট্রাক্ট করে নিন ডাউনলোডকৃত ফাইল। নতুন যে ফোল্ডার পাবেন ওটায় আর্ডুইনো নামে একটি ফাইল দেখা যাবে। ওটায় ক্লিক করলেই চালু হয়ে যাবে আর্ডুইনো আইডিই।

যারা এত ঝামেলা পছন্দ করেন না তারা আরো সহজে কাজ সারতে পারেন। টার্মিনালে নিচের কমান্ডগুলো দিয়ে যান। আর্ডুইনো নেমে, এক্সট্রাক্ট হয়ে খুলে যাবে।

wget -c http://downloads.arduino.cc/arduino-1.6.3-linux64.tar.xz

tar -xJf arduino-1.6.3-linux64.tar.xz

cd arduino-1.6.3

sh arduino

আমি ৬৪-বিট ভার্সন নামিয়েছি বলে এই লিঙ্ক ব্যবহার করেছি। আপনার ক্ষেত্রে তা ৩২ বিট হতে পারে। চোখ বুঁজে কপি পেস্ট করার পূর্বে কি নামাচ্ছেন নিশ্চিত হয়ে নিন। দ্বিতীয় লাইন দিয়ে কমপ্রেসড ফাইল খুলছি, তারপর আরডুইনো ফোল্ডারে ঢুকে আর্ডুইনো চালানোর কমান্ড দিয়েছি। 

আজ আপাতত এটুকুই। সামনের লেখায় অন্য কোন টিপস শেয়ার করবো।

শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০১৫

আমি বাংলায় লিখতে চাই

খুব ছোটবেলায়, যখন প্রাইমারী লেভেলে পড়ি তখন গল্পের বই পড়তাম। সেবার তিন গোয়েন্দার পাশাপাশি কিশোর পত্রিকা, কিশোর তারকালোক পড়া হতো। কমিক্সেরও ভক্ত ছিলাম। পাশাপাশি ছিল হূমায়ুন আহমেদ, সত্যজিৎ রায়সহ ভারতীয় বিভিন্ন লেখকদের গল্প। সেগুলো পড়ে পড়ে লেখক হওয়ার শখ জাগে। এবং সেই শখ মিটাতাম গল্প লিখে। পাকশীর দিস্তা দিস্তা কাগজে গল্প লিখতাম। কি মজার দিন ছিল সেগুলো। কম্পিউটার ছিল না, বাংলাদেশে ডিশ কালচার সেভাবে গড়ে ওঠেনি। সেলুলারের যুগ ছিল না সেটা, সেটা ছিল ল্যান্ডফোনের যুগ।

কালের শ্রোতে একসময় কম্পিউটার এল বাসায়। অবাক হয়ে দেখলাম মোস্তফা জব্বারের ছবি ভেষে উঠছে লগ-ইন করলেই। বাংলা লিখতে হলে বিজয় শিখতে হবে। আমিও বাংলা বিজয় কী-বোর্ডে বিজয় আয়ত্ব করলাম। মনে পড়ে উচ্চ-মাধ্যমিকের পর কি যেন ওঠানোর জন্য বিজয় দিয়ে বাংলা দরখাস্ত লিখে প্রিন্ট করেছিলাম। বাংলায় প্রিন্ট করে কলেজে দরখাস্ত দিচ্ছি, ভাবতেই শিহরণ জাগছিল সেসময়।

আরো সময় গেল। ভার্সিটিতে উঠে ইন্টারনেট পেলাম। ইন্টারনেটে বাংলা লেখা যেত না। পত্রিকা পড়ার জন্য ওদের ফন্ট ইনস্টল করতে হতো। ইন্টারনেটের গতি ছিল বেজায় মন্থর। এদিকে কম্পিউটার এসে আমার লেখা-লেখির শখ চাপা দিয়ে ফেলেছে। বিজয়ও ভুলতে বসেছি।

সম্ভবত ২০০৮ বা ২০০৯ সালের দিকে প্রথম ইন্টারনেটে বাংলা লেখা শুরু করলাম। শুরুতে অভ্র পরবর্তীতে প্রভাত লেআউটে। প্রভাত আমার কাছে সহজ মনে হলো। প্রভাত সহজ লাগার কারন আমি লিনাক্সে প্রভাতে বাংলা লিখতাম। তাই উইন্ডোজে অভ্রে যখন প্রভাত লেআউট যুক্ত করা হয়েছিল বেশ আনন্দ পেয়েছিলাম।

বিজয়ে লেখা ছেড়েছি ২০০৪'র দিকে। প্রায় দশ বছর বিজয়ে লিখিনা। এখন নতুন করে শেখার ধৈর্য নেই। একই কথা খাটে এন্ড্রয়েডের বেলায়ও। মায়াবীর চেয়ে রিদ্মিক কী-বোর্ডে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি। বিজয় এখন এন্ড্রয়েডেও এসেছে। আমার কাছে কিন্তু রিদ্মিকই কাজের। আমি চাই না বাংলা ভাষায় মনের ভাব প্রকাশের জন্য কোন বাধা আসুক। আমি মোস্তফা জব্বার সাহেবকে অপমান করতে চাই না, উনার অনুষ্ঠান বিটিভিতে দেখে কম্পিউটারের প্রতি আগ্রহ পেয়েছি, এটা স্বীকার করতেই হবে। কিন্তু এখন বিজয় নিয়ে তার বাড়াবাড়ি কিছুতেই কাম্য নয়। নতুনকে মেনে নেয়ার মানসিকতার অভাব আমাদের প্রতি পদে পদে ক্ষতি করছে। তাইতো নতুন উদ্যোক্তা, নতুন আবিস্কার পাচ্ছিনা। গুগল প্লে-স্টোর থেকে রিদ্মিককে সরিয়ে দেয়াটা কাম্য নয়।

আমরা কি পারিনা ইউনিজয় বাদ দিয়ে বাকি লেআউটগুলো নিয়ে এপ বানাতে ? নবীন-প্রবীন প্রোগ্রামারদের প্রতি আহ্বান রইল নতুন কিছু করার জন্য। যা নিয়ে কেউ কপিরাইট বা পেটেন্টের হুমকি না দিতে পারে।

আমি বাংলায় লিখতে চাই, যেভাবে লেখা আমার জন্য কম কষ্টের সেভাবে। সহজে মনের কথা ছাপার অক্ষরে প্রকাশ করতে চাই, মানুষের মতামত জানতে চাই লেখা সম্পর্কে; আসুন সবাই সচেতন হই। বাংলা ভাষা নিয়ে ব্যবসায়িক মনোভাব পরিহার করে বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশকে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সহায়তা করি।

বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০১৫

লিঙ্ক৩ বাদ দেয়ার নেপথ্যে

অনেকদিন, প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর ব্যবহার করার পর লিঙ্ক৩ বাদ দিলাম। কেন বাদ দিলাম কারনগুলো শেয়ার করা জরুরী মনে হচ্ছে, তাই এই লেখার অবতারনা।

১। প্রথম কারন বকেয়া বিল। আগে বাসায় লোক এসে বিল নিতো, পরে নিজেদের গিয়ে দিয়ে আসতে বলা হলো। একসাথে কয়েক মাসের বিলও দিয়েছি। চার মাস একসাথে। কখনো মিস হয়নি,তবে দেরি হয়েছে ঠিক। যখনি ওরা ফোন দিত বিলটা দিয়ে দিন আমি যেভাবেই হোক দেয়ার ব্যবস্থা করে দিতাম। তবে গত কয়েক মাসে দুই বার আমাকে না বলে হুট করে লাইন কেটে দিয়েছে। পুরনো গ্রাহক বলে একটিবার জানানোর সৌজন্যতাও দেখায়নি তারা। ফেব্রুয়ারী মাসেও তাই হলো। আমি বললাম বিল দিয়েছি, কিন্তু দুর্ভাগ্যবসত তাদের ফেব্রুয়ারীর বিলের কপি আমার হাতে আসেনি। তাই পরিচিত একজনের সাথে আলাপ করে লাইন একটিভ করালাম।

২। কাস্টমার কেয়ারের উদাসীনতা দ্বিতীয় কারন। যেদিন ফেব্রুয়ারীর বিল দেব, মানে রবিবার, ১ মার্চ সেদিনের আগেই শনিবার দুপুর থেকে লাইন বিচ্ছিন্ন। ফ‌োন দিলাম কাস্টমার কেয়ারে। ইদানিং যেটা হয়েছে লাইন বিজি থাকে। এদিকে আমার ব্যালেন্স কমতে থাকে, কেউ ফোন ধরেনা। তারপরেও ফোন ধরলে জানালাম সমস্যার কথা। উনি দেখবেন কথা দিলেন। আমি ১ তারিখে ফেব্রুয়ারীর বিল দিলাম। মার্চেরটা দিলাম না, মন টানলো না। লাইন ঠিক হলে দিব ঠিক করলাম। তারপর রবিবার গেল, খবর নাই। সোমবার সকালে ফোন দিলাম। জানালো ঠিক করে দিবে। সোমবার গেল। এবার মঙ্গলবারে জানালাম দিনের মধ্যে লাইন ঠিক না করলে লাইন আর রাখবোনা। তাদের ফোনে পাইনি, তাই মেইল দিলাম জিপির লাইন দিয়ে। ওরা আড়াইটা পর্যন্ত সময় নিল, তারপরও খবর নাই। সন্ধ্যায় আবার মেইল দিয়ে জানিয়ে দিলাম আপনাদের প্যাকেজ আর ব্যবহার করবো না।

পরদিন সকালে একজন ফোন দিল কেন আমি এমন মেইল দিয়েছি। উনাকে খুলে বললাম। উনি ঠিক করে দিবেন বললেও রাজি হলাম না। আর কত ধৈর্য ধরা যায়। পরদিন মানে গতকাল ফোন দিয়ে বললো বুধবার রাতে উনারা উনাদের জিনিসপত্র নিয়ে যাবেন। আমি বাসাতেই ছিলাম সেজন্য। উনাদের এবারও খবর নাই। আজকেও তারা আসেন নাই।

৩। ইউটিউব ভিডিও নির্বিঘ্নে দেখা যায় না। দেড় এমবিপিএস নিয়েও যদি ঠিকমতো ইউটিউব বা খেলা দেখতে না পারি তাহলে এত টাকা দিয়ে সংযোগ রাখার দরকার কি ? দেশীয় টরেন্টের স্পিডও যেমন হওয়ার কথা তেমন না। তাই এবার কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলাম।

কাস্টমার কেয়ার যদি সাপোর্ট টিম শনিবারেই বা রবিবারে পাঠাতো তাহলে হয়তো লিঙ্ক৩ বাদ দিতাম না। উনারা নিজেরাই একজন গ্রাহক হারানোর জন্য দায়ী।

তবে দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছর লিঙ্ক৩ দারুণ সার্ভিস দিয়েছে বলতেই হয়। শুরুর দিকে সাপোর্ট ভাল ছিল। ফোন দিলে কয়েক ঘন্টা বড়জোর ১ দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান হতো। এখন তো ফোন দিয়েই পাইনা। উত্তরার মতো আপগ্রেডেশান যদি এদিকেও হতো তাহলে আরো রাগ হতো। তার আগেই বিদায় জানিয়ে দিলাম পছন্দের আইএসপিকে।

আশা করি ভবিষ্যতে এমন অভিজ্ঞতা কারো হবেনা।

বুধবার, ৪ মার্চ, ২০১৫

ক্রিকেট, বিশ্বকাপ ও সমসাময়িক ঘটনা



বেশ বড়সড় বিরতি দিয়ে লিখছি। আসলে ফেসবুকে বাংলায় স্ট্যাটাস দেয়ার ফলে, ব্লগে যা নিয়ে লিখতাম তাই ফেসবুকে লিখে ফেলে ব্লগটাকে শূন্য করে রাখা হয়েছে এতদিন। লেখকস্বত্তাকে বাঁচানোর জন্য ফেসবুক যেমন উপকারি, ব্লগও তেমনি। 

কি লিখবো তা নিয়ে ভাবছিলাম কিছুদিন। রাজনীতি, সমাজনীতি, ধর্মনীতি কত নীতি চোখের সামনে। তবে ওসবে না গিয়ে যেটায় আমি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি সেই খেলা মানে ক্রিকট নিয়েই লিখছি। এটা নিয়ে লেখার কারন বিশ্বকাপ। এবং তার কিছুদিন পূর্ব হতে রসালো মশলাযুক্ত খবরাখবরের প্রচার।

ছোটবেলায় ক্রিকেট খেলা দেখতাম, তখন ছিল মার্ক টেইলর, ব্রায়ান লারা, ডেমিয়েন মার্টিন, সাঈদ আনোয়ার, ওয়াসিম আকরাম, প্রাসাদ, শ্রীনাথ প্রমুখের যুগ। শারজায় কদিন পর পর ওয়ানডে টুর্নামেন্ট হতো। এশিয়া কাপও হতো। টিভিতে (পড়ুন বিটিভিতে) পাকিস্তান যে টুর্নামেন্টে থাকতো সেটি প্রচার করতো। আমরাও অবাক বিস্ময়ে দেখতাম আফ্রিদীর ব্যাটিং তান্ডব। প্রায়শই সে মিস হিট করে মিড অন বা মিড উইকেট জোনে ক্যাচ দিয়ে ফিরতো। কপাল ভালো হলে ডিপ মিড উইকেট বা ডিপ মিড অফে মিস হিট হওয়া বল ল্যান্ড করতো। তা দেখেই আমাদের দর্শককূলের হৃদয় ভরে যেত। আবার ওয়াসিম আকরাম বা ওয়াকার ইউনুসের বল দেখে মনে হইতো একেকটা কামানের গোলা, বিশেষ করে ইন্ডিয়ার সাথে যখন তাদের গোলা শচীনের তিন দন্ডের একটি বা দুটোকেই সমূলে উপড়ে ফেলতো তখন অনেকেই বুনো আনন্দে কেঁপে উঠতো। আমার অবশ্য তখন কোন অনুভূতি হতো না। আমি খুঁজতাম আমাদের আনিসুর রহমান আনিস বা সাইফুল ইসলামকে। তাদের বল কেন শচীনের দন্ডকে ক্ষত-বিক্ষত করে না? আমাদের আকরাম খান বা বুলবুলের ব্যাট কেন তরবারি হয়ে ওয়াসিম আকরাম বা অনিল কুম্বলের বলকে কচুকাটা করে না। যাই হোক সেবার মিনি বিশ্বকাপ হলো বাংলাদেশে। স্থান পাকিস্তান আমলে ক্রিকেটের জন্য বানানো স্টেডিয়ামঢাকা স্টেডিয়াম বা পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম। আহা এর সাথে ক্রিকেটটা যুক্ত হলে মনে বহু প্রশান্তি পেতাম। বঙ্গবন্ধু ক্রিকেট স্টেডিয়াম। তা হয়নি, হয়তো হবেও না।

যা বলছিলাম, মিনি বিশ্বকাপ হয়েছিল সেবার। মানবজমিন তখন শিশু বয়সে। ট্যাবলয়েড কি শিখতে শুরু করেছে বাংলাদেশিরা। আমাদের বাসায় চার-পাঁচটা পত্রিকার একটি ছিল মানবজমিন। মানবজমিনে মমতা কূলকার্নির শোর জন্য নরম-গরম ছবি যেমন প্রকাশ হতো তেমনি আফ্রিদীর ব্যাটিংরতো ছবিও দেখা যেত। যার যেটার অভাব সে সেটা দেখে আহা উহু করতো। সেই মানবজমিনে নিয়মিত মিনি বিশ্বকাপ নিয়ে প্রতিবেদন থাকতো। চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা। কালিনান, ক্লুজনার, ডোনাল্ড আর হ্যান্সি ক্রোনিয়ের দল। ওরা খুব খুশি। বিশ্বকাপ জিততে পারেনি, মিনি বিশ্বকাপ তো পেরেছে। আমিও মনে হয় ওদের জন্য দুর্বল তখন হতে। সেসময় আফসোস ছিল বাংলাদেশে খেলা, কিন্তু বাংলাদেশ কেন নাই? চাপা দু:খ নিয়ে খেলা দেখতাম, পরদিন মানবজমিনে রিপোর্ট পড়তাম। 

সেসময় কোন এক ললনা আফ্রিদীর পৌরষত্ব দেখে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসে। সেসময়ের বাংলাদেশে ওটা অবাক করার মতো ঘটনা বৈকি। ললনাটি কে ছিল, কি তার বংশ পরিচয় জানা হয়নি। বাংলাদেশের কোন তরুণ, যুবক, বৃদ্ধ নয়; তার দরকার পাকিস্তানি পাঠান আফ্রিদী। সে নিয়ে সেসময় পত্রিকায় লেখালেখি হয়েছিল। ললনার শখ আফ্রিদী পূর্ণ করেনি। সে এখন পাঁচ সন্তানের পিতা, বৌ অবশ্যই সাচ্চা পাকিস্তানি। ওয়াসিম আকরাম, তার আগে ইমরান খানও নাকি বাংলাদেশি ললনাদের উইশ লিস্টে ছিল। আমি বুঝিনা চোখ সবসময় ঐসব লোকদের দিকে যায় কেন? ভারতের কপিল দেব, সুনিল গাভাস্কার, তরুণ সৌরভ বা রাহুল দ্রাবিড়ও তো ছিল। বাংলাদেশের বুলবুল বা নান্নুও কম কিসে। সুজনের কথাই বা ভুলি কি করে। তার গতির কাছে সবাই ফেল। তবুও রং দেখে মেয়েরা ওদের প্রতি আকর্ষিত হয়ে লাজ শরম ভুলে হাজার হাজার চোখের সামনে প্ল্যাকার্ড তুলে ধরে, আফ্রিদী ম্যারি মি।

প্রাককথন মনে হয় বড় হয়ে গেল। আসল যায়গায় এসে পড়েছি। এত বছর পরে, এক যুগেরও বেশি সময় পর বাংলাদেশের কোন খেলোয়াড়কে নিয়ে সেই জাতীয় খবর শুনলাম, দেখলাম বলা যুক্তিযুক্ত। ইঙ্গিত হচ্ছিল রুবেলের দিকে। বাংলাদেশের রুবেল। পেসার রুবেল। আমাদের হ্যাট্রিকম্যান রুবেল, কিউইদের চুনকামে দূর্দান্ত ভূমিকা রাখা রুবেল। রুবেল ভাল ছেলে, দেখে তাই মনে হয়। যদিও বল করার সময় লাইন, লেন্থ যখন অপ্রত্যাশিত রকমের বাড়াবাড়ি পর্যায়ের হয় তখন সব ভুলে তাকে বকা আমিও দেই। বকা তাকেই দেয়া যায় যাকে ভালোবাসা হয়। বাংলাদেশ দলকে মানুষ বকা দেয় কেন? কারন তাদের ভালোবাসে বলে। তাদের সন্তানের মতো দেখে অনেক দর্শক। আমি অবশ্য ছোটভাই, বড় ভাই হিসাবেই দেখতে পছন্দ করি। দলের অনেকেই আমার প্রকৌশল ডিগ্রী নেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। তাই টানটা অন্যরকম। তো সেই বাংলাদেশ দলে হিরু টাইপ প্লেয়ার বলতে একজনকেই চিনতাম। সে আবার বল করার সময় উহু আহা শব্দ উচ্চারণ করে ব্যাটসম্যানকে উত্তেজিত করতো। ফলাফল ব্যাটসম্যানের ব্যাটে চুমো খেয়ে বল স্লিপে, কিন্তু একি! তার উহু আহা শব্দে ফিল্ডারও কিঞ্চিত উত্তেজিত এবং তাই তার হাত বলটাকে ধরে রাখতে অক্ষম হয়ে মাটিতে পড়তে সহায়তা করল‌ো। 

সেই স্বঘোষিত প্লেয়ারকে বাদ দিয়ে রুবেলকে নিয়ে মেয়েরা স্বপ্নের জাল বুনে ভাবতেও পারিনি। কোথাকার কোন সুখি মেয়ের সাথে নাকি রুবেলের সম্পর্ক। ইদানিং অনেক অনলাইন পত্রিকা আছে, সেগুলো তা নিয়ে কম রসালো খবর বের করেনি। ওদের অডিও স্ক্যান্ডাল বেরিয়ে গেল। প্রযুক্তি জগতে আনাগোনার সুবাদে জানি এটা ফেইকও হতে পারে, তবুও বাংলাদেশি মন তো! বাস্তবতা বা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি বাদ দিয়ে যা দেখছি বা শুনছি তাই বিশ্বাস করতে ইচ্ছা করে। ওসব নিয়ে কোর্ট কাচারি হলো। রুবেলকে নিয়ে নানা মুনি নানা মত দিল। কেউ মেয়ের জন্য কেউবা ছেলের চরিত্রর জন্য ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিল। লাইক, কমেন্টে নানা মতবাদ পাওয়া গেল। সব বাধা বিপত্তি পেরিয়ে রুবেল গেল ক্যাঙ্গারুর দেশে। বিশ্বকাপ খেলতে। ওখানেও শান্তি নাই। রুবেলের এক সতীর্থকে রহস্যজনক কারনে দেশে পাঠিয়ে দেয়া হলো। আবার এক সাংবাদিক ইভ টিজিং এর মামলায় জড়িয়ে বিদেশ বিভূঁইয়ে ধৃত হলো। তার পাশে যুক্ত হলো এক ললনার প্ল্যাকার্ড। সে রুবেলকে বিয়ে করতে চায়। প্রভার দুষ্টুমি ভরা ভিডিও দেখেও যেমন এক সাহসী যুবক তাকে ঘরে তুলেছে তেমনি সাহসীনি মেয়েটাও রুবেলকে হ্যাপি করতে চায়। যদি রুবেল তিনবার কবুল বলে তাকে সে অধিকার দেয়। অনেকে অনেক ইঙ্গিত করলেও বিষয়টা আশা জাগানিয়া। মেয়েরা এখন সচেতন, আফ্রিদী নয় তাদের জহুরির চোখ এখন বাংলাদেশের টাইগারদের দিকে। তাদের দেখার জন্য বিশিষ্ট দন্ত চিকিৎসক (রমনী অবশ্যই) ৮৪ ইঞ্চি টিভি কিনে সেটি ভিডিও করে ফেসবুকে বা ইউটিউবে আপলোড করেছিলেন। বেচারির কপাল খারাপ, ডেলিভারির সময় সে টিভি দেহত্যাগ করেছে। পরে তিনি আবার টিভি কিনেছিলেন কিনা বা নতুন টিভি পেয়েছেন কিনা জানা যায়নি। পরবর্তীতে তিনি স্বল্প বসনে ছবি তুলে তা দেখানোর কাজে মন দিয়েছেন।

রুবেলের কান্ডে সব থেমে গেলে চলতো, তা আর কই হলো। নামায পড়তে গিয়ে দর্শকের গাল হজম করতে হলো মাশরাফিকে। কেমন সে দর্শক, যে টাইগার দলপতিকে গাল দেয়। বাস্তবতা বলে দলপতিকে না দিয়ে জনৈক ওপেনারকে গালাগাল করলে বেচারা দর্শককে এত হেনস্থা হতে হয়না। তখন ফেবুর সাপোর্টারকূল হ্যাপি থাকতো। মিডিয়াও তাকে হিরো বানিয়ে দিত।

ঘটনার প্যাঁচ আরো লেগেছে যখন একটা ছবি দেখা গেল ফেসবুকে। আমাদের ম্যানেজার, মানে সুজনকে ক্যাসিনোতে দেখা গেছে। উনি কি করতে চেয়েছিলেন আর কি করতে পেরেছেন তা না জানা গেলেও ছবি দেখে বুঝা যায় উনি ক্যাসিনোতে গিয়েছেন। জানা যায় রাত তখন প্রায় দেড়টা। একগাদা ক্যাচ ফেলে, শিশুসুলভ ব্যাটিং করে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে বাংলাদেশ দল তখন বিপর্যস্ত। ম্যানেজার সাহেব তখন ক্যাসিনোতে জীবন উপভোগ করতে ব্যস্ত। এর ফল কি হবে তা এখনো জানা যায়নি। ম্যানেজারের কপালে যাই থাকুক বাংলাদেশ দল যেন থাকে জয়ের আবেশে, এটাই চাওয়া।

বাংলাদেশ দল এখন শীর্ষ আটে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। বাঘা বাঘা সব দল, অস্ট্রেলিয়া নিউজিল্যান্ড শ্রীলঙ্কা ইংল্যান্ড এদের যেকোন একজনকে হঠিয়ে বাংলাদেশ পরের রাউন্ডে যাবার কঠিন কিন্তু সম্ভবপর স্বপ্ন দেখছে। আমরা স্বপ্ন দেখবো, অবশ্যই দেখব। তবে স্বপ্ন দেখার মধ্যে যেন সীমাবদ্ধ না থাকে সেটাও মনে রাখা জরুরী। স্বপ্নটাকে বাস্তবে রূপ দেয়ার কঠিন কাজটা ওদেরকেই করতে হবে, ব্যর্থ হলেও সমর্থন দিয়ে যাওয়া দর্শকদের কাজ। ক্রিকেটারদের দায়িত্ব যেমন ভালো খেলা, আমাদের দায়িত্বও তেমন ভালো সমর্থন দেয়া। এখন ফেসবুকের একটা স্ট্যাটাস অনেককিছু বহন করে, ব্যবহারকারীর রুচিবোধ, মানসিক পরিপক্কতার আঁচ পাওয়া যায় ফেসবুক স্ট্যাটাসের মধ্যে। তাই গালিগালাজময় একটা স্ট্যাটাস যেমন মন খারাপ করে দিতে পারে খেলোয়াড়দের, উৎসাহমূলক স্ট্যাটাসে দ্বিগুণ উদ্দীপনা পেতে পারে ওরা।

আহা, অনেক বকবক করা হয়ে গেল। প্রায় তিন পৃষ্ঠা হয়ে গেল। অনেকদিন পর লিখছিতো, তাই পাঠককূলের সুবিধা-অসুবিধার কথা ভুলে গিয়েছিলাম। একদিন বাদে বাংলাদেশের খেলা স্কটল্যান্ডের সাথে। মনে পড়ছে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের কথা। ন‌বীন বাংলাদেশ ওদের হারিয়েছিল প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও। এবারও তাই হবে, এবং রানরেটটাও বাড়িয়ে নিবে বাংলাদেশ এই আশা করছি। বাংলাদেশের জয় আরেকটা লেখা দেয়ার সুযোগ করে দিবে, এই ছোট্ট ইচ্ছাটার কথা জানিয়ে দিলাম।

বুধবার, ১ জানুয়ারি, ২০১৪

নতুন ভাবনা, নতুন আশা

আরেকটি বছর শুরু হয়ে গেল। ২০১৩ বিদায় নিয়েছে, এসেছে ২০১৪। কারো হয়তো ব্যর্থতায় মোড়া সময় কেটেছে, কারো বা সাফল্যময়। বিদায়ী বছর যেভাবেই যাক না কেন নতুন বছরে নতুন কিছু আশা করতেই পারি।

এবছর লেখালেখির পরিমান বাড়ানোর ইচ্ছা আছে, গতবছর মাত্র ১১টি লেখা পোস্ট করেছি। যা নিতান্তই কম। এবার সেজন্য পয়লা দিন হতেই লেগে পড়লাম।

সিদ্ধান্ত নিয়েছি টিউট‌োরিয়ালের পাশাপাশি গল্প লেখার চেষ্টা করবো। ইচ্ছা করে, লেখা শুরুও করি। কিন্তু কয়েক মিনিটে তা মিটে যায়। উঁহু, এভাবে চললে হবে না। সিরিয়াস হতে হবে।

ক্রিকেটে দারুণ সাফল্য আশা করছি এবার। এশিয়া কাপ, টি২০ বিশ্বকাপ সামনে। বাংলাদেশ ভালো করবে বলে বিশ্বাস।

রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করবো না, তবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চাই। অহিংস রাজনীতি দেখার স্বপ্ন এবারও দেখবো।

টিভি সিরিজ-মুভি নিয়ে আগ্রহ আগের চেয়ে বেড়েছে, বিশেষ করে টিভি সিরিজ। লাগাম টানতে হবে।

পড়ালেখায় মনোনিবেশ করা লাগবে, উচ্চশিক্ষাটা না নিলে হচ্ছে না।

আপাতত এই, সামনের দিনে নিয়মিত ব্লগিং করবো ইনশাল্লাহ।

বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৩

ওপেনসুয্যে ১৩.১ ইনস্টলের পর প্রয়োজনীয় ৩টি কাজ

একটা সময়ে নতুন লিনাক্স ডিস্ট্রো এলে আইএসও নামিয়ে ইনস্টল দিয়ে ফেলতাম। বাগ ভাল্লুক আছে কি নেই ওসব ভাবতাম না। এখন দিন বদলেছে। সহজে আইএসও নামানো হয় না। এক মাস, দুই মাস পর নামিয়ে দেখি কেমন হলো। দীর্ঘদিন ডেস্কটপ-ল্যাপটপের জায়গা দখলে রাখা ওপেনসুয্যের জন্যও তাই হলো। নতুন ভার্সন বোতলকে নামালাম সময় নিয়ে। ইনস্টল করলাম উবুন্টু মুছে। ডেস্কটপে ইনস্টল করেছি। ইনস্টল করলেই তো আর হয় না। লিস্ট ধরে কিছু যোজন-বিয়োজন করা লাগে। কি কি করেছি তার তালিকা দেয়াটা গুরুত্বপূর্ণ মনে করছি। আমার দেখাদেখি আরেকজন ওপেনসুয্যো ইউসার বাড়লে মন্দ কি। 

ক) আপডেট ও রিপোজিটরি যুক্ত করা
ইনস্টল করার পর পয়লা কাজ হলো আপডেট করা। সেজন্য টার্মিনালে ছোট্ট কটা লাইন লিখলেই চলে।
# zypper addrepo -f http://ftp.gwdg.de/pub/linux/packman/suse/13.1/ packman && zypper addrepo -f http://opensuse-guide.org/repo/13.1/ dvd && zypper ref && zypper update

উপরের কমান্ডে আপডেটের পাশাপাশি কিছু রিপোজিটরি যুক্ত করা হয়েছে। ভালো কথা এসব করার আগে su লিখে পাসওয়ার্ড দিয়ে রুটে যেতে হবে। তারপর কমান্ডগুলো দিলে সিস্টেম আপডেট হবে এবং প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ইনস্টলেশানের জন্য প্রস্তুত হবে। নেট স্পিড আশানুরূপ না হলে সময় লাগবে। আবার আপডেট না করেও উপায় নেই, তাই মেনে নিন।

খ) মাল্টিমিডিয়ার জন্য প্রস্তুত করা
এবার মাল্টিমিডিয়ার জন্য তৈরী হোন। যথারীতি কনসোল বা টার্মিনাল খুলে নিচের কমান্ডগুলো কপি-পেস্ট করে দিন।
# zypper install libxine2-codecs k3b-codecs ffmpeg lame gstreamer-0_10-plugins-bad gstreamer-0_10-plugins-ugly gstreamer-0_10-plugins-ugly-orig-addon gstreamer-0_10-plugins-ffmpeg libdvdcss2 && zypper install flash-player && zypper install icedtea-web && zypper install xine-browser-plugin

গ) অন্যান্য সফটওয়্যার ইনস্টলেশন
আশা করা যায় যেসব সফটওয়্যার দেয়া আছে তা দিয়েই আপনার চলে যাবে যদি ডিভিডি হতে ইনস্টল করে থাকেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে কিছু সফটওয়্যার ইনস্টল করেছি। সেগুলো আপনারা করতে পারেন।
১। ভিএলসি মিডিয়া প্লেয়ার: ভিডিও দেখার জন্য এই সফটওয়্যারের জুড়ি মেলা ভার। আমি এটা দিয়েই সব ভিডিও দেখি।
২। ডেডবিফ অডিও প্লেয়ার: সিম্পল অডিও প্লেয়ার। গান শুনতে হলে এটাই আমার পছন্দ।
৩। শাটার: স্ক্রীনশট নেয়ার জন্য শাটারের বিকল্প দেখি না। তবে কেস্ন্যাপশট দিয়েও কাজ চলবে।
৪। ক্রোমিয়াম ব্রাউজার: গুগল ক্রোম নয়, ক্রোমিয়াম ইনস্টল করতে পছন্দ করি। ফায়ারফক্সের পাশাপাশি ওটাও মাঝে মাঝে চালানো হয়।
৫। ডেলুগ্য: টরেন্ট ফাইল নামানোর জন্য কেটরেন্ট দারুন, তবে আমি ডেলুগ্যে প্রেফার করি, মিউটরেন্টের ভাব দেখা যায়।
৬। স্কাইপ: ভিডিও কলের জন্য স্কাইপ দূর্দান্ত এপ্লিকেশান। এটাও ইনস্টল করে নেয়া যায়।
৭। ড্রপবক্স: ড্রপবক্স ছাড়া আমি অচল। ইনস্টল করে নিতে হয় চোখ বুঁজে।
৮। গিম্প ও ইঙ্কস্পেস: ছবি এডিটের জন্য বা ভেক্টর ইমেজ ড্র করার জন্য এই দুটো সফটওয়্যার লাগবেই।

উপরোল্লেখিত কাজগুলো অনুসরন করলে ওপেনসুয্যে নতুন ভ্রমনের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে। আমি ধরে নিচ্ছি প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ইনস্টল করার দক্ষতা আপনার আছে। তাই পুরো প্রণালী বর্ণনা করলাম না। ইয়াস্টে গিয়ে সফটওয়্যার নাম দিয়ে খুঁজলে পেয়ে যাবেন। তবে টার্মিনালেও ইনস্টল করা যায়। ওটা নাহয় অন্য একদিন বলবো।

বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৩

ওপেনসুয্যেতে ফন্ট ঝকঝকে করার উপায়


ওপেনসুয্যে একটি জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম। উবুন্টু, লিনাক্স মিন্ট, ফেডোরার পাশাপাশি এটাও অনেকের প্রিয় ওএসের তালিকায় রয়েছে। ওপেনসুয্যে ইনস্টল করার পর ফন্ট নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। যদিও নতুন এডিশানে বাই ডিফল্ট বাংলা সাপোর্ট রয়েছে তবুও কেমন যেন সাদামাটা দেখায় ফন্টগুলোকে। ফন্ট সুন্দর দেখানোর জন্য কিছু টুইক করতে হবে। আসুন দেখা যাক কিভাবে ফন্টের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা যায়।

কিকঅফ এপ্লিকেশন লঞ্চারের সার্চ বারে Fonts লিখে সার্চ দিন। প্রথমেই যে রেজাল্ট আসবে (Fonts) তাতে ক্লিক করলে নতুন উইন্ডো খুলবে।

এন্টি এলিয়াসিং এনাবল করুন এবং কনফিগারে ক্লিক করুন।

ইউএসবি সাবপিক্সেল রেন্ডারিং এ টিক চিহ্ন দিন এবং হিন্টিং স্টাইল ফুল বা মিডিয়াম দিন। তারপর ওকে চেপে এপ্লাই বাটনে ক্লিক করুন। কিছু এপ্লিকেশানে রিস্টার্ট ছাড়া কাজ করবেনা সেটা জানানো হবে। ওকে চেপে উইন্ডোগুলো বন্ধ করুন। অত:পর লগ-আউট করে লগ-ইন করলেই পার্থক্য বুঝতে পারবেন।

মঙ্গলবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৩

প্রলয়: বাংলা মুভি রিভিউ


বাংলা ছবি তেমন দেখা হয় না। ফাঁকতালে যা দেখি তা হলো কলকাতার ছবি। নাহয় ভারতবর্ষের ছবি দেখিনা। হিন্দী ছবি দেখা বাদ দিয়েছি মেলা আগে। ফেসবুক, ফোরামে প্রলয় ছবিটা নিয়ে নাম শুনছিলাম খুব। তাই নামিয়ে নিলাম দেখব‌ো বলে।
 ছবির শুরুতেই দেখা যায় এক অসহায় পিতা তার ধর্ষিতা মেয়ের প্রতি অন্যায়ের বিচারের জন্য থানায় থানায় ঘুরছেন। কেউই তার কেস নিচ্ছে না, সমাজপতিরা দায়ী বলে। এতে অন্যায়কারীদের সাহস বেড়ে যায়। তারা কুকর্ম করে চলে, এমনকি মায়েরাও বাদ যায় না তাদের পাশবিকতার ছোবল হতে। এমনি সময়ে আবির্ভাব সৎ স্কুল শিক্ষক বরুণ বিশ্বাসের। আর দশজন তরুণের মতো সেও স্বপ্ন দেখে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার, সমাজের নষ্ট ঘুনে ধরা রাজনীতির ভয়াল থাবামুক্ত থাকার। বরুণ মার দিতে চায় অন্যভাবে। কলম দিয়ে, শিক্ষা দিয়ে, নীতিবাক্য দিয়ে মারতে চায় বরুণ সেই নষ্টদের। জাগরন মঞ্চের আবির্ভাব ঘটে ধর্ষনের প্রতিবাদে। বরুণরা প্রায়ই যা চায় তা পায় না। সমাজে এমনই দেখা যায়। সিনেমায়ও তাই দেখলাম। বরুণের ভালো বন্ধু, অন্যায়ের প্রতিবাদে সহযাত্রী মেয়েটাও শেষ পর্যন্ত বাঁচতে পারে না পশুর লালসার কাছে। সেই বরুণ ক্ষেপে ওঠে, এবার সে জেলে ঢুকিয়ে ছাড়ে ধর্ষককে। আইনের মারপ্যাচ, ক্ষমতার জোরে বেশিদিন জেলে থাকতে হয়নি ধর্ষকদের। জেলে থেকেই ওরা সরিয়ে দেয় বরুণকে, দূর করে দেয় তাদের নীতিবান প্রতিপক্ষকে।

সিনেমা শেষ? উঁহু, এত সহজ নয়। মাত্র তো ইন্টারমিশন, গল্পের শেষাংশ যে এখনো বলা হয়নি। বরুণের পথ ধরে আবির্ভাব ঘটে কলকাতার এক স্কুলের হেডমাস্টার বিনোদ বাবুর। তিনি বুঝতে পারেন না কেন বরুণের মতো ছেলেকে অকালে মরতে হলো, তারই ছাত্রের হাতে। তিনি কি পারবেন সমাজপতিদের টুঁটি চেপে ধরতে? জানতে হলে দেখুন প্রলয়। খারাপ লাগবেনা, আমি ওপার বাংলার সিনেমা দেখে আক্ষেপে পুড়ি মাঝে মাঝে। আমাদের দেশে কেন গল্পের প্রতি নজর দেয়া হয় না? আমরাও তাহলে দূর্দান্ত কিছু মুভি দেখতাম।

ছবিতে বরুণের চরিত্রে পরমব্রত দারুণ করেছে। পরান বন্দোপাধ্যায়, মিমি চক্রবর্তী, শ্বাশ্বত চ্যাটার্জি কিংবা ধর্ষক চরিত্রে রুদ্রনীল সবাই যার যার চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছে পরম দক্ষতায়। রাজ চক্রবর্তী একাধারে পরিচালক, স্ক্রীপ্ট রাইটার। বোঝেনা সে বোঝেনা, কানামাছির মতো মুভিও এই রাজের কাজ।

সিনেমায় শুধু নাচ-গান দিলে হয় না, গল্পটাও যুৎসই হতে হয়। দাদারা তা বারবার করছে, আমরা ডিজিটালের নামে প্রহসন না করে ভালো গল্প নিয়ে কাজ করলে মানুষ হলে যাবে। একবার নয়, একাধিকবার যাবে। গল্প ভালো হলে প্রযুক্তি কোন ব্যাপারই না।

সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৩

লিনাক্স মিন্ট সিনামনে থিম-ওয়ালপেপার-আইকন পাল্টানোর উপায়


লিনাক্স মিন্ট একটি জনপ্রিয় ডিস্ট্রো। যারা লিনাক্স নাম শুনে আঁতকে ওঠেন কমান্ডে সব কাজ করতে হবে বলে তাদের জন্য তো বটেই, এমনকি যারা অভিজ্ঞ লিনাক্স ব্যবহারকারী তারাও লিনাক্স মিন্ট পছন্দের তালিকায় রাখবেন। কিছুদিন পূর্বে লিনাক্স মিন্ট ১৬ বা পেত্রা ভার্সনটি রিলিজ করেছে। এই ভার্সনটিতে ডিই বা ডেস্কটপ এনভায়রনমেন্ট হিসাবে মেট ও সিনামন দেয়া হয়েছে। কেডিই ও এক্সএফসিই রিলিজ হবে শীঘ্রই। আমি নিজে চালাচ্ছি সিনামন ৬৪ বিট এডিশন। আজ ছোট্ট একটি টিপস নিয়ে আলোচনা করবো। সেটি হলো লিনাক্স মিন্টে কি করে থিম, ওয়ালপেপার ও আইকন পাল্টানো যায়। কথা না বাড়িয়ে কাজে নেমে পড়া যাক।

ডেস্কটপে মাউসের রাইট বাটন ক্লিক করলে একটা মেনু খুলবে। সেখানে ওয়ালপেপার পাল্টানোর অপশান পাবেন। ওখানে ক্লিক করলে নতুন উইন্ডো খুলে যাবে। 

সেখান থেকে বেছে নিতে পারবেন পছন্দের ওয়ালপেপার। কিংবা যুক্ত করতে পারেন অন্য কোন ফোল্ডার বা ছবি।


থিম পাল্টানোর জন্য প্যানেলে সেটিংস অপশানে যান। সেটিংসে ক্লিক করলে হিডেন মেনু খুলবে। এবার থিমে ক্লিক করলে আরেকটি উইন্ডো পাবেন। 

সেই উইন্ডো থেকে বেছে নিতে পারেন পছন্দের থিম। যুতসই থিম না পেলে অনলাইনে খোঁজ করতে পারেন। সেই সুযোগও করে দিয়েছে মিন্টের ডেভুরা।
 

আইকন পাল্টানোর জন্য আদার সেটিংসে যেতে হবে। আইকনস লেখা ফিল্ডের ড্রপ ডাউন মেনু থেকে ঠিক করে নিন কি আইকন সেট করতে চাচ্ছেন।

সব ঠিকঠাক করে দেখুন কেমন হলো আপনার কাস্টোমাইজড ডেস্কটপ।

লিনাক্স মিন্ট পেত্রা এখন আমার ল্যাপটপে


লিনাক্স নিয়ে হুজুগ হঠাৎ করে শুরু হয়। যখন আগ্রহ কমে যায় তখন উইন্ডোজে পড়ে থাকি। তবে ল্যাপটপ-ডেস্কটপে একটা পার্টিশানে লিনাক্স থাকবেই। কিছুদিন ওপেনসুয্যে চালিয়েছিলাম। ইনস্টল করা ছিল ল্যাপটপে। এখন লিনাক্স মিন্ট পেত্রা / পেট্রা ইনস্টল করা আছে উইন্ডোজ এইটের পাশাপাশি। মিন্ট নিয়ে একটা নাক সিঁটকানো ভাব কাজ করতো, হয়তো বেশি সহজ বলে। সেজন্য এলিট সেজে থাকার জন্য ওপেনসুয্যে চালাতাম। তবে সিনামন আসার পর মিন্টের প্রতি আগ্রহ জেগেছে। অন্তর্জালের ভাই-বেরাদাররাও বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তার করেছে। সেই প্রভাবের জের ধরে ল্যাপটপের একটা পার্টিশানে লিনাক্স মিন্ট জায়গা করে নিল। সিনামন ডিই, ৬৪ বিট। ডেস্কটপে চলছে উবুন্টু, ওপেনসুয্যে আপাতত কোন ড্রাইভে নেই।
লিনাক্স মিন্ট ইনস্টল করার পর ক্রাশ করেনি। স্লো হয়নি, একবার খানিক হয়েছিল জেডাউনলোডার চালানোর সময়। এছাড়া কোন সমস্যায় পড়িনি। কোডেক সহ নামানোয় ভিডিও, অডিও চালাতে বাধা পাইনি। ডাউনলোডের জন্য ইউগেট-আরিয়া২ কম্বিনেশানের সাথে জেডাউনলোডার ইনস্টল করে নিয়েছি। পিজিন ভালো কাজ করছে হালকা চ্যাটের জন্য। ইন্টারনেট ব্রাউজের জন্য ফায়ারফক্সই সেরা, আমি ক্রোমিয়াম ইনস্টল করে নিয়েছি। ভিএলসি ইনস্টল হয়েছে ফ্রেশ ইনস্টলেশনের সময়। শাটার ইনস্টল করেছি স্ক্রীনশট নেয়ার জন্য। টরেন্ট নামানোর জন্য ট্রান্সমিশন আছে, তবে খুব সন্তুষ্ট নই তার পারফরম্যান্সে। ডেলুগ্যে ইনস্টল করবো হয়তোবা।

সাজুগুজুর জন্য থিম ইনস্টল করে নিয়েছি কিছু, আইকনও ইনস্টল করেছি। তবুও মিন্ট এক্স আইকন প্যাকটাকেই ভাল লাগে। ফাএনযা মিন্টের সাথে মানায় না, সবুজ ফাএনযা পেলে ইনস্টল দিতাম। পাচ্ছিনা। ভাল লেগেছে ওয়ালপেপারের নতুন কালেকশন।

ব্যাটারি ব্যাকাপ কেমন পাই সেটা একটা প্রশ্ন। উইন্ডোজে যেমন পাই তেমন কখনোই লিনাক্সে পাইনি। এখনো সেভাবে টেস্ট করার সুযোগ হয়ে ওঠেনি। তখন আপডেটেড পোস্ট দিব। তার আগে এটাই বলতে পারি লিনাক্স মিন্ট পেত্রা নিয়ে সন্তুষ্ট। এখন আর এত ঝামেলা করতে ইচ্ছা করে না। কেডিই রিসোর্স হাংরি ডিস্ট্রো, ব্যাকাপ তেমন পেতাম না। সেদিক থেকে সিনামন বেটার হবে বলে বিশ্বাস। ওপেনসুয্যে বাদ দেয়ার এটাও একটা কারন। কেউ যদি দ্বিধায় ভোগেন কোন ডিস্ট্রো ইনস্টল দিবেন, আমি বলবো লিনাক্স মিন্ট ইনস্টল করতে পারেন নির্দ্বিধায়, ঠকবেন না।

আরেকটা কথা, ডুয়াল বুটে উইন্ডোজ ৮ আছে। ওটাকে খুঁজে পেতে পেত্রার কষ্ট হয়নি, ওপেনসুয্যে অন্য ড্রাইভে ইনস্টল করা উইন্ডোজ ৮ পেতই না। নতুন ওপেনসুয্যে কেমন করেছে বলতে পারছিনা, তাই আপাতত ভোট দিলাম লিনাক্স মিন্টে।

Like us on Facebook