Ads 468x60px

বৃহস্পতিবার, ৯ আগস্ট, ২০১২

জিসম টু: মুভি রিভিউ (১৮+)


রমযান মাসে দিনের বেলায় ইদানিংকালের মুভি দেখা রিস্কী। রোযার ওজন কমে যেতে পারে। মুভিগুলোয় যেসব আইটেম দেখায়, মানে আইটেম গানে আইটেম বম্বদের নর্তন-কুঁদন। কখনো শিলার জওয়ানি, কখনো মু্ন্নির বদনাম হওয়ার কেচ্ছা, কখনো বা চিকনী চামেলীর ড্যান্স। এসব দেখে ঠিক থাকা দায়। ইদানিং নতুন ধারা শুরু হলো বলে, এতদিন যাদের চিনতাম পর্ণস্টার নামে তারা এখন বলিউডস্টার। যাদের ভিডিওর জায়গা হয় হার্ডডিস্কের চিপায় কোন ফোল্ডারে (অপ্রাপ্ত বয়স্কদের হিডেন ফোল্ডার) তাদের মুভি এখন বড় পর্দায়। আগ্রহ জাগা স্বাভাবিক। আমারো জেগেছে। তাই তো রিলিজ হওয়ার কয়েকদিনের মাথায় ডাউনলোড করে নিলাম বিখ্যাত ভারতীয় বংশদ্ভূত অ্যাডাল্ট ফিল্ম স্টার সানী লিওনের প্রথম সকল দর্শকের (!) জন্য উপযোগী ছবি “জিসম ২”; নামিয়ে দেখতেও বসে গেলাম। সানী লিওনে বলে কথা, যাকে দেখে এসেছি বার্থডে স্যুটে তাকে এখন দেখব ক্যাজুয়াল পোষাকে। ভাবতেই কেমন লাগছে। তাছাড়া জিসম নামের মধ্যে কাম-কাম ভাব। নামেও জিসম কামেও জিসম সানী। উঁহু, শুধু সানী বললে আবার ওমর সানী ভেবে বসবেন না যেন। ক্রিকেটপ্রেমীরা তাকে ইলিয়াস সানী মনে করলে লেখক নির্দোষ। সাধারন আম-জনতার কাছে সানী লিওনে অপরিচিত হবার সম্ভাবনা বেশি। অবশ্য বদলে দেবার অঙ্গিকারাবদ্ধ কিছু মিডিয়ার কল্যানে মিস সানী কিঞ্চিৎ হলেও পরিচিতা বটে। সে যাই হোক, মুভির ট্রেলারগুলো দেখেও আন্দাজ করা যায় মুভিতে মিস সানীর উষ্ণতা। বকর বকর বেশী হয়ে যাচ্ছে, আসল কাজ শুরু করি। রিভিউ অব জিসম-টু।


জিসম টু – সানী লিওনে 

ছবির শুরুতেই সাগর পাড়ে সানী লিওনের নগ্নপিঠের দৃশ্য ভেসে ওঠে। ব্যাকগ্রাউন্ডে শোনা যায় তার আত্মকথন। 

তার নাম ইজনা, সে একজন পর্ণস্টার। (ভাবার বিষয় জিসম টু’র গল্প কি আগেই তৈরী করা নাকি সানীকে চুক্তিবদ্ধ করার পরে প্লট বানানো হয়েছে। নাহয় এভাবে সরাসরি পর্ণস্টার শব্দটা ভারতীয় দর্শকের সাথে ঠিক যায় না।) ইজনা তার কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত। 

তার সাথে কোন এক নাইটক্লাবে ছয় মাস পূর্বে এক সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টের সাথে পরিচয় হয়, যে তাকে ভোগ করে এবং পরদিন নতুন মিশনের অফার দেয়। (একরাতেই এতদূর!) সানীকে নিয়ে সেই এজেন্ট উড়ে যায় শ্রীলঙ্কা, যেখানে সানীকে দায়িত্ব দেয়া হয়। তার দায়িত্ব পেশাদার খুনি কবির উইলসনকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে আইনের হাতে তুলে দেয়া। কবির ছিল ইজনার প্রাক্তন প্রেমিক। ইজনাকে ছয় বছরের পুরনো প্রেম জোড়া দিয়ে কবিরকে ধোঁকা দিতে হবে। হাতিয়ে নিতে হবে তার ডাটা। ইজনা শুরুতে রাজি না হলেও একরাতের নাগর আয়ান তাকে বুঝিয়ে রাজি করায়। 

পরের কিছু ঘটনা স্রেফ যৌন সুড়সুড়ি দেয়া ছাড়া তেমন কিছু নয়। কয়েকটা গানের দৃশ্যে সানী লিওনের সঙ্গে কবিররূপী রনদীপ হুদার অন্তরঙ্গতা সদ্য গোঁফ ওঠা কিশোরের হৃদয়ে তরঙ্গ সৃষ্টিতে সক্ষম হলেও আমার কাছে তেমন ভাল লাগেনি। মনে হয়েছে বাড়াবাড়ি। একদিকে কবিরের সাথে প্রেমের নাটক, অন্যদিকে আয়ানের ইজনার প্রতি দূর্বলতা চিরায়ত বাংলা ছবি থুক্কু হিন্দী ছবির ত্রিভুজ প্রেমের গল্পকে মনে করিয়ে দেয়। ভালবাসার টানা-পোড়েনের মাঝে জ্বলতে থাকা ইজনা একসময় খুন করে বসে কবিরকে। কবির মৃত্যুর পূর্বে তাকে সতর্ক করে দেয় তথাকথিত সিক্রেট সার্ভিসের সম্বন্ধে। ইজনা হয়তো তাকে বুঝতে পারেনি, কিংবা বিশ্বাস করেনি। কিন্তু শেষ অঙ্কে কবিরের কথা ফলে যায়। আয়ানকে নির্দেশ দেয়া হয় ডাটাগুলো নিয়ে ইজনাকে হত্যার। আয়ান তার বসকে এমন কাজ করতে অস্বীকৃতি জানায়। তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে আয়ানের হাতে খুন হয় তার বস। আয়ান সব খুলে বলে ইজনাকে। ইজনা ভুল বুঝতে পারে। সে চলে যেতে উদ্যত হয়। আয়ান তাকে বাধা দেয়, ইজনাকে গুলিও করে বসে আয়ান। 

সবুজ ঘাসের উপর লুটিয়ে পড়ে ইজনা, আয়ান এগিয়ে এলে তার বুকে কয়েকটি বুলেটের স্পর্শে শার্ট রাঙিয়ে দেয় ইজনা। শেষ হয় একজন পর্ণস্টারের গল্প।

ছবির গল্পে তেমন নতুনত্ব নেই, কিন্তু নতুনত্ব ছবির শিল্পী নির্বাচনে। আর রগরগে গানের চিত্রায়নে। সানীকে প্রায়ই দেখা যায় সংক্ষিপ্ত পোষাক পরে আছে। যে মেয়ে উদোম থাকতে পছন্দ করে সে যে কম পোষাক পরবে এতে বৈচিত্র নেই। দিনো মারিয়ার খরচও কমেছে এতে। প্রথম জিসমের নায়িকা বিপাশা বসুর এককালের প্রেমিক দিনো মোরিয়া প্রযোজক হিসেবে চমক দেখিয়েছে সানীকে নিয়ে। পর্ণস্টারকে নায়িকা বানিয়ে মুভি করার মত মানসিকতা সব প্রযোজকের থাকার কথা নয়। দিনো এদিক দিয়ে একটা ট্রেন্ড হয়তো শুরু করে দিল। ভবিষ্যতে ভারতীয় সিনেমায় প্রিয়া অঞ্জলী রাই, সাশা গ্রের পদার্পনও ঘটে যেতে পারে। সে পরের কথা, আপাতত জিসম ২ নিয়ে কথা বলি।
সানী লিওনের ঠোঁটে হিন্দী মানায়নি। কারণ সে নিজে হিন্দী পারে না। অন্য একজনের কণ্ঠে লিপসিং করেছে শুধু। প্রথম ছবি হিসেবে সানীর ভুলগুলো ক্ষমা করা যায়। আর রনদীপ হুদা ছিল সাবলিল। আয়ানের চরিত্র করা অরুণোদয় সিংকে অভিনয় সময় দিতে হবে, সে বোধহয় শরীর বানানোয় মন‌োনিবেশ বেশি করেছিল। বাকী চরিত্রগুলো গল্পের প্রয়োজনে এসেছে, সেগুলো অবলোকন না করলেও চলে। ছবিটিকে দুইভাবে দেখা যায়। এক, সানী লিওনের জন্য। দুই, জিসমের সিকুয়েলের জন্য। প্রথম ক্ষেত্রে সানীর শারীরিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হবেন অনেকেই। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে আপনাকে হতাশ হতে হবে। প্রথম জিসমে বঙ্গ ললনা বিপাশা বসু শ্যামবর্ণ নিয়েও যে জিসম দেখিয়েছিল সানী তা পারেনি। হয়তো পয়লা ছবি বলে, কিংবা বিপাশা বসুর আবেদন দর্শকের কাছে বেশী বলে। প্রথম জিসমের গানগুলো ছিল সুপার হিট, এই জিসমের গান হিট না হলেও গানের মিউজিক ভিডিওগুলো অনেকের জন্য ঠান্ডায় গরম হবার প্রভাবক।
সবশেষে বলতে পারি জিসম-২ যতোটা আলোচিত ছিল সানী লিওনের অন্তর্ভূক্তিতে, ততোটাই সমালোচিত হবে দূর্বল চিত্রনাট্যের জন্য। খাপছাড়া গল্প, অপ্রয়োজনীয় সুড়সুড়ি মার্কা দৃশ্য, আনকোরা সহ-নায়ক আর নায়িকা ছবিটাকে ফ্লপের খাতায় নিয়ে গেছে এরই মধ্যে। আবার পূজা ভাট (ছবির পরিচালক) জিসম-৩’র ঘোষণা দিয়ে বসেছেন। সেখানে আসছে নাটালিয়া কাউর। সে হচ্ছে গিয়ে আইটেম গার্ল, নায়িকারূপে আনতে যাচ্ছে ভাট পরিবার। এখন দেখার বিষয় হবে তা কেমন হয়। ওসব নাহয় পরে ভাবা যাবে, আপাতত সানীর বলিউড ভবিষ্যত নিয়ে মন্তব্য করা যায়। টিকে থাকতে হলে এই রমণীকে হিন্দী আয়ত্ত্ব করতে হবে, যতোই সে শরীরে ভাঁজ, ভাঁজে থাকা যৌবন দেখাক না কেন। আর যদি সুস্থ বিনোদন চান, তাহলে জিসম টু দেখার চিন্তা বাদ দিন। মনের কোণে যদি বদ খেয়াল চাপে তাহলে দেখে নিতে পারেন সানী লিওনের জিসম (২)। এসব কিছুই না হলে রিভিউ দেখেই কেটে পড়ুন, সানী লিওনের অন্য ভিডিও দেখে এরচেয়েও মজা পাবেন।

পরিশেষে সানী লিওনের একটা ভিডিও দিলাম। আবার কথা হবে, ব্লগে কিংবা ফোরামে। তদ্দিন ভাল থাকবেন।

শনিবার, ২৮ জুলাই, ২০১২

লেখক হুমায়ূন আহমেদ বনাম ব্যক্তি হুমায়ূন


আমি অত্যন্ত সাধারন এক পাঠক, অনিয়মিত পাঠক। নতুন বইয়ের গন্ধ শুঁকে পড়া হয় বছরে একবার। বইমেলার সময়। বাকি সময় পরলে ল্যাপটপের মনিটরে চোখ রেখে (কিন্ডল ফায়ার কেনার শখ হয়নি কখনো)। সেরকম একজন পাঠক হিসেবে হুমায়ূন আহমেদের মত জনপ্রিয় সাহিত্যিকের সমালোচনা আমার সাজে না। আমি করতেও চাই না। যা চাই তা হলো নিজের কিছু কথা বলতে।

হুমায়ূন আহমেদ বাংলাদেশের সাহিত্যে স্মরণীয় নাম হয়ে থাকবেন তার সৃষ্টিশীল সাহিত্যের জন্য। তার গল্পে ফুটে উঠতো সাধারন পরিবারের কথা, বেকার প্রেমিকের কথা, পরিস্থিতির চাপে পড়া যুবকের কথা। কিংবা সদ্য তরুণী হওয়া মেয়ের কথা। তার ভাষা ছিল ঝরঝরে। এত সহজ ভাষা যা পড়ে মনে হতো, আরে এমন লেখা আমিও লিখতে পারি। সেরকম সাহিত্যিক ছিলেন তিনি। সেই মানুষটা চলচ্চিত্র পরিচালনায় এসে নিজের সাহিত্যকর্মের বারোটা বাজাতে শুরু করলেন। তার জীবনের শেষ দশ বছরে অধিকাংশ উপন্যাস পরিণত হয়েছে অপন্যাসে। কথাটা অনেকে স্বীকার করবেন। তবুও কিছু ভাল লেখা এই সময়ে পাওয়া গেছে। যেমন – মধ্যাহ্ন, মাতাল হাওয়া, জোছনা ও জননীর গল্প ইত্যাদি। তবে তার ভাল লেখাগুলো সত্তর থেকে নব্বই এই তিন দশকের মধ্যে লেখা। মিসির আলী, হিমু, শুভ্র এই তিনটি চরিত্রের জন্ম এই সময়ে। মিসির আলী চরিত্রের জন্ম তিনি যখন আমেরিকায় পিএইচডি করছেন তখন। দেবী, নিশিথীনি নামক দুটো উপন্যাসের মাধ্যমে নতুন এক চরিত্রের জন্ম হয় বাংলা সাহিত্যে। মিসির আলী। পরবর্তীতে হিমুর উত্থান ঘটে ময়ূরাক্ষী উপন্যাসে। সুন্দর, সুদর্শন শুভ্রের দেখা পাওয়া যায় নব্বইয়ের শুরুতে। হুমায়ূনের নাটক লেখার দক্ষতায় ততোদিনে বোকা বাক্সের দর্শক দেখে ফেলেছে এই সব দিনরাত্রি, বহুব্রীহি, অয়োময়, কোথাও কেউ নেই, নক্ষত্রের রাত, আজ রবিবারের মতো নাটক। ঈদের অনুষ্ঠানও তার নাটক ছাড়া জমতো না।
 
হুমায়ূন আহমেদ তার পরিবার নিয়ে সুখী ছিলেন। অন্তত বাইরে থেকে তাই মনে হতো। কিন্তু তার সংসারেও যে আগুন জ্বলছিল তা কে জানতো। তিন মেয়ে, এক ছেলে আর মায়াবতী স্ত্রী নিয়ে সংসার তার। নব্বই দশকের শেষের দিকে তার মেঝো মেয়ের বান্ধবী কিশোরী শাওনের সাথে তিনি জড়িয়ে পড়েন অনৈতিক সম্পর্কে। নূহাশপল্লী নামক বাগানবাড়ীতে প্রায় চার বছর লিভ টুগেদার করেন শাওনের সাথে। তখনও তার প্রথম স্ত্রীর সাথে ছাড়াছাড়ি হয়নি। মিডিয়ায় সব প্রকাশ হয়ে পড়ায়, শাওনের পরিবারের চাপে পড়ে ৩০ বছরের সংসার একটা স্বাক্ষরে তছনছ করে দিলেন হুমায়ূন। সেই শুরু। তার লেখা নাটক, গল্প, উপন্যাস হয়ে পড়তে লাগলো রসহীন, স্বস্তা। আমি নিজেই তার নাটকের দর্শক ছিলাম, কিন্তু শেষের দিকে আগের সেই মজা পাচ্ছিলাম না। গল্পগুলোও কেন যেন জমাট বাঁধাতে পারেননি হুমায়ূন আহমেদ। হয়তো নৈতিক স্খলনের সাথে সাথে তার লেখক স্বত্তার অপমৃত্যু ঘটেছিল। সাথে ছিল প্রকাশকদের চাপ, ঈদের নাটক, ঈদ সংখ্যার গল্প-উপন্যাস, বইমেলায় বেস্ট সেলার হওয়ার আকাঙ্খা। এত চাপের পাশে ছিল (হয়তো) পারিবারিক চাপ। যে চাপ তাকে বইতে হয়েছে জীবনের শেষ দশকে। সবার সমালোচনায় বিদ্ধ হতে হতে ক্যান্সার নামক মরণব্যাধীতে আক্রান্ত হলেন হুমায়ূন। জীবনও শেষ হলো তার এই রোগের চিকিৎসাকালীন সময়ে।


আমি তার সমালোচনা করতে চাই না। এসব তার জীবনে ঘটে যাওয়া নানান ঘটনার কিছু মাত্র। মানুষটার মৃত্যু হয়েছে। তিনি কোন সমালোচনার জবাব দিতে পারবেন না। অনেকের জীবনে অন্ধকার দিক থাকে, আবার শাদা-আলোকিত দিকও থাকে। হুমায়ূন আহমেদের উজ্জ্বল অধ্যায় তার সাহিত্যকর্মের প্রথম তিরিশ বছর। যখন তার পাশে ছিলেন প্রথম স্ত্রী গুলতেকিন খান (আহমেদ)। আমরা তার সেই কাজগুলোর জন্য তাকে সম্মান জানাই, কি দরকার তার জীবনের কলুষিত অধ্যায়গুলো ঘাঁটার? এসব কাদা বেশি ঘাঁটালে যে শ্রদ্ধাটুকু তাকে করছি সেটুকোও যে তিনি হারিয়ে বসতে পারেন। সে খেয়াল কি আছে তার “ক্রেজি” ভক্তদের ?

সোমবার, ২৩ জুলাই, ২০১২

কিছু স্মৃতি এবং হুমায়ূন আহমেদ


আজকের লেখাটা আরো কয়দিন আগে লেখা উচিৎ ছিল। হয়ে ওঠেনি। জীবিকার তাগিদে করা চাকরি, সময় বের করতে না পারা, নানারকম অজুহাত দেয়া যায়। আজ একদিন ছুটি পেলাম। লেখার সুযোগ। এটা অনেকটা স্মৃতিকথা জাতীয় প্রবন্ধ হবে। আমার ছেলেবেলায় লেখালেখির শুরু, বর্তমানে যা ব্লগে রূপ নিয়েছে তার ইতিকথা বলতে যাচ্ছি।
হুমায়ূন আহমেদ, বাংলাদেশে এরকম জনপ্রিয় লেখক আমি দেখিনি। নিন্দুকেরা বলেন তার লেখা একঘেঁয়ে। বাজারী লেখা, ঐতিহাসিক কোন মূল্য এসব লেখার থাকবে না। কথাটা আমি ঠিক তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিচ্ছি না। আবার স্বীকারও করছি না। মধ্যবর্তী পথ অবলম্বন করাই বুদ্ধিমানের কাজ। আমি কি বুদ্ধিমান ? নাহ, নিজেকে নিয়ে সে অহঙ্কার নেই।
ছেলেবেলায় বাবা বই কিনে দিত। ইন্ডিয়ান লেখকদের ভূতের গল্প প্রাধান্য পেত। পাশাপাশি ছিল কিশোর পত্রিকা, কিশোর তারকালোক ইত্যাদি। সেবার তিন গোয়েন্দাও ছিল আমার পাঠ্য বইয়ের তালিকায়। স্কুলের টেক্সটবুক বাবা পড়িয়ে দিত, এছাড়া সেগুলোর কাছেও যেতাম না। বাবা নিজের জন্য কিনতো হুমায়ূন আহমেদের বই। শক্ত মলাটের সেই বই আমিও পড়ে ফেলতে শুরু করি। ওমা, এ যে অন্য অনুভূতি। প্রথম হুমায়ূন আহমেদের কি বই পড়েছিলাম আজ আর মনে পড়ে না। সেই ১৯৯৩ সালের কথা। টিভিতে দেখা অয়োময় ধারাবাহিকের সুবাদে হুমায়ূন আহমেদ তখন আমার জন্য অচেনা কেউ নয়। এরপর সে সময় কোথাও কেউ নেই ধারাবাহিক দেখে এই লেখকের প্রতি ভাললাগা বেড়ে যায়। আর ছিল তার প্রাঞ্জল ভাষায় রচিত উপন্যাস। হিমু, শুভ্র, রূপা এরা যেন আমাদের আশে-পাশের মানুষ। ওদের অস্তিত্ব টের পেতে শুরু করলাম। স্কুলের জন্য কেনা ছোট খাতায় লেখা শুরু করলাম। আমার লেখা সে গল্প (বা উপন্যাস) আবর্তিত হয়েছিল হায়দার নামক এক চরিত্রকে দিয়ে। টগর, ফুলি আরো কি কি যেন চরিত্র ছিল। ঠিক যেমন হুমায়ূন আহমেদ লিখতেন। বাবা-মা বেশ গর্ববোধ করেছিল ছেলের এ প্রতিভায় (!)। হিমু পড়ে লেখা শুরু করি অদ্ভূতুড়ে চরিত্রের ভিতু। যে চরিত্র অনেকটা হিমুর মতো। পাগলাটে, ক্ষ্যাপা। আম্মুর ডায়েরির পাতায় লিখতে থাকি শিশু মনের ভাবনাগুলো। সেই শুরু সেই শেষ। পড়ালেখার চাপে, কম্পিউটার-স্যাটেলাইটের আগমনে দূরে সরে যেতে থাকি লেখালেখির ভূবন হতে। বইয়ের ভূবনও বলা চলে। মাঝে মাঝে পড়তাম তিন গোয়েন্দা, তাও আবার জৌলুশ হারিয়ে ফেলতে শুরু করে। ধীরে ধীরে কমে যেতে লাগলো আগ্রহ। কম্পিউটার গেমসে সময় কাটতে লাগলো।
ইন্টার দিয়ে কিছু সময় পেলাম। সে সময় শুরু হলো নতুন করে হুমায়ূন আহমেদের বই পড়া। কয়েকটি বই পড়ে নিলাম। মনে ধরলো কুটু মিয়া বইটি। ভার্সিটির শুরুতেও পড়া চলতে লাগলো। বিশেষ করে মধ্যাহ্ন বইটা পড়ে খুব ভাল লাগলো। হুমায়ূন আহমেদের অসামান্য সৃষ্টি। সময়কে যেভাবে ধরে রাখার প্রয়াস, এমন লেখা তেমন দেখিনি। হয়তো আছে, না পড়তে পারা আমার ব্যর্থতা। মধ্যাহ্নের দ্বিতীয় খন্ডেও দেখলাম মুগ্ধতা। এরপরে আর তার লেখা তেমন পড়া হয়নি, বা যেগুলো পড়েছি সেগুলো দাগ কাটেনি মনে।
আজ হঠাৎ এসব লেখার কারণ সে মানুষটি নিজে। হুমায়ূন আহমেদ, যিনি নয় মাস কোলন ক্যান্সারের সাথে লড়াই করে হার মেনেছেন এক অজানা ভাইরাসের কাছে। ২০১১ সালে তার ক্যান্সার হয়, ২০১২ সালে জীবনের পরিসমাপ্তি। মাঝের এক বছর তিলে তিলে মানতে শুরু করেছি একদিন হুমায়ূন আহমেদ চলে যাবেন। অমোঘ এই সত্য এত তাড়াতাড়ি চলে আসবে ভাবিনি। ভেবেছিলাম লোকটা আরো কটা দিন বাঁচবেন। লিখবেন মিসির আলী, হিমুদের নিয়ে মধ্যবিত্তের টানা-পোড়েনের গল্প। হয়নি। তার শেষ একটা লাইন লেখার ইচ্ছা ছিল মৃত্যুর মুহূর্তে। কি সেই লাইন তা আর জানা হলো না। উচ্চ মানের ঘুমের ঔষধ দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা অবস্থায় তিনি ছেড়ে গেলেন পৃথিবী। পূরণ হলো না তার শেষ শখ, লেখক হিসেবে অবসর নেয়ার সাধ।
জীবন বড়ই বিচিত্র, তার রহস্য ভেদ করা কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। 

বুধবার, ১১ জুলাই, ২০১২

ফুজিৎসু ল্যাপটপে টাচপ্যাড সমস্যার সমাধান: ওপেনসুয্যে


অবশেষে সফলতার মুখ দেখলাম। লিনাক্সে টাচপ্যাড নিয়ে ঝামেলা পাকানো ল্যাপিটাকে (Fujitsu LH531) ঠিক করলাম। উবুন্টুতে ঠিক করে কাজ চালিয়েছিলাম। এখন সফল হলাম ওপেনসুয্যেতেও। কিভাবে কি করলাম দেখে নেয়া যাক।

Yast → Boot Loader এ ক্লিক করলে নিচের মত ছবি আসবে। দেখতে হবে ওপেনসুয্যের এন্ট্রি সিলেক্ট করা আছে কিনা। এরপর Edit বাটনে ক্লিক করতে হবে।

নতুন উইন্ডো খুলবে, তার শেষে Optional Kernel Command Line Parameter এর শেষে i8042.notimeout i8042.nomux যুক্ত করতে হবে। ছবিতে সবুজ কালিতে মার্ক করা।


এরপর সেভ করে বেরিয়ে আসতে হবে। এরপর রিস্টার্ট করলে টাচপ্যাড খুঁজে পাবে ওপেনসুয্যে।

বিকল্প
প্রথমে কনসোল বা টার্মিনাল খুলে নিচের কমান্ড দিতে হবে।

kdesu kwrite /boot/grub/menu.lst

তারপর পাসওয়ার্ড দিলে একটা ফাইল খুলবে। সেখানে ওপেনসুয্যের এন্ট্রি খুঁজে নিয়ে নিচের লাইন যোগ করে দিতে হবে সবার শেষে।

i8042.notimeout i8042.nomux

এরপর সেভ করে বেরিয়ে আসতে হবে। রিস্টার্টের পর টাচপ্যাড কাজ করবে। ‌

মঙ্গলবার, ১০ জুলাই, ২০১২

ওপেনস্যুযেতে কেডিই আপগ্রেড


প্রায় দুই মাস চালানোর পর প্রিসাইজ প্যাঙ্গলিনকে টা টা জানিয়েছি। আমার একমাত্র ল্যাপিতে উইন্ডোজ সেভেনের পাশাপাশি এখন চলছে ওপেনস্যুযে ১২.১। আবার সেই কেডিই, তবে এবার স্ট্যাবল ডিস্ট্রোতে। ইনস্টল সেরে কিছু দরকারী কাজ করতে হয়, সেগুলো করে অপেক্ষায় ছিলাম কি করে কেডিই আপগ্রেড করবো। গতকাল রাতে নেটের অবস্থা ভাল ছিল না। ডাউনলোড করা সম্ভব হয়নি, ব্রাউজিং হয়েছে ঢিমেতালে। সকালে নেট স্পিড দারুণ পেলাম, কিন্তু ক্লাস নিতে হবে সোয়া দশটায়। তাই একটু কনফিউজড ছিলাম কি করবো ভেবে। নয়া কেডিইর লোভ সামলাতে না পেরে সকালেই আপডেট দিয়ে দিলাম। আমার ৭৬৮ কেবিপিএস লাইনে দারুণ গতিতে আপডেট নামতে লাগলো। প্রায় ৩৭১ মেগা ডাউনলোড করা কি সহজ কাজ? সাড়ে নয়টায়ও যখন কাজ শেষ হয়নি, তখন ল্যাপি চালু রেখেই ক্লাশের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লাম। ক্লাশ শেষ করে এসে দেখি আপডেট হয়ে গেছে। আরেকটু ঘষামাজা করে সব ঠিক করে নিলাম। এখন লেটেস্ট কেডিই চালাচ্ছি ওপেনস্যুযেতে।

যেভাবে কেডিই আপডেট করলাম:

Yast -> Software Repositories এ গিয়ে নিচের দুটো রিপো যোগ করতে হবে। সেগুলো এনাবল ও অটো রিফ্রেশেবল করে নিতে হবে।

http://download.opensuse.org/repositories/KDE:/Release:/48/openSUSE_12.1/
http://download.opensuse.org/repositories/KDE:/Extra/KDE_Release_48_openSUSE_12.1/


অত:পর konsole খুলে নিচের কমান্ড।

zypper dup

ব্যস, আপডেট শুরু হবে। সময় কত লাগবে  তা নির্ভর করবে ইন্টারনেট স্পিডের উপর। স্পিড কম হলে আপনি একটা ঘুমও দিয়ে আসতে পারেন। কিংবা প্রয়োজনীয় শপিংটাও সেরে নিতে পারেন এই ফাঁকে।

Like us on Facebook